October 10, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

গ্যাসের মজুদ বাড়াতে নানামুখি উদ্যোগ

বিশেষ প্রতিনিধি : আগামীদিনের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে দেশে গ্যাসের মজুদ বাড়াতে বহুমুখী পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এসব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গভীর সাগরে শুরু হচ্ছে দ্বিমাত্রিক জরিপ। পাশাপাশি নতুন নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার এবং গ্যাস উত্তোলনে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মোহাম্মদ ফয়েজ উল্ল্যাহ জানান, মজুদ বাড়াতে আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। দেশের স্বার্থ সমুন্নত রেখে চুক্তি করছি। কোরিয়ান কোম্পানি দাইয়ু কাজ শুরু করবে। আগামী বছরের মধ্যে আমরা ১২ নম্বর ব্লকের একটি ফলাফল পাব। গ্যাসের মজুদ বাড়ানোর জন্য সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা পুরো খাতটির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে পেট্রোবাংলার পদস্থ একজন কর্মকর্তা বলেছেন, চট্টগ্রাম এবং ঢাকাসহ সারা দেশে গ্যাসের সংকট চলছে। কেবলমাত্র সিলেট অঞ্চলে গ্যাসের সংকট নেই। গ্যাস সংকটের কারণে দেশের শিল্পায়ন এবং বিনিয়োগে বড় ধরনের বন্ধ্যাত্ব বিরাজ করছে। হাতছাড়া হচ্ছে কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ সম্ভাবনা। একই সাথে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের গ্যাস সংকট নেতিবাচক খবর সৃষ্টি করছে।

তিনি বলেন, এই অবস্থায় সরকার দেশে গ্যাসের সংকট ঘুচাতে চায়। বাড়াতে চায় গ্যাসের মজুদ। গ্যাস উত্তোলনের পরিমাণও বাড়াতে চায়। আর এ জন্য বহুমুখী লক্ষ্য নিয়ে সরকার অগ্রসর হচ্ছে। পেট্রোবাংলাকে অত্যন্ত কার্যকর একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে গভীর বঙ্গোপসাগরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাটির তলায় থাকা মূল্যবান সম্পদ উত্তোলনে সরকার কাজ করছে।

জানা যায়, সিলেট, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, ভোলাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এ পর্যন্ত মোট ২৬টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে দেশের একমাত্র সাগরকেন্দ্রিক গ্যাসক্ষেত্র সাঙ্গু ইতিমধ্যে পরিত্যক্ত হয়েছে। সাঙ্গুসহ মোট ২০টি গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস তোলা হয়েছে। এ পর্যন্ত দেশে আবিষ্কৃত মোট গ্যাসের মজুদ হয়েছে ২৭ দশমিক ১২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। এর মধ্যে দেশে এ পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়েছে ১৩ দশমিক ৪৮ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। বাকি ১৩ দশমিক ৬৪ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলনের পর্যায়ে রয়েছে। এগুলোই দেশের গ্যাসের মজুদ।

দেশে গ্যাসের ব্যবহার ক্রমাগত বাড়ছে। বর্তমানে বছরে গড়ে ৮০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ধারায় ব্যবহার অব্যাহত থাকলে মজুদ থাকা ১৩ দশমিক ৬৪ টিসিএফ গ্যাস আগামী ১২ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে ফুরিয়ে যাবে। এই অবস্থায় সরকার বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে মহেশখালী এবং কুতুবদিয়ায় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে মহেশখালী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এলএনজি প্রবাহের পাইপলাইন। বেসরকারি ছয়টি কোম্পানিকেও এলএনজি আমদানির সুযোগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু এলএনজি আমদানি হলেও তার দাম বেশি পড়বে। ওই বাড়তি দামে এলএনজি ব্যবহার করে দেশে শিল্পায়ন এবং উৎপাদন ব্যাহত হবে বলে আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাই সরকার পেট্রোবাংলার মাধ্যমে দেশে নিজেদের অনাবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে গ্যাসের মজুদ চিহ্নিতকরণ এবং গ্যাস উত্তোলনের ব্যবস্থা করছে।

বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্র এলাকা এবং স্থলভাগে একাধিক গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান মিলেছে। বঙ্গোপসাগরের অগভীর অংশের ১১ নম্বর ব্লকে একটি বড় গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া গেছে। ভোলার শাহবাজপুরেও একটি বড় গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান মিলেছে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরের প্রায় এক লাখ ১৯ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে থাকা ১২, ১৬ ও ২১ নম্বর ব্লক তিনটিতে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের মজুদ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১২ নম্বর ব্লকে দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানি পোসকো দাইয়ু কর্পোরেশন দ্বিমাত্রিক জরিপ শুরু করতে যাচ্ছে। দাইয়ু প্রথম দুই বছরে এক হাজার ৮০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিতীয় মাত্রার (টুডি) জরিপ চালাবে। তৃতীয় বছরে এক হাজার বর্গকিলোমিটার তৃতীয় মাত্রার জরিপ (থ্রিডি) পরিচালনা করবে। চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে ১টি অনুসন্ধান কূপ খনন করবে। ১২ নম্বর ব্লকের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেলে গ্যাসের মজুদ আরো বাড়বে।