বিদেশ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরির ঘটনায় মানি লন্ডারিংয়ের তদন্ত থেকে ফিলিপাইনের সিনেটকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির একজন সিনেটর। সোমবার ফ্রান্সিস এসকুডেরো নামের ওই সিনেটর এ আহ্বান জানান। তার মতে, এটা ভালোর চেয়ে বরং খারাপই বেশি করবে।
সিনেটর ফ্রান্সিস এসকুডেরো সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন নির্বাচনের সময়। অনেক সিনেটর, বিশেষ করে পুনরায় নির্বাচনের জন্য যারা লড়বেন তারাও এই তদন্তে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু আমরা এটা নিয়ে খোঁচাতে পারি না। জনগণের সামনে প্রকাশ্যে নিজেদের নোংরা অন্তর্বাস পরিষ্কার করা উচিত নয়।’
ফিলিপাইনে সিনেটের ব্লু রিবন কমিটি ৮১ মিলিয়ন ডলারের ওই অর্থ চুরির বিষয়ে তদন্ত করছে। এ কমিটির প্রধানের দায়িত্বে আছেন সিনেটর তেয়োফিস্তো গুংগোনা। তার সঙ্গে অন্য সিনেটররাও আছেন।
সিনেটর ফ্রান্সিস এসকুডেরো বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের (এএমএলসি) উচিত নিজেদের স্বার্থেই এই ইস্যুতে তদন্ত বাদ দেওয়া। কারণ আমি বিশ্বাস করি, তারা এটা যথার্থভাবেই করতে পারবে। আমি এটা মনে করি না যে, আমাদের প্রকাশ্যে এর তদন্ত করা উচিত। আমাদের উচিত আমাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থা কতটা দুর্বল সেদিকে মনোনিবেশ করা। কারণ আমাদের ক্রেডিট রেটিং এবং বৈশ্বিক ফিনান্সিয়াল কমিউনিটিতে এর প্রভাব পড়বে।’
তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সিনেট এবং অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিল তাদের রায়ে সবগুলো বিষয় বিবেচনা করবে। কারণ এতে শুধু আমাদের ব্যাংকিং সেক্টরই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বরং আমাদের বিদেশি কর্মীদের ওপরও এর প্রভাব পড়বে। এখানে আমাদের মর্যাদার বিষয় জড়িত।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ ফিলিপাইনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যাওয়ার পর তা দ্রুত দুই জায়গায় স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্যে ২৬ মিলিয়ন ডলার গেছে সোলারি রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনোতে। বাকি ২০ মিলিয়ন ডলার গেছে ইস্টার হাওয়াই ক্যাসিনো অ্যান্ড রিসোর্টে। দুটি ক্যাসিনোতে যাওয়া এ অর্থ চুরি হওয়া মোট অর্থের ৫৬ শতাংশ। বাকি ৪৪ শতাংশ অর্থ সম্পর্কে কোনও তথ্য জানা যায়নি।
চুরি হওয়া মোট অর্থের পরিমাণ ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফিলিপাইনের একটি ব্যাংকের পাঁচটি অ্যাকাউন্টে এই অর্থ স্থানান্তর করে হ্যাকাররা। গত ফেব্রুয়ারির ৫ থেকে ৯ তারিখের মধ্যেই এ অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। পরে ফিলিপাইনের অ্যান্টি মানি-লন্ডারিং কাউন্সিলের (এএমএলসি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির আদালত ব্যাংকে গচ্ছিত ওই অর্থ লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ১ মার্চের ওই নিষেধাজ্ঞার আগ পর্যন্ত বিদেশ থেকে আসা এ অর্থ হাতবদল হচ্ছিল ক্যাসিনো টেবিলে।
এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনায় ছয়জনকে নজরদারিতে রেখে তদন্ত করছে এএমএলসি। তারা হচ্ছেন- মাইকেল ক্রুজ, জেসি ক্রিস্টোফার, আলফ্রেড ভারগারা, এনরিকো ভাসকুইজ, উইলিয়ার সোগো এবং কিম অং। এদের মধ্যে পাঁচজনেরই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে ফিলিপাইনের সেই আলোচিত রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনে (আরসিবিসি)। চোরাই অর্থ এ ব্যাংকেই জমা রেখেছিল হ্যাকাররা।
সূত্র: ইনকোয়ারার।

এ বিভাগের আরো..
রাফায় হামলা হলে ইসরায়েলের ‘বিপজ্জনক পরিণতি’ হবে
ইসরায়েল আল-শিফা থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছে: হামাস
শ্রমিক ও গণপ্রবাসীদের সম্মাননায় আল-হারামাইন এর ইফতার মাহফিল।