ডেস্ক : ৭ই আগষ্ট শহীদ বুদ্ধিজীবি অধ্যাপক আব্দুল ওয়াহাব তালুকদার এর ৪৫তম মৃত্যু বার্ষিকী। তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন এবং ৬নং সেক্টরের অধীনে বামনহাট যুব শিবিরের ক্যাম্প ইনচার্জ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। যার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মরহুম এম. কে, বাশার। ৭১’এর এই দিনে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত বগনী নদীর উপর অবস্থিত রেল ব্রীজে অবস্থানরত একদল মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে অবস্থানকালে পাক বাহিনী কর্তৃক আক্রমনে (ব্রাশ ফায়ারে) প্রথমে আহত হন এবং পরে বেয়নট চার্জে শহীদ হন। তাকে ভারতের কালমাটি মসজিদ চত্বরে সমাহিত করা হয়। ছামান আলী তালুকদারের পুত্র শহীদ ওয়াহাব তালুকদার ১৯৪৩ সালে ৩রা জানুয়ারি অবিভক্ত ভারতের পশ্বিম বঙ্গের অন্তর্গত কুচবিহার জেলার কালমাটি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর পরিবারের অন্যান্যদের সাথে বর্তমান কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলাধীন সিংঝাড় গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তিনি বর্তমান কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে অধ্যাপনা করতেন। শহীদ হওয়ার সময় তিনি মা, স্ত্রী, তিন পুত্র সন্তান ও ভাইবোনসহ অনেক আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে যান। তিনি মুক্তবুদ্ধি ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তা চেতনায় বিশ্বাসী, সেই সাথে একজন ক্রীড়ামোদীও ছিলেন।
দিনটি পারিবারিকভাবে পালনের পাশাপাশি এবং শহীদ ওয়াহাব কিন্টার গার্ডেন স্কুলে মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভার কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।
উল্লেখ্য যে, উক্ত শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে ওয়াহাবের সমাধিটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কালমাটি গ্রামে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। গত তত্ত্বাধায়ক ও বর্তমান সরকারের সময় শহীদের সমাধিটি বাংলাদেশে স্থানান্তরের জন্য আবেদন করলেও অদ্যাবধি তা হয়নি। তাই পরিবার এবং এলাকাবাসীর জোর দাবী শহীদের সমাধিটি দ্রুত বাংলাদেশে স্থানান্তর করা হোক।

এ বিভাগের আরো..
শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক অর্জন : টাইম ম্যাগাজিন
মাদারীপুরে মহান বিজয় দিবস পালিত ও আলোচনা সভা
ঘাটাইল হানাদার মুক্ত দিবস পালিত