October 10, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রাম

ডেস্ক:  গতকাল ভোর থেকে শুরু হয় প্রচণ্ড বৃষ্টি। সকাল ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩২ মিলিমিটার। এর পর সারা দিন থেমে থেমে ঝড়-বৃষ্টি হয়। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কর্ণফুলীতে জোয়ার শুরু হওয়ায় বৃষ্টির পানি খাল বেয়ে নদীতে নামতে পারেনি। ফলে জলাবদ্ধতা দেখা দেয় নগরজুড়ে। সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ফলে দেশের সর্ববৃহৎ ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ বাজারে কমে গেছে বেচাকেনা।
নগরীর আগ্রাবাদ, হালিশহর, অক্সিজেন, হামজারবাগ, মুরাদপুর, চকবাজার, পাঁচলাইশ, ডিসি রোড, আতুরার ডিপো, বহদ্দারহাট, শুলকবহর, কাতালগঞ্জ, নাসিরাবাদ, বায়েজিদ, ২ নম্বর গেট, ষোলশহর, খাজা রোড, চান্দগাঁও, মোহরা, বাকলিয়া, চাক্তাই রাজাখালী, দেওয়ানবাজার, ডবলমুরিং, সিডিএ, পাহাড়তলী, সরাইপাড়া ও সাগরিকা, কাঁচারাস্তার মাথাসহ কমপক্ষে আরো ২০টি এলাকার রাস্তা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও কোমর পানি। নিচু জায়গায় রাস্তাঘাট পেরিয়ে পানি ঢুকে পড়েছে বাসাবাড়িতে।
বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে ভেসে একাকার হয়ে যাওয়া নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকায় একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ‘ফ্ল্যাড কন্ট্রোল অ্যান্ড ওয়াটার লগিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ শীর্ষক এ প্রকল্পে ‘জিটুজি’ (গর্ভমেন্ট টু গর্ভমেন্ট) পদ্ধতিতে অর্থায়ন করবে চীন। ইতিমধ্যে ৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে এ প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্ট্যাডিও (সম্ভাব্যতা যাচাই) শেষ হয়েছে। কাজ শুরুর তিন বছরের মধ্যে প্রকল্প শেষ হবে।
এ প্রকল্পের আওতায় নগরীর ২৭টি খালের মুখে স্লুইস গেইট নির্মাণ এবং ড্রেজিং করা হবে। এছাড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ খালের মুখে পাম্প স্টেশন স্থাপন, কালুরঘাট থেকে শাহ আমানত সড়ক পর্যন্ত বাঁধ তৈরি এবং বাঁধের উপর সড়ক নির্মাণসহ জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করা হবে।
এ প্রকল্পের আওতায় কালুরঘাট ব্রিজ থেকে শাহ আমানত ব্রিজ পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ তৈরি করা হবে। এই বাঁধের উপর নির্মাণ করা হবে চার লেন বিশিষ্ট সড়ক। এই অংশে ৫টি ব্রিজ, ১২টি স্লুইসগেইট নির্মাণের পাশাপাশি নদীর তীর রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ ছোট খালগুলোও সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নেভাল একাডেমি থেকে ১০ নম্বর খাল পর্যন্ত ৫ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার অংশে কংক্রিটের তৈরি ঢেউ প্রতিরোধক দেয়াল নির্মাণ করা হবে এ প্রকল্পের আওতায়। এই দেয়াল চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরকে রক্ষা করবে বলেও প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া এ প্রকল্পের আওতায় হালদা এবং কর্ণফুলী নদীর শাখা হিসেবে নগরীতে প্রবাহিত ২৭টি খালের মোহনায় স্লুইসগেইট নির্মাণের পাশাপাশি বাঁধের তলদেশে ১০টি কালভার্ট নির্মাণেরও সুপারিশ রয়েছে সম্ভাব্যতা যাচাই রিপোর্টে।
এছাড়া পলি দ্বারা ভরাট হয়ে যাওয়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি খাল এবং মধ্যম সারির খালগুলোও সংরক্ষণ করা হবে এ প্রকল্পের আওতায়। এক্ষেত্রে ১১ দশমিক ৮৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ১১টি খালের ড্রেজিং করা হবে। এছাড়া মহেশখালের ৯ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার অংশজুড়ে ড্রেজিং এবং বাঁধ নির্মাণ করা হবে। খালটির দুই পাশে সবুজায়ন এবং সৌর্ন্দযবর্ধন করা হবে বলে সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একইভাবে রাজাখালী খালের ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার জুড়ে ড্রেজিং করা হবে এবং খালের দুইপাশে বাঁধ নির্মাণ করা হবে।
ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে গৃহীত প্রকল্পের আওতায় বহাদ্দারহাট বারৈপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত নতুন খাল খনন করার কথা আছে। ‘ফ্ল্যাড কন্ট্রোল অ্যান্ড ওয়ারটার লগিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ প্রকল্পের আওতায় এ খালের গতিপথ সোজা করা হবে। এজন্য ২ দশিক ৯ কিলোমিটার খালটির (বহাদ্দারহাট বারৈপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী) দুটি অংশকে সোজা করার জন্য ২শ মিটার নতুন করে খনন করা হবে। পাশাপাশি নতুন করে খালটির চাঁদমিয়া রোড এলাকা থেকে শেষ পর্যন্ত প্রায় ২ দশমিক ১৬ কিলোমিটার অংশের প্রশস্থতা বৃদ্ধি করা হবে। নতুন খালটির নিম্নাংশের ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার অংশে ড্রেজিং করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় মহেশখালের মোহনা, এবং মহেশখাল থেকে সমুদ্রমুখী ডাইভারসন খালের মোহনায় পাম্প হাউস নির্মাণ করা হবে। একইভাবে রাজাখালী খাল, চাক্তাই খালের মোহনায়ও পাম্প হাউজ নির্মাণ করা হবে। এছাড়া পয়ঃনিষ্কাশনে স্যুয়ারেজ প্ল্যান্ট, স্যুয়ারেজ পাম্প স্টেশন এবং পয়ঃনিষ্কাশনের পাইপও স্থাপন করা হবে এ প্রকল্পের আওতায়।