October 12, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

আজ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক:  অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বেড়েছে।  কোভিড-১৯  যারা আক্রান্ত হয়েছেন তারাই নয় বরং যারা আক্রান্ত হননি তাদের মাঝেও বাড়ছে মানসিক সমস্যা। আর কোভিড-১৯ সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়া ব্যাক্তিদের মাঝেও পরিলক্ষিত হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার প্রভাব। পুরো বিশ্বের মতো পারিবারিক ও সামাজিক ভাবেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যাচ্ছে বিশৃঙ্খলা। এমন পরিস্থিতিতেই বিশ্বব্যাপী এবার পালিত হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্য দিবস।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস হলো মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা ও সচেতনতার দিন। প্রথমবার এ দিবসটি পালন করা হয় ১৯৯২ সালে । কিছু দেশে মানসিক রোগ সচেতনতা সপ্তাহের অংশ হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয়— ‘অসম বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য’।

সম্প্রতি মানসিক স্বাস্থ্য দিবস নিয়ে বৈশ্বিক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়েই মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মক সংকটে পড়েছে বলা হয়। এছাড়াও করোনার কারণে সব বয়সী মানুষ মানসিকভাবে বিপদগ্রস্ত হচ্ছে বলেও জানানো হয়।

‘বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২১’ উদযাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি উপলক্ষে মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেছেন ।

দুইজনই দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া পৃথক বাণীতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর আহ্বান জানান ।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অধিকার। মানসিক স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন ছাড়া সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন কল্পনা করা যায় না। তাই মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেয়া এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, মানসিক রোগ নিয়ে এদেশের মানুষের মধ্যে অনেক অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক রোগীকে পারিবারিক ও সামাজিক সমর্থন প্রদান খুবই জরুরি। একই সাথে ঝাড়ফুঁক বা অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতি পরিহারে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণ, ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমসহ মহামারির কারণে সৃষ্ট আর্থিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় উন্নত বিশ্বের চেয়ে অন্যান্য দেশগুলো তুলনামূলক পিছিয়ে আছে।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে।

এ প্রেক্ষাপটে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘অসম বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য’  যথার্থ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমানে করোনা মহামারির এই বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জনসাধারণের মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আক্রান্ত ব্যক্তি ছাড়াও পরিবারের সদস্য, সমাজের নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের মানসিক স্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন। এই পরিস্থিতিতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত  করতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ব সভ্যতা বিকশিত হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তর বৈষম্য ও নানাবিধ অসমতা রয়ে গেছে দেশে দেশে। এ অসমতা অর্থনৈতিক, সামাজিক এমনকি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও। স্বাস্থ্যের দিকে যদি তাকাই তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য আরও বেশি উপেক্ষিত। অথচ সুখী, সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন মানবিক বিশ্ব গঠনে শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার মানসিক স্বাস্থ্যের এই প্রয়োজনীয়তা যথাযথভাবে অনুধাবন করে। এজন্য আমাদের সরকার ২০০১ সালে ঢাকার শেরে বাংলা নগরে প্রতিষ্ঠা করে ‘জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট’। সবার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য বাস্তবায়নে এটি একটি মাইলফলক।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ২০৪১ সালের আগেই উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে- এ লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালন করা হচ্ছে জেনে আনন্দিত হয়েছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘অসম বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য’ সময়োপযোগী হয়েছে বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে পালন করা হবে নানা কর্মসূচি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও নানা কর্মসূচি পালন করা হবে।

মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে রোববার (১০ অক্টোবর) বিশেষ ওয়েবিনার আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওয়েবিনারটি ২৯ ও ৩০ অক্টোবর এবং ৫ নভেম্বরসহ মোট চারদিন সময়ে আয়োজন করা হচ্ছে এবার।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির সভাপতি ড. মুহাম্মাদ মাহমুদুর রহমান।

এ ছাড়া এদিন রাত ৮ টা এবং রাত সাড়ে ৯ টায় মানসিক স্বাস্থ্য ও এবারের প্রতিপাদ্যের উপর দুইটি ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটি এবং ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ দিবসটি পালন করা হবে।