জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রেখেছে অর্ধ শতাধিক
শিক্ষার্থী। সোমবার সকাল ৮টা থেকে ‘প্রতিবাদের নাম জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে তারা
অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চার দফা দাবিতে তারা
পূর্বঘোষিত প্রশাসনিক ভবন লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। তাদের চার
দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- শিক্ষার্থীদের নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার,
পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত কমিটি বাতিল, পুলিশি হামলার বিচার এবং নিরাপদ সড়কের দাবির
বাস্তবায়ন।
এদিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ কর্মসূচির কারণে জাবির প্রশাসনিক কার্যক্রম মূলত
স্থবির হয়ে পড়ে। ভিতরে প্রবেশ করতে না পেরে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের
উপাচার্য প্রফেসর ফারজানা ইসলাম, প্রো-ভিসি প্রফেসর আবুল হোসেন, প্রফেসর
আমির হোসেন, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর শেখ মঞ্জুরুল করিম প্রমুখ প্রশাসনিক কর্তারা।
তবে বেলা সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দর্শন বিভাগের
সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ আলোচনার জন্য উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও শিক্ষক
সমিতির নেতাদেরকে ভবনে প্রবেশে অনুরোধ করলে আন্দোলনকারীরা ভবনে প্রবেশ করতে
দেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সুস্মিতা
মরিয়ম বলেন, আমরা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সকাল থেকে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে
রেখেছি। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি আমাদের আশ্বস্ত করেছে। ইতোমধ্যে
বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম প্রশাসনিক ব্যক্তিদের নিয়ে মিটিং
বসেছেন। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে
রাখবো।
এ বিষয়ে জাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘মামলার বিষয়টি
বিচারাধীন। এটি আইনিভাবে মোকাবিলা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাবি কর্তৃপক্ষের
কিছু করণীয় নেই।’ ‘আইনিভাবে নির্দোষ প্রমাণিত হলে শিক্ষার্থীরা খালাস পাবে।
আর তারা দোষী হলে আইন তার নিজের পথে চলবে।’
প্রসঙ্গত, গত ২৬ মে ভোরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাসচাপায়
দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর করে। পরদিন ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য মহাসড়ক অবরোধ করলে পুলিশ
তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে পুলিশের হামলার বিচার দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা
বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও ও ভাংচুর করে। এ ঘটনায় ৫৬ জন শিক্ষার্থীর
বিরুদ্ধে প্রশাসন আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করে। আর এতে গ্রেফতার হয় ৪২
শিক্ষার্থী। পরে তারা জামিন পায়।
মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্যে ১৫ জুলাই অনশনে
যায় আট শিক্ষার্থী। অনশনের তৃতীয় দিনে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আমির হোসেন
সাত দিনের মধ্যে মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙ্গে। কিন্তু
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার না হওয়ায় গত রবিবার রাতে ৩ শতাধিক
শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

এ বিভাগের আরো..
নাজমুল সভাপতি ও সুমনকে সম্পাদক করে বাংলাদেশ স্টুডেন্ট কাউন্সিলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি
গরীব শিক্ষার্থীদের মিল বন্ধ থাকায় স্কুলে অনাগ্রহ
বেনাপোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিহত ৯ শিশুর স্মরণে শোক র্যালী