October 10, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

শিক্ষার্থীদের জন্যে সরস্বতী পুজো।

নটো কিশোর আদিত্য: আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপর নতুন আনন্দ নিয়ে পথ চলার শুরু। যদিও গত কয়েক বছর ধরে করোনা আমাদের জীবন ত্রাস করে রেখেছে। মাঝে মধ্যেই করোনাভাইরাসটি নানা রূপে ফিরে এসে চোখ রাঙাচ্ছে। তবে তার মধ্যেও জীবন চলছে। জীবন চল মানেই নানা উৎসব নানা পার্বন। সনাতন ছাত্রছাত্রীদের নতুন বছর পড়লেই সবার আগে মনে আসে সরস্বতী পুজো কবে? কারণ ওই দিনটা বাঙালি ছাত্রছাত্রীদের দেবীর আরাধনার দিন।
শিক্ষা, সংস্কৃতি সব কিছুতেই মা সরস্বতীর কথা মাথায় রেখেই এগোনো হয়। স্কুল, কলেজের বাঙালি হিন্দু ছাত্রছাত্রীরা এই দিনটায় নতুন উদ্যোগে এগিয়ে চলে।
তবে গত কয়েক বছর করোনাভাইরাস এর প্রভাবর স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় এই দিনটায় সেভাবে পুজোর আনন্দ নিতে পারেনি কেউ।
সরস্বতী পূজো বিদ্যা ও সঙ্গীতের দেবী সরস্বতীর আরাধনাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠেয় একটি অন্যতম প্রধান হিন্দু উৎসব। এই দিনটি বসন্ত পঞ্চমী বা সরস্বতী পুজো ছাত্রছাত্রীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় উৎসব।
শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজো আয়োজিত হয়। তিথিটি শ্রীপঞ্চমী বা বসন্ত পঞ্চমী নামেও পরিচিত।
উত্তর ভারত, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, নেপাল ও বাংলাদেশে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে বিশেষ উৎসাহ উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়।
শ্রীপঞ্চমীর দিন অতি প্রত্যুষে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ছাত্রছাত্রীদের গৃহ ও সর্বজনীন পূজামণ্ডপে দেবী সরস্বতীর পূজো করা হয়। ধর্মপ্রাণ হিন্দু পরিবারে এই দিন শিশুদের হাতেখড়ি, ব্রাহ্মণভোজন ও পিতৃতর্পণের প্রথাও প্রচলিত।
পূজোর দিন সন্ধ্যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সর্বজনীন পূজামণ্ডপগুলিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও আয়োজিত করা হয়ে থাকে।
পূজোর পরের দিনটি শীতলষষ্ঠী নামে পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গে কোনো কোনো হিন্দু পরিবারে সরস্বতী পূজোর পরদিন অরন্ধন পালনের প্রথা রয়েছে।
পুজোতে শিশু থেকে বৃদ্ধ এবং সর্বস্তরের বাঙালীর সর্বাঙ্গে জাগে শিহরন, মনে লাগে দোলা, দৃষ্টিতে ভেসে ওঠে কুয়াশা ঘেরা সকাল, আমের পল্লব, দোয়াত কলম, রসময় কুল আর জোড়া সন্দেশ। এর কারন আর বলার অবকাশ রাখে না।
এদিন ধরাধামে কৃপাবৃষ্টি বর্ষনের উদ্দেশ্যে মর্ত্যলোকে আবির্ভূতা হন শ্বেত শুভ্র বসনা, বেদ প্রসবিনী, হংসবাহিনী দেবী বীনা পানি। মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের পঞ্চমী তিথিকে বলা হয় শ্রীপঞ্চমী। শ্রীপঞ্চমীর এই তিথিতে পুজিতা হন আদ্যাশক্তির একাংশ, দেবী স্বরস্বতী। বিদ্যা, বুদ্ধি, সঙ্গীত ও জ্ঞান প্রদায়িনী দেবী তিনি। আপাতদৃষ্টিতে, শ্রীপঞ্চমীকে শুধু বিদ্যার্থীদের অনুষ্ঠান মনে করা হলেও আবাল বৃদ্ধ বনিতা সব মহলেই তাঁর আগমনকে স্বাগতম জানানো হয় স্বাড়ম্বরে।
আমাদেরকে সুর, সঙ্গীত, বিদ্যা, বুদ্ধি ও জ্ঞান প্রদান করার জন্য মর্ত্যলোকে একদিনের জন্য আবির্ভূতা হন তিনি। সঙ্গত কারনেই বিদ্যার্থীদের কাছেই এই পূজার বিশেষ গুরুত্ব থাকলেও, তিনি আপামর বাঙালীর কাছে পরম পূজ্য।
এদিন বেশিরভাগ মানুষকে হলুদ রঙের পোশাকে সেজে উঠতে দেখা যায়। নানা জায়গায় বাচ্চাদের হাতেখড়িরও আয়োজন করা হয়। পাড়ায় পাড়ায় দেবীর আরাধনায় মেতে ওঠে সকলে। তবে পুজোর দিন প্রতি বছর বদলে যায়। কিন্তু করোনাভাইরাস বদলে দিয়েছে সব কিছু।
তথ্য: উইকিপিডিয়া।