November 6, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

মাটির ট্রাক্টরের দাপটে দফারফা এক সড়ক

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের একটি সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক মাটি ও বালু বোঝাই ট্রাক্টর চলাচল করে। এতে রাজারামপুর মির্জা ময়দা মিল থেকে আমডুঙ্গি হাট পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। চলাচলের অযোগ্য আর ধুলায় বিপর্যÍ হয়ে পড়েছে সড়কের ওই অংশসংলগ্ন গ্রামবাসীর জনজীবন।
সড়ক সংলগ্ন রাজারামপুর হিন্দুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা অনিল চন্দ্র রায় বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে ফুলবাড়ী-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার রাজারামপুর মির্জা ময়দা মিল থেকে আমডুঙ্গি হাট যাওয়ার রাস্তাটি তৈরি হয়। কিন্তু এখন সড়কটি স্থানীয় লোকজনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছর পাঁচেক ধরে এলাকায় গড়ে ওঠা তিনটি ইটভাটায় মাটি বহনসহ ছোট যমুনা নদী থেকে বালু পরিবহণ করছে। প্রতিদিন মাটি বোঝাই বহু ট্রাক ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছে। এতে সড়কটির খোয়া ওঠে মাটি বেরিয়ে গেছে। ট্রাকের চাকায় চাকায় গুড়া ধুলায় ছেয়ে গেছে সড়কসহ আশপাশের এলাকা। সড়ক দিয়ে ট্রাক্টর চলাচল নিষিদ্ধসহ সড়কটি সংস্কারের জন্য স্থানীয়রা ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন নিবেদন করেছেন। কিন্তু সেভাবে কোনো সাড়াই মেলেনি।
গৃহবধূ সুমিত্রা রাণী, সমতা রাণী, সাধনা রাণী, প্রতিমা রাণী ও ববিতা রাণী বলেন, এই সড়কে যেকোন গাড়ি গেলেই চারদিক ধুলায় ভরে যায়। নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে হয়। ধুলার হাত থেকে রক্ষা পেতে ঘরবাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে তারা। শীতের পর এই শুষ্ক মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠেছে। সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক ট্রাক-ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন প্রকার যানবাহন চলাচল করে থাকে। বাচ্চাদের নিয়ে রাস্তায় বেরোতে ইচ্ছে করে না। প্রায় সব সড়কেই ধুলা। বিষয়টি অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীঘদিন কোনো সংস্কার না করায় পিচ, ইট-খোয়া সব ওঠে সড়কের মাটি বের হয়ে গেছে। ধুলায় আশপাশের বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গাছ ধূসর হয়ে গেছে।
সড়কের মাঝপ্রান্তে দেখা যায়, মতিলাল রায় নামের একজন সড়কে পানি ছিটাচ্ছেন। তিনি একটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, নদী থেকে বালু ও ইটভাটায় মাটি বহনের ফলে সড়কগুলো ভেঙ্গে চুড়ে শেষ হয়ে গেছে। সড়কের ইটখোয়া উঠে দিয়ে মাটির ধুলায় রাস্তা ছেয়ে গেছে। ছোটবড় যেই গাড়ি এ সড়ক দিয়ে গেলেই সড়কের ধুলায় অন্ধকার হয়ে যায় এলাকা। ধুলার ঠেলায় দোকানে বসে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে ট্রাক্টর চালকদের সাথে গ্রামবাসীর একাধিকবার ঝগড়া-বিবাদও হয়েছে। ধুলাবালু যাতে একটু কম ওড়ে সেজন্য সড়কে পানি ছিটাতে হয়। এর পরও ধুলা থামানো যায় না।
কৃষক আকালু রায় বলেন, সড়কের পাশে যাদের বাড়ি আছে তারা চরম বিড়ম্বনায় আছেন। ঘরের লেপ-কাঁথা এই ধুলাবালুতে নোংরা হয়ে যায়।
রিকশা-ভ্যান চালক সুনিল রায় বলেন, সারাক্ষণ ধুলাবালুর মধ্যে আছি। এই সড়কে রিকশা-ভ্যান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তারপরও পেটের দায়ে কোনো রকম চালাতে হচ্ছে। কীভাবে যাতায়ত করি, আমরাই জানি।
শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ চৌধুরী বিপ্লব বলেন, সড়কটির কারণে মানুষের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। সড়কের ভেঙ্গে যাওয়া কিছু অংশ পরিষদ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে মাটি ফেলে খানাখন্দক বন্ধ করা হলেও ট্রাক্টরের দাপটে সেটি কোন কাজে আসছে না।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. শহিজ্জামান বলেন, ট্রাক্টর চলাচল করায় সড়কটি অবস্থা বেহাল হয়ে গেছে। সড়কটি সংস্কারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।