November 5, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

সৎসঙ্গ বিহারে ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের জন্ম মহোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক: শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল অনুকূলচন্দ্রের প্রায় লক্ষাধিক অনুসারীর পদচারণায় গত ১ লা মার্চ, শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরীর ফিরিঙ্গিবাজারে কর্ণফুলী নদীর তীর মিলনমেলায় পরিণত হয়। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী দিনব্যাপী এ জন্মমহোৎসবে যোগ দিয়েছিলেন। ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৬তম জন্মমহোৎসব উপলক্ষে এদিন ভোরে মাঙ্গলিক বেদ পাঠ ও ঊষা কীর্তনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দিনব্যাপী মহোৎসবে চিকিৎসা সম্মেলন, আলোচনা সভা, চিত্রাংন্কণ প্রদর্শনী, মাতৃসম্মেলন, শিশু-কিশোরদের নিয়ে আয়োজিত ও পরিচালিত সৎসঙ্গ সংগীতানুষ্ঠানসহ নানা অনুষ্ঠান।

বিকালে শ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের দীব্য জীবন ও বানীর উপর সাধারন সভা। সভায় সভাপতিত্ব করেন সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সহ সভাপতি অধ্যাপক প্রদীপ কুমার দেব, আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সহসম্পাদক সুব্রত আদিত্য, মাসিক সৎসঙ্গ সংবাদ পত্রিকা ও দৈনিক প্রথম কথার সম্পাদক নটো কিশোর আদিত্য, তিমির সেন, চন্দন ভট্টাচার্য ও প্রকৌশলী সনৎ কুমার ঘোষ, চসিক কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, প্রকৌশলী বিজয় কিষান, পিআইডির আলোকচিত্র সাংবাদিক নাট্যজন সুমন দাশ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তরা বলেন, সৎসঙ্গের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র। ‘সৎ ও সংযুক্তির সহিত তদগতিসম্পন্ন যাঁরা তাঁরাই সৎসঙ্গী, আর তাদের মিলনক্ষেত্র হল সৎসঙ্গ। কর্মের মাধ্যমে যোগ্যতর মানুষ গড়ে তোলাই হল এর লক্ষ্য ও সৎসঙ্গের আদর্শ ।
বক্তরা আরো বলেন, ধর্ম ও কর্মের অপূর্ব সমন্বয়ে সৎসঙ্গ আশ্রম। শিক্ষা, কৃষি, শিল্প সুবিবাহ আস্তিকের এই চার স্তম্ভের অভিব্যক্তি। শ্রীশ্রীঠাকুর বানী, ’অন্যে বাঁচায় নিজে থাকে, ধর্ম বলে জানিস তাকে’। বাঁচা বাড়ার মর্ম যা, ঠিকই জানিস ধর্ম তা।’ সৎসঙ্গ জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের একটি মিলনক্ষেত্র।

দুপুরে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম উদ্বোধনকালে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারি হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন বলেছেন, আবহমান কাল থেকেই বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে সম্্রপ্রীতি বজায় রয়েছে। পারস্পরিক সখ্য, সৌহার্দ্য ও স¤প্রীতি বাঙালি সংস্কৃতির মূল অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে।


বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে অংশ নেন- চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নিতাই প্রসাদ দত্ত, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. প্রতীক চৌধুরী, ডা. সৌমেন চৌধুরী, ডা. সৌরভ সাগর, ডা. প্রবাল চক্রবর্তী, ডা. বিউটি পাল নন্দী, ডা. লাবনী দে, ডা. সুদীপ চৌধুরী, ডা. মৃত্তিকা দত্ত, ডা. স্মরণ কর, ডা. টিপু মজুমদার, ডা. অজয় ভট্টাচার্য্য, ডা. সুকুমার নন্দী এবং সৎসঙ্গের সহপ্রতিরৃতিক ডা. সিনিয়র কনসালটেন্ট সুব্রত রায় পিন্টু।

অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানান, দিনব্যাপী উৎসবে হাজারো রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। দুপুরে প্রায় লক্ষাধিক ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরন করা হয়।

আগত ভক্তরা জানান, আমাদের জীবনে যাদের একান্ত অনুপ্রেরণা আমাদের জীবন যুদ্ধে মনোবল অটুঁট রাখে, তার অগ্রভাগেই থাকেন, বাবা-মা। আপন জননীকে ঠাকুর প্রাণের উৎস জ্ঞাণে ভালবাসতেন। মা’কে খুশি করতে তিনি সবকিছু করতে প্রস্তুত ছিলেন।