নাদীম কাদির : আমার বয়স এখন ৫৪। এই বয়সে নিজের প্রাণের সংঘঠনের কাছ থেকে কিছু চাওয়া হাস্যকর – কারন এখন উপদেশ দেয়ার সময়। কিন্তুু সময়ের ক্লান্তিলঘ্নে আমি এ লেখা লিখতে বাধ্য হলাম।
আমরা যারা শহরে থাকি অথবা ‘‘বিশিষ্ঠ‘‘ শহীদ পিতা-মাতার সন্তান তাঁরাই কি শুধু প্রজন্ম ৭১? এ প্রশ্ন বহুবার আমার মনে জেগেছে কিন্তুু চুপ করে ছিলাম।
সত্যি কথা বলতে কি আমি যদি এখন ঢাকায় থাকতাম, তাহলে কিছু দিনের জন্য এ সংঘঠনের নেতৃত্ব আমি নিতাম। ৬ মাসই যথেষ্ট এই সংঘঠনকে গণতান্ত্রিক ও গতিশীল করা।
প্রজন্ম ৭১ এর অনেক দায়িত্ব শহীদ সন্তানদের জন্য — বিশেষ করে যারা এখনও বিপদে আছে, যারা এখনও ন্যায় বিচার পায়নি।
গতিশীল প্রজন্ম ৭১ মানে নতুন নেতৃত্ব। শুধু টেলিভিশনে ও ১৪ই ডিসেম্বরে আমরা একই মানুষ কেন থাকবো? অন্যদেরও সুযোগ করে দিতে হবে। সবারই বেদনার কাহিনী আছে, বাবা-মা হারানোর কষ্টের কথা আছে। সবাইকে ঘুড়ে ঘুড়ে সুযোগ দিতে হবে। অনেক মানুষ যখন প্রশ্ন করে, তোমরা কজন ছাড়া শহীদ সন্তান অন্য কেউ নেই বাংলাদেশে। তখন খুব লজ্জা হয়।
আমরা যারা সময় দিতে পারছি না, আমাদের বয়স হয়েছে, তাদের নতুনদের জন্য জায়গা ছাড়তে হবে। আমি সহ-সভাপতি আছি নামে মাত্র। উপদেশ দিয়েছি, কাজ হয়নি। কেন ? সবাইকে কাজ বিন্যাস করে দিতে হবে, সবাইকে দায়িত্ব দিতে হবে এবং সবাইকে অংশীদার হতে হবে। তাহলেই প্রজন্ম ৭১ গতিশীল হবে। দেশের জন্য, আমাদের প্রাণ প্রিয় নেতৃ শেখ হাসিনার জন্য ভূমিকা রাখতে হবে বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলার জন্য।
আমাদের প্রাণপ্রিয় আপা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আওয়ামী লীগে নতুন রক্তের সঞ্চালন করতে পারেন, তাহলে প্রজন্ম ‘৭১ কেন পারবে না? আমাদের যুগ যুগ ধরে সংঘঠনকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আমাদের পরে আমাদের সন্তানরা নতুন কার্যক্রম নিয়ে সামনে নিয়ে যাবে।
গতিশীল করার জন্য কিছু উপদেশ ঃ
১। সারা দেশে শহীদ সন্তানদের সঠিক তালিকা করা।
২। কে কোথায় কি করছে তা লিপিবদ্ধ করা।
৩। কার কি প্রয়োজন শিক্ষা, বাসস্থান ইত্যাদি।
৪। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নিয়মিত অনুষ্ঠান করা।
৫। আমাদের মাদেরকেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করতে হবে, কারন অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও তারা তাদের সন্তানদের মানুষ করেছেন।
৬। আমরা যেহেতু আর্থিক ভাবে সক্ষম, আমরা একটি ফান্ড তৈরী করতে পারি। যা দিয়ে আমরা নিয়মিত অনুষ্ঠান করতে পারি এবং বিপদের সময় সদস্যদের কাজে লাগতে পারে।
৭। রাজাকার আর বিহারিদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিতে হবে।
শেষ কথা আর একটি আছে আমরা কোন দলের না বলল্লে চলবে না, আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি আমরা সব সময় আশ্রয় পেয়েছি আমাদের প্রাণ প্রিয় আপা শেখ হাসিনার কাছে। উনি আমাদের কষ্ট উপলব্ধি করতে পারেন এবং তার দল আওয়ামী লীগ আমাদের নিজস্ব প্রতীক, নিজস্ব ঘর। শেখ হাসিনা আমাদের জন্য যা করেছেন তা রক্ত দিয়েও শোধ করা যাবে না।
আমার কথাই ধরুন, মা যখন ১৯৯৯ সালে হঠাৎ মারা গেলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুদুর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সমবেদনা জানালেন এবং একাত্তুরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির একজন প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তার অবদান স্বরণ করলেন। এমন কষ্টের সময় এই সমবেদনা আমার অনেক বড় পাওয়া। ২০০৭ সালে আমার বাবার করব চিহিৃত হওয়ার পর পরে থাকে। শেখ হাসিনা ২০১১ সালে আমার বাবাকে পূর্ণ রাষ্টীয় মর্যাদায় পুনঃ দাফনের ব্যবস্থা করে দেন।
আমার সাংবাদিকতার স্বীকৃতি স্বরুপ তিনি আমাকে লন্ডনে পাঠান, দেশকে সেবা করার সুযোগ দিয়ে। আমি আজ দেশ ও নেত্রীর জন্য কাজ করে চলেছি।
তারপরও বলবো শুরু হোক প্রজন্ম’৭১ এর নতুন নেতৃত্ব খোজার পালা, যে নেতৃত্ব আমাদের সংগঠনকে গতিশীল করবে।
লেখক: সহ-সভাপতি, প্রজন্ম ’৭১, সাংবাদিক ও মিনিষ্টার প্রেস, বাংলাদেশ হাইকমিশন, লন্ডন
পিতা: শহীদ বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযোদ্ধা লেঃ কর্ণেল ম. আবদুল কাদির

এ বিভাগের আরো..
অতিরিক্ত ভালোবাসা ঠিক নয়
সংসদ সদস্যকে আইন প্রনয়ন নয়, মানতেও হবে
জাতীয় চারনেতা হত্যা নেপথ্যে থাকা কুশলীব কারা