October 10, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

শহীদ পরিবারের তালিকা প্রনয়ন ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চাই

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম :  যে আশা আকাংখা উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে প্রজন্ম’৭১ এর যাত্রা শুরু হয়েছিল আমরা শহীদ পরিবারের ভাই বোনেরা একত্রিত হয়েছিলাম সেটা আজ ম্লান হয়ে যাচ্ছে। প্রজন্ম’ ৭১ এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নটো কিশোর দা আমাকে কিছু লিখতে বলেছে কিন্তু কি লিখব ? শহীদ পরিবারের তো হতাশার শেষ নেই।

স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরেও যখন প্রত্যন্ত এলাকার শহীদ পরিবারগুলি অনাহারে অর্ধাহারে রোগে শোকে কাঁদে তখন পদবী প্রাপ্ত ব্যক্তি রাষ্ট্র বা সমাজ কেউ কি তাদের খবর রাখে? একজন শহীদের সন্তান প্রশান্ত অথবা স্ত্রী সুফিয়া বানু যখন বিনা চিকিৎসায় মারা যায় তার খবর কি আমরা রেখেছি? দু’বেলা দু’ মুঠো মোটা ভাত মোটা কাপড়েরর জন্য মায়ের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য একটি চাকুরীর আশায় পদ মর্যাদাবান ব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি। বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রেলওয়ে লোকো ফিটার, মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম সংগঠক শ্রমিক নেতা তোতা মিয়ার সন্তান যখন রেলওয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয়ে ভাইভা বোর্ডে পোষ্য কোটা ও শহীদ সন্তান হিসেবে বিভিন্ন প্রমাণ পত্র – বঙ্গবন্ধুর দেওয়া এককালীন ২০০০/-(দুই হাজার) টাকার চেক প্রদর্শন করেও রেলওয়ে বিভাগের কর্মকর্তাদের মন গলাতে পারিনি অথচ ৫ লক্ষ টাকা দিতে পারেনি বলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আমার চাকুরী হয়নি, চাকুরী হয়েছে যারা টাকা দিয়েছে তাদের।

মুক্তিযোদ্ধে শহীদের সন্তান প্রশান্ত, পবিত্র, স্বাধীনা, মঞ্জুরানী অনেকেই একটি চাকুরী জন্য বিভিন্ন জায়গায় এমনকি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদে গিয়েও কোন আশার আলো দেখেনি। আমার স্ত্রী সন্তান যখন প্রশ্ন করে ‘‘কি পেয়েছ প্রজন্ম ’৭১ করে’’ তখন আমি তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিনা শুধু চেয়ে থাকি ফ্যাল ফ্যাল করে।

১৯৯৩ সালে আমি স্নাতক শ্রেণীতে পড়ি, একজন টগবগে যুবক প্রজন্ম ’৭১ ময়মনসিংহ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়ে সভাপতি আমিনুল ইসলাম খোকা ভাইকে নিয়ে শহীদ পরিবারের খোজে বিভিন্ন উপজেলাতে ছুটতে থাকি এবং অনেক পরিবারকে একত্রিত করে তাদেরকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে জাতীয় অনুষ্ঠানগুলিতে অংশগ্রহন করি এবং একে অন্যের সুখ দুঃখের কথা শুনি। যখন তারা দেখল আমরা এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ কারো কোন উপকারে আসতে পারি না, কেন্দ্রীয় কমিটির উদাসীনতা ও নিষ্কৃয়তা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত সবার ভিতরে হতাশা বিরাজমান কি হবে প্রজন্ম ’৭১ করে? কিন্তু আমি একজন শহীদের সন্তান হিসাবে গর্বিত। সংগঠন করে হয়তো কিছু পাইনি তবুও প্রজন্ম ’৭১ যেন আমার রক্তের সাথে মিশে গেলে একে ছাড়তে আমার ভীষণ কষ্ট হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই যিনি আমাদের পিতার হত্যাকারী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দায়িত্ব নিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের ও তাদের পোষ্যদের রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করেছেন।

আমাদের প্রজন্ম ’৭১ এর পক্ষ থেকে আপনার কাছে শুধু একটি আবেদন শহীদের তালিকা প্রনয়ন করে তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দান করুন তাহলে আমাদের মৃত্যুর পর আমাদের সন্তানরা গর্ব করে বলতে পারবে। আমি শহীদের নাতি, আমার দাদা এদেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে। সে হয়তো কবরে পাশে দাড়িয়ে প্রশ্ন করবে না ‘‘বাবা তুমি প্রজন্ম ’৭১ করে কি করেছ?’’ চলবে।

লেখকঃ শহীদ তোতা মিয়ার ছোট সন্তান।
সাংগঠনিক সম্পাদক
প্রজন্ম’৭১ ময়মনসিংহ জেলা শাখা।