ডেস্ক : দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ের পর শ্রীশ্রীঠাকুর অনূকুল চন্দ্রের জন্ম স্থান রুপে চিহ্নিত ১৫ শতক জমি সৎসঙ্গ বাংলাদেশ ফিরে পেয়েছে। জনকল্যান মূলক মানবতাবাদী ধর্মীয় এ প্রতিষ্ঠান সৎসঙ্গ বাংলাদেশ।
গত বৃহস্পতিবার (৩১ মে) পাবনার সদর থানার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো: আতিকুর রহমান এ আদেশ দিয়েছেন। আদালত সুত্রে জানা গেছে, শ্রীশ্রী ঠাকুর অনূকুল চন্দ্র চক্রবর্তী পাবনার হেমায়েতপুরে ‘সৎসঙ্গ’ প্রতিষ্ঠা করে আধ্যাত্বিক কর্মকান্ড সহ নানারুপ জনকল্যাণ মুলক কাজ শুরু করেন। এ অবস্থায় ১৯৪৬ সালে স্বাস্থ্যগত কারনে বায়ু পরিবর্তনের জন্য ভারতের দেওঘরে যান।
১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর তিনি আর ফিরে আসেন নাই। তিনি দেওয়ঘরেই পুনরায় সৎসঙ্গ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তদানিন্তন পুর্ব পাকিস্তান সরকার পাবনার হেমায়েতপুরে ঠাকুর কিছু জমি অধিগ্রহণ করে পাবনা মানসিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। তখন ঠাকুরের নির্দেশে সৎসঙ্গের সাধারন সম্পাদক নিযুক্ত হন রাসবিহারী আদিত্য পরবর্তিতে ধৃতব্রত আদিত্য ও ঐ জমি ফিরে পাওয়ার জন্য সরকারের কাছে বিভিন্ন সময় আবেদন করেন।
সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর সরেজমিনে তদন্ত করে সরকারের অধিগ্রহণ করা জমির মধ্যে মানসিক হাসপাতালের মধ্যে অব্যবহৃত ১৫ শতক জমি প্রত্যার্পণের আদেশ দেয়। উক্ত আদেশে সৎসঙ্গ বাংলাদেশের পরিবর্তে সৎসঙ্গ পাবনা বরাবর প্রত্যার্পণের আদেশ হলে সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সম্পাদক ধৃতব্রত আদিত্য বাংলাদেশে সৎসঙ্গ বাংলাদেশ এক মাত্র বৈধ কর্তৃত্ব সম্পন্ন সৎসঙ্গ সংগঠন হিসাবে শ্রীশ্রী ঠাকুর অনূকুল চন্দ্র চক্রবর্তীর জন্ম স্থান রুপে চিহ্নিত ১৫ শতক জমি ফিরে পেতে অধিকারী এবং সৎসঙ্গ বাংলাদেশ’ বাংলাদেশে এক মাত্র বৈধ কর্তৃত্ব সম্পন্ন সৎসঙ্গ হিসাবে ঘোষণার প্রার্থনায় পাবনার জেলা প্রশাসককে বিবাদি করে পাবনা সদর থানার সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং অ:প্র:৫১/২০০৭ ইং।
মামলায় শ্রীশ্রী ঠাকুর অনূকুল চন্দ্র সৎসঙ্গ হেমায়েতপুর এবং পুরুষত্তম শ্রীশ্রী ঠাকুর অনূকুল চন্দ্র জেরুরিয়া খুলনা বিবাদি শ্রেণী ভক্ত হয়ে মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দীর্ঘ ১১ বছর মামলাটি চলার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে পাবনার সদর থানার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো: আতিকুর রহমান সৎসঙ্গ বাংলাদেশের পক্ষে আদেশ দেন।
বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন, প্রবীণ আইনজীবী গোরা চাঁদ ঘোষ, পাবনা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহম্মদ মহিউদ্দিন, আহাদ বাবু, রণধীশ ভট্রাচার্য্য, আব্দুল হামিদ (৩), মোহম্মদ আলী। বিবাদি পক্ষের আইনজীবী হোসেন শহিদ সরওয়াদ্দী জানান, তারা এই রায়ের বিরুদ্বে আপিল করবেন। মামলার বাদি সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সম্পাদক ধৃতব্রত আদিত্য আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, সত্যের জয় হয়েছে, সৎসঙ্গীরা ন্যায় বিচার পেয়েছে।
এ উপলক্ষে গত শনিবার (২ জুন) সৎসঙ্গ বাংলাদেশের শাখা লক্ষ্মীবাজারে ঢাকা সৎসঙ্গের অস্থায়ী কার্যলয়ে প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শ্রীশ্রীঠাকুর অনূকুল চন্দ্রের ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে আলোচনা অংশ নেন অমল চন্দ্র রায়, নটো কিশোর আদিত্য, রনজিত রায়, জগদীশ হাওলাদার, ডা. সুদীপ্ত চৌধুরী, সুকৃতি সুন্দর মন্ডল, কার্তিক ভক্ত, মলয় বিশ্বাস, দীপেন কান্তি শীল, সদীপ্ত রায়, সুজয় মজুমদার, মনিন্দ্র রায়। সংগীত পরিবেশন করেন গায়িত্রী রায়, অর্পিতা দাশ,অমৃতা ভক্ত,পূরবী শীল, সুদীপ্ত রায়, সুমিত্র হাওলাদার, নিমে হাওলাদার। সুকৃতি সুন্দর মন্ডলের কীর্তনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।

এ বিভাগের আরো..
বিচারক-আইনজীবীদের কালো কোট-গাউন পরতে বাধ্যবাধকতা নেই।
ঝিনাইদহে কৃষক হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন ও ৩ জনের সশ্রম কারাদন্ড
হাইকোর্টের আদেশ আপিলে স্থগিত, রমজানে স্কুল খোলা