নিজস্ব প্রতিবেদক : চলতি মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বাড়বে। তবে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে ১ অথবা ২ দিন বজ্রঝড় হতে পারে।
আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসের জন্য গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির নিয়মিত বৈঠকে একথা জানানো হয়।
মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির এ বৈঠকে জানানো হয়, ফেব্রুয়ারি মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ মাসের প্রথমার্ধে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে ১ থেকে ২টি মৃদু (৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) অথবা মাঝারী (৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
এ মাসের প্রথমার্ধে দেশের নদ-নদীর অববাহিকা ও সকালের দিকে হালকা অথবা মাঝারী ধরণের কুয়াশা থাকার সম্ভাবনা আছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বাড়বে। মাসের দ্বিতীয়ার্ধে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে ১ অথবা ২ দিন বজ্রঝড় হতে পারে। এ মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকে জানানো হয়।
জানুয়ারি মাসের আবহাওয়ার বিভিন্ন তথ্য বা উপাত্ত পর্যালোচনা করে বৈঠকে জানানো হয়, জানুয়ারি মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ছিল ঢাকায় ৯, চট্টগ্রামে ৭, সিলেটে ৭, রাজশাহীতে ৯, রংপুরে ১১, খুলনায় ১৫, বরিশালে ৯ মিলিমিটার।
কিন্তু বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, ঢাকায় ৫ দশমিক ৮, চট্টগ্রামে ৫ দশমিক ৪, সিলেটে সাড়ে ১০, রাজশাহীতে ৮ দশমিক ৭, রংপুরে ২৬, খুলনায় ২৩ দশমিক ২, বরিশালে ৫ দশমিক ৮ মিলিমিটার। গতমাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের দিন ছিল ৮দিন। আর রেকর্ড করা হয়েছে ১৬দিন।
বৈঠকে জানানো হয়, ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে সারাদেশে স্বাভাবিক অপেক্ষা ১৬ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। কারণ গতমাসে পশ্চিমা লঘুচাপের সঙ্গে পূবালী বাতাসের সংযোগ ঘটায় সারাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
জানুয়ারি মাসে দেশের ওপর দিয়ে দুইটি মৃদু থেকে মাঝারী ধরণের শৈত্য প্রবাহ বয়ে যায়। এ সময় ৩১ জানুয়ারি দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শ্রীমঙ্গলে ৬ দশমিক ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।
জানুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে বাতাসের নিম্নস্তরে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় সারাদেশে মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশা সৃষ্টি হয়। এ কারণে সূর্য কিরণ বাধাগ্রস্থ হয়। এ সময় দেশের অনেক জায়গায় দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে (৭-৯) ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত নিচে নেমে আসায় সারাদেশেই বেশী শীত অনুভূত হয়। বৃষ্টিপাত ও বৃষ্টিপাতের দিন সংখ্যা ব্যতীত, তাপমাত্রা, কুয়াশা, কৃষি আবহাওয়া এবং দেশের নদ-নদীর অবস্থা জানুয়ারি মাসের পূর্বাভাসের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।

এ বিভাগের আরো..
প্রতিনিয়ত বুড়িগঙ্গার দূষণ আরও বিস্তৃত হচ্ছে
উপকূলীয় মানুষকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করছে সামাজিক ম্যানগ্রোভ বনায়ন
পানিতে উচ্চ লবণাক্ততা উপকূলীয় নারীদের মারত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে