October 10, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

রাজাপুরের শীতল পাটি এখন বিশ্বের গর্ব

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার হাইলাকাঠি ও সাংগর গ্রাম দক্ষিনঞ্চলের পাটি গ্রাম হিসাবে পরিচিত। তীব্র গরমে হিমেল পরশের জন্য শীতল পাটির জুড়ি নেই। আর এই পাটি তৈরি করে দেশ বিদেশের নানা জায়গায় সরবরাহ করছেন পাটি কারিগড়রা। তাই গ্রাম দুটির অধিকাংশ ঘরেই চলছে এখন পাটি তৈরির কাজ। গরমে ক্লান্তির ছোয়া লাগলেও পাটি তৈরির এ মৌসুমে পাটিকরদের কাজে নেই ক্লান্তি। গ্রাম দুটির বৃদ্ধ,নারী-পুরুষ,গৃহবধূ,ছাত্র-ছাত্রীরাও ব্যস্ত এ নিপুন কারুকাজে। দিন রাত নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে রংবেরংয়ের পাটি তৈরি হচ্ছে এখানে।
ঝালকাঠি জেলায় রাজাপুর উপজেলার শীতল পাটির কদর বরিশাল,ঢাকা ও চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে এখন বিদেশেও। কিন্তু সরকারি পৃষ্টপোষকতা না থাকায় পাটিকররা অর্থনৈতিক সমস্যায় জর্জরিত।চাহিদার তুলনায় তারা পর্যাপ্ত পাটি সরবরাহ করতে পারছেন না। রাজাপুর উপজেলার হাইলাকাঠি ও সাংগর গ্রামে ১২ মাসই পাটি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এরা। এ দুই গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় দেড়শ পরিবারের ছয় শতাধিক লোক এই পেশায় সাথে জড়িত। পাইতরা পাটি তৈরি গাছ বন থেকে কেটে শুকানো এবং বেতি তৈরি ও বাজারে বিক্রি করে পুরুষরাই।
বেতি দিয়ে বাড়িতে পাটি তৈরির আসল কাজটি করেন নারীরাই।তবে মাঝে মধ্যে পুরুষরাও নারীদের সাথে একাজে হাত লাগায়।একটি পাটি তৈরি করতে সময় লাগে ৪-৫ দিন। যুগ যুগ ধরে বংশ পরম্পরায় এরা পাটি তৈরি করে আসছেন। গ্রাম দুটির প্রবেশ পথে চোখে পরার মত দেখা যায় পাইতরা বন। গ্রাম দুটির প্রায় একশ একর জমিতে পাইতরা চাষ হয়।
শীতল পাটি দক্ষিনাঞ্চল ছাড়াও এ পাটি এখন দেশের গুন্ডি ছাড়িয়ে চলে যাচ্ছে বিদেশে। শীতল পাটির কদর ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে।কিন্তু পাটি করদের পুনবার্সন এবং পাটি বিক্রির মৌসুমে বিনা সুদে ঋনের ব্যবস্থা নেই। এ শিল্পটি দক্ষিনাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে। গ্রাম দুটিতে মৌসুম ছাড়াও বছরে প্রায় ২০ হাজার পাটি তৈরি হয়। এগুলো বিক্রি করে দাম পাওয়া যায় অর্ধ কোটি টাকা।
গরমের প্রশান্তি হিসেবে পরিচিত ঝালকাঠির তৈরি শীতল পাটি। এখানকার তৈরি শীতল পাটি দেশের চাহিদা পুরন করে রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও।ইতিমধ্যে দেশ বিদেশে বেশ খ্যাতি অর্জন করেছে এ অঞ্চলের শীতল পাটি। যারা পাটি তৈরি করে স্থানীয় ভাষায় তাদের পাটিকর বলা হয়। পাটি তৈরিই ওখানকার মানুষের প্রধান পেশা।
স্থানীয় শীতল পাটি উন্নয়ন প্রকল্প সমিতির সভাপতি তাপস পাটিকর বলেন,শীতল পাটি অনেক যুগ যুগ ধরে তৈরি করে আসছি। এখন বর্তমান পরিস্থিতি এমন অবস্থা হয়েছে এই শীতল পাটি প্রায় বিলুপ্তির পথে। কারন যে কষ্ট ও পরিশ্রম করি আমরা সেই মূল্য শীতল পাটিতে পাই না।বিভিন্ন রকম আবেদন করেছি সরকারের কাছে। কিন্তু সরকার থেকে কোন সহযোগিতা পাইনাই।তাই আর বেশি দিন এই পেশা ধরে রাখতে পারবো না, এই পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হব।
ভবতাজ পাটিকর জানান, আগে গরম এলেই শীতল পাটির চাহিদা অনেক বেশি ছিল।এখন আর আগের মতো নেই। কারন বর্তমান যুগের প্লাস্টিকের তেরি পাটি বাজার দখল করে রেখেছে।
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মোঃহামিদুল হক বলেন,ঝালকাঠির শীতল পাটি দেশজুড়ে বিখ্যাত। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের আয়োজনে ৪০জন মহিলাকে প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে।তারা শীতল পাটি দিয়ে বিভিন্ন রকম খেলনা,ম্যাট ও কলম দানি সহ এ রকম অনেক জিনিস তৈরি করেছে।এখন এগুলো মাকেটিং এর কাজে চলছে। এদের উন্নয়নের জন্য ওদের বসার জায়গা ও রাষ্টা ঘাটের অসুবিধা ছিল তা আমরা ঠিক করে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি।