October 8, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

নতুন প্রজন্মের পথপ্রদর্শক ডা. নুজহাত চৌধুরী

নটো কিশোর আদিত্য : “আমরা যারা একাত্তরে স্বজন হারিয়েছি, তারা বড় হয়েছি পঁচাত্তর-পরবর্তী এক অন্ধকার সময়ে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রতমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার পর, সেই সঙ্গে চার জাতীয় নেতাকে হত্যার পর স্বজন-হারানো আমরা হলাম অভিভাবকশূন্য। মুখ থুবড়ে পড়ল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। ক্যান্টনমেন্ট থেকে গজিয়ে ওঠা ভুঁইভোড় রাজনৈতিক দলে আশ্রয় ঘটল সকল রাজনৈতিক উচ্ছিষ্টদের। রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি জায়গা করে নিল যুদ্ধাপরাধী খুনি ধর্ষকরা। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় চলল ইতিহাস ভুলিয়ে দেবার এক কালো অধ্যায়। বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করা যাবে না, বলা যাবে না জয় বাংলা– সে এক দুর্বিষহ সময়! ভাবখানা তাদের এমন ছিল যে, দেশে কোনো যুদ্ধপরাধই সংঘটিত হয়নি। মুজাহিদ তো দম্ভভরে বলেই ছিল, “কীসের যুদ্ধাপরাধ? এদেশে কোনো যুদ্ধাপরাধ হয়নি।”

“সেই বাংলাদেশে আজ আমরা শুধু যে যুদ্ধাপরাধ হয়েছে তা প্রমাণ করতে পেরেছি তা নয়, পেরেছি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে, তাদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করতে– এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে শহীদ-স্বজনদের জন্য?
আর তাই আমরা সন্তুষ্ট, আবেগাপ্লুত, এদেশ নিয়ে গর্বিত। এদেশের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ। বাঙালি সত্যি বীরের জাতি। তারা যুদ্ধ করতে জানে, যুদ্ধে জয়ী হতে জানে, পিতৃপুরুষের হত্যার বিচার করতে জানে। এ জাতিকে ঠেকিয়ে রাখবে কে? বঙ্গবন্ধুর সেই কথাই বলি, ‘কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ বললেন,ডা.নুজহাত চৌধুরী।
নারীরা এখন পুরুষের পাশাপাশি সমান তালে এগিয়ে চলছেন । তারা তাদের যোগ্যতার ছাপ রেখে চলেছে নিজ নিজ ক্ষেত্রে । তাদেরই একজন ডা.নুজহাত চৌধুরী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং প্রজন্ম একাত্তরের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। ডা. নুজহাত চৌধূরী একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর মেয়ে। ডা. আলীম চৌধুরীর দুই কন্যা ,ফারজানা চৌধুরী নীপা এবং নুজহাত চৌধুরী শম্পা। শিক্ষাবিদ ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির  সহসভাপতি শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী তার মা। তার পৈতৃক ভিটা কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম থানার খয়েরপুর গ্রামে।
ডা. নুজহাত চৌধূরীর শৈশব কেটেছে ঢাকায়। পড়াশুনা করেছেন  ঢাকার উদয়ন স্কুলে। এ স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে তিনি ভর্তি হন বেগম বদরুন্নেসা সরকারি কলেজে। এইচএসসির পাশে পর বাবার  স্বপ্ন নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে সফলতার সাথে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। তারপর এমএস (অপথালমোলজি) করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এছাড়া রেটিনার ওপর ভারতের এলভিপিইআই থেকে ফেলোশিপ করেছেন।

ডা. নুজহাত চৌধূরীর কর্মজীবন শুরু করেন বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটে প্রায় নয় বছর কাজ করেছেন। এরপর সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে যোগ দেন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিভাগে। বর্তমানে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে।
এছাড়া তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বাংলায় ও ইংরেজিতে নিয়মিত কলাম লিখাসহ টেলিভিশনে চিকিৎসা বিষয়ক বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ডা. নুজহাত চৌধূরী।
ডা. নুজহাত চৌধূরী ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক এবং প্রজন্ম একাত্তরের প্রতিষ্ঠাতা সাংস্কৃতিক সম্পাদক। তার প্রিয় ব্যক্তিত্ব তার বাবা শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরী।
কর্মব্যস্ত এই মানুষটির অবসর নেই বললেই চলে। ব্যক্তি জীবনে বিবাহিত ডা. নুজহাত চৌধূরী  অবসর এখন পরিবার ও সন্তানকে নিয়েই কাটে।
শুধু রাজাকার বংশ ছাড়া তার বক্তৃতা শুনে কাঁদেননি এমন পাষাণ,নির্দয় মানুষ পাওয়া দূরূহ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তার বক্তৃতা শুনে রুমাল দিয়ে বারবার চোখ  মুচ্ছেন ।
একুশে বইমেলার প্রকাশ হয়েছে ডা. নুজহাত চৌধুরীর বই। বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখি করলেও এটাই তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই। ‘এ লড়াই অনিবার্য ছিল।”