আদালত প্রতিবেদক: নেতা হতে হলে ধৈর্য ধরতে হবে বলে জানালেন বিচারক। কোটা কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ খানকে রিমান্ড শুনানির সময় এজলাসে নিয়ে আসা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের উপর শুনানি শেষে আসামির বক্তব্য শোনার সমসয় উভয়ের কথোপকথোনের এক পর্যায়ে এসে বিচারক ওই উক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে মানহানিমূলক ও নাশকতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদানের অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করে রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য ঢাকার মহানগর হাকিম রায়হান উল হকের এজলাসে উপস্থাপন করা হয়।
শুনানির শুরুতে মামলার তদন্ত কর্মকর্র্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পুলিশের উপরিদর্শক মো. সজীবুজ্জামান মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
ওই আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ জুন আসামি রাশেদ তার নিজের ফেসবুক মুহাম্মাদ রাশেদ খাঁন থেকে ফেসবুক গ্রুপ ‘কোটা সংস্কার চাই (সকল ধরণের চাকুরীর জন্য)’ সন্ধ্যে ৮টা ৮ মিনিটে লাইভে এসে একটি বক্তব্য প্রদান করেন। সেখানে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মনে হচ্ছে, তার বাপের দেশ, সে একাই দেশের মালিক, ইচ্ছামতন যা ইচ্ছা তাই বলবে আর আমরা কোন কথা বলতে পারব না।’ যা প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট মানহানি ঘটায়। আসামি সারা বাংলাদেশের বিভন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুপরিকল্পিতভাবে দেশের আইনশৃংখলার অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে ফেসবুক আইড লিংক এ লাইভ তথ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়।
আসামির কাছ থেকে মামলার এজাহার সমর্থিত বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক আইডি উদ্ধারকরা সহ সহযোগীদের চিহ্নিতকরে গ্রেপ্তারকরাসহ বিভিন্ন গ্র্রুপে দেওয়া পোষ্ট উদ্ধার করার স্বার্থে পুলিশের হেফাজতে নিয়ে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
রাশেদের পক্ষে তার আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিন চেয়ে আবেদন করার প্রেক্ষিতে আসামি শুনানি সময় রাশেদ বিচারককে নিজেই কিছু বলতে চান বলে জানান। বিচারকের অনুমতি পেয়ে রাশেদ বলেন, ‘এ আন্দোলন আমার একার আন্দোলন নয়। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন। আমরা আন্দোলনে নামার পর সরকারের পক্ষ থেকে ৩ বার আমাদের সঙ্গে বসা হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৪ মে কর্নেল এহসান আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
এর প্রেক্ষিতে বিচারক বলেন, ‘আপনাদের তো ধৈর্য ধরতে হবে। নেতা হতে হলে ধৈর্য ধরতে হবে। আপনি যে বক্তব্য রেখেছেন এটা কিন্তু অফেন্স হয়েছে।
এরপর আসামির পক্ষে তার আইনজীবী জাইদুর রহমান জাহিদ ও মো. নুরুজ্জামানের বক্তব্য শোনেন। তারা বলেন, আসামি কোনও অন্যায় করেনি। কথিত মানহানির অভিযোগ তার উপর বর্তায় না। যদি কোন জিজ্ঞাসা তদন্ত কর্মকর্তার থাকে সেক্ষেত্রে তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন। রিমান্ডে নেওয়ার যৌক্তিক কারন নাই।
বিচারক আসামির উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মূলতঃ রিমান্ড হল পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা। আমি সময় বেধে দিচ্ছি, সাত কার্যদিবসের মধ্যে আপনাকে ৫ দিন তদন্ত কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদ করবে।’
পুরো শুনানিতে রাশেদের বাবা নবাই বিশ্বাস আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিচারকের আদেশের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ‘আমি পড়ালেখা জানি না, তবে আমার ছেলে বলেছে, সে দেশের সব ছাত্রদের জন্য আন্দোলন করছে।’
আসামির এক আইনজীবী মো. নুরুজ্জামান কথার ফাঁকে বলেন, রাশেদ কোন অন্যায় করেনি, রিমান্ডে রাশেদ নির্যাতিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এসময় সেখানে থাকা রশেদের মা সালেহা বেগম, বোন সোনিয়া ও রূপালি এবং স্ত্রী রাবেয়া আলো কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। তারা জানায় ‘গত শনিবার ছাত্রলীগের ১৫/২০ জন ছেলে তাদের বাড়ীতে গিয়ে হুমকি দিয়ে এসেছেন।’
মা সালেহা বলেন, অন্যের বাড়িতে কাজ করে ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়েছি। আর আমার ছেলে এখনো জেলে। ও ছাড়া পেলে ওকে নিয়ে বাড়ি চলে যাব। ওর চাকরির দরকার নেই। সন্তানের মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করেন।
রাশেদের স্ত্রী রাবেয়া আলো বলেন, সে তো সবার ভালোর জন্যই গিয়েছিল। এখন তার এ অবস্থা কেন?
বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে সরকারি চাকরিতে কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে আন্দোলন করছে দেশের বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ আন্দোলনের মুখে গত ১১ এপ্রিল কোনও কোটা থাকবে না বলে জাতীয় সংসদে ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। গত ২ মে এবং গত ২৭ জুন সংসদে তা পুনরাবৃত্তি করেন। এরপরও আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দ্রুত প্রজ্ঞাপনের দাবিতে ফের আন্দোলনের ঘোষণা দেয়।
প্রসঙ্গত, শনিবার রাজধানীর শাহাবাগ থানায় ছাত্রলীগের আইন সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে এজাহার দায়ের করেন।

এ বিভাগের আরো..
বিচারক-আইনজীবীদের কালো কোট-গাউন পরতে বাধ্যবাধকতা নেই।
ঝিনাইদহে কৃষক হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন ও ৩ জনের সশ্রম কারাদন্ড
হাইকোর্টের আদেশ আপিলে স্থগিত, রমজানে স্কুল খোলা