October 9, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

মুফতি হান্নানসহ ৩ জঙ্গির ফাঁসির রায় রিভিউ আবেদন খারিজ

ডেস্ক : সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ তিনজনের মৃত্যুদন্ডের চূড়ান্ত রায় বহাল রেখেছে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।
রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে মুফতি হান্নানের রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়ে আজ রোববার এ রায় দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল বিভাগ বেঞ্চ। অন্য দুই বিচারপতি হলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত অন্য দু’জন হলেন- শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার ওরফে রিপন। ফলে হান্নানসহ তিনজনের ফাঁসি কার্যকরে এখন আর কোনো আইনি বাধা রইল না বলে জানায় আইনজীবীরা। তবে সর্বশেষ সুযোগ হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানাতে পারবেন তারা। এ আবেদন না জানালে বা তা প্রত্যাখ্যাত হলে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে ফাঁসি কার্যকর করবে কারা কর্তৃপক্ষ।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এন কে সাহা। শুনানিতে এন কে সাহা বলেন, ১০ বছর ধরে আসামি কনডেম সেলে আছেন। এ জন্য তার দন্ড কমানো হোক। এ সময় আদালত বলেন, “ইটস নট এ লিগ্যাল গ্রাউন্ড। অন্য কিছু থাকলে বলেন।” এরপর আইনজীবী আর কিছু না বলায় আদালত আদেশ দেয়া শুরু করে। আদেশে আদালত বলেন, এটা একটা সেনশেসনাল মামলা। বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট সঠিকভাবে রায় দিয়েছে। এ জন্য রিভিউ আবেদন খারিজ (ডিসমিসড) করা হলো।
আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলায় হতাহতের ঘটনায় আনা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানসহ তিন জঙ্গির ফাঁসির রায় বহাল রেখে গত ৭ ডিসেম্বর রায় দেয় আপিল বিভাগ।
এ বিষয়ে আসামিদের আনা আপিল খারিজ করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ৪ সদস্যের আপিল বিভাগ বেঞ্চ এ রায় দিয়েছিলো।
আইনজীবীরা জানায়, যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আপিল না করায় তাদের যাবজ্জীবন দন্ড বহাল রয়েছে। এ মামলায় পাঁচ আসামিই কারাগারে রয়েছেন।
সিলেটে হযরত শাহজালাল(রা:) এর মাজার প্রাঙ্গণে ২০০৪ সালের ২১ মে আনোয়ার চৌধুরী ওপর গ্রেনেড হামলা করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পুলিশের এএসআই কামাল উদ্দিন নিহত হন। এছাড়া পুলিশ কনস্টেবল রুবেল আহমেদ ও হাবিল মিয়া নামের আরেক ব্যক্তি মারা যায় হাসপাতালে। আনোয়ার চৌধুরী ও সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসকসহ (ডিসি) অন্তত ৭০ জন ওই ঘটনায় আহত হয়।
পুলিশ ওইদিনই সিলেট কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ৭ জুন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান, তার ভাই মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ওরফে অভি, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার ওরফে রিপনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ ওরফে খাজার নাম যুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
৫৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেটের দ্রত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সামীম মো. আফজাল রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আসামিদের মধ্যে মুফতি হান্নান, বিপুল ও রিপনকে মৃত্যুদন্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয় বিচারিক আদালত।

সূত্র: বাসস