রাবি প্রতিনিধি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে সভাপতি অধ্যাপক ড. নাসিমা জামানের অপসারণ দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছে বিভাগের ১১ জন শিক্ষক। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রোববার সকাল ৯টা থেকে বিভাগের সামনে তারা অবস্থান নেন।
তবে শিক্ষকদের কর্মসূচি শুরুর আগে বিভাগীয় সভাপতি নিজ দফতরে প্রবেশ করায় শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচিতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। নিয়মিত শিক্ষকের মধ্যে একমাত্র সভাপতির অনুসারী সহকারী অধ্যাপক রুখসানা পারভীনকে বিভাগে দেখা যায় নি।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের অধ্যাপক এসএম এক্রাম উল্লাহ জানান, ‘বিভাগের সভাপতি নাসিমা জামানের প্রত্যক্ষ মদদে সহকারী অধ্যাপক রুখসানা পারভীন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে যে ধারাবাহিক কটুক্তি করে আসছিলেন, তার প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করে আন্দোলন করায় তাদের বিরুদ্ধে সভাপতি ও ওই শিক্ষিকা উদ্ভট সব অভিযোগ তুলছেন। যাতে শিক্ষকদের সঙ্গে সঙ্গে বিভাগের ভাবমর্যাদাও ব্যাপকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। এতে যে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে তা সমাধানে বিভাগের সভাপতিকে অপসারণের বিকল্প নেই।’
জানতে চাইলে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. নাসিমা জামান বলেন, ‘বিভাগের সান্ধ্য কোর্সের শিক্ষার্থীদের নকলের মহা-উৎসব করার সুযোগ দিচ্ছেন ওই শিক্ষকরা। বিভাগের বিভিন্ন সময়ে অর্থ কেলেঙ্কারিতেও তারা যুক্ত। নিজেদের বিরুদ্ধে জমে থাকা বিভিন্ন অপকর্ম থেকে বাঁচতে একজোট হয়ে আমার সহকর্মীরা এখন অশিক্ষকসুলভ আচরণ করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও আমরা বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে পারছি না। শিক্ষার্থীদের তারা হুমকি দিচ্ছেন সভপতির পক্ষ না নিতে। আমি তাদেরকে আহ্বান জানাবো- আপনারা শিক্ষকসুলভ আচরণ করুন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখুন, তাদেরকে যে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। কর্মসূচি ছেড়ে ক্লাসে যোগ দিন, শিক্ষার্থীদের দিকে নজর দেন।’
এদিকে শিক্ষকদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ-অনাস্থাতে ক্ষতির মুখে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। বেশ কয়েকদিন থেকে বিভাগের নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না। বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষকদের মধ্যে নানা সমস্যার কারণে আমাদের ভুক্তভোগী হতে হচ্ছে। গত দুই সপ্তা থেকে কোন বর্ষেরই ঠিকমতো ক্লাস হচ্ছিলো না। এখন এই ধর্মঘটে একেবারেই ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গেল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আমরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধাণ চাই।
এ বিষয়ে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সোবহান বলেন, ‘শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কাঁদা ছোড়াছুড়িতে বিষয়টি ঘোলাটে হয়ে গেছে। সংকট সমধানে আমরা চেষ্টা করছি। দ্রুত বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।’
প্রসঙ্গত, গত ২ আগস্ট দায়িত্বে অবহেলা ও সভাপতির কক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি না টানানোসহ সাত অভিযোগে সভাপতির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে লিখিত অভিযোগপত্র দেয় ওই শিক্ষকরা। পরদিন সভাপতি ১১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ তুলে প্রশাসনকে পাল্টা অভিযোগপত্র দেয়।

এ বিভাগের আরো..
নাজমুল সভাপতি ও সুমনকে সম্পাদক করে বাংলাদেশ স্টুডেন্ট কাউন্সিলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি
গরীব শিক্ষার্থীদের মিল বন্ধ থাকায় স্কুলে অনাগ্রহ
বেনাপোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিহত ৯ শিশুর স্মরণে শোক র্যালী