নিজস্ব প্রতিবেদক : শহীদ মুক্তিযুদ্ধা মহিউদ্দিন হায়দার। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুৃ শেখ মুজিবুর রহমান শহীদ পরিবারকে একটি বাসা দেন। সেই থেকে স্ত্রী খুরশিদা হায়দার সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। বঙ্গবন্ধুর বরাদ্দ দেওয়া বাসা থেকে এই শহীদ পরিবারকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতিবাদ জানিয়েছেন পাশে দাড়িয়েছেন শহীদ পরিবারের সন্তানরা।
‘১৯৭৩ সালে শহীদ পরিবার হিসেবে আজিমপুর কলোনিতে বাসাটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বরাদ্দ দেন। সেই থেকে তিনি পরিবার নিয়ে বাসাটিতে থাকছেন।’ তিনি জানান, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বাংলাদেশ বেতারে চাকরিও পান তিনি।
খুরশীদা হায়দার প্রথমকথাকে বলেন, বঙ্গবন্ধু তাকে জিজ্ঞেস করেন, “থাকবা কোথায়? বাসা আছে?”, জবাবে খুরশিদা হায়দার ‘না’-সূচক জবাব দেন। তখন বঙ্গবন্ধু বলেন, “বাসাও পেয়ে যাবা”। ওইদিন বঙ্গবন্ধু তাকে নগদ দুই হাজার টাকাও দিয়েছিলেন।
খুরশিদা হায়দার জানান, বঙ্গবন্ধুর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পরের বছর (১৯৭৩) জানুয়ারি মাসে আজিমপুর সরকারি কলোনিতে তাদের বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ১৯৭২ সালের মন্ত্রিপরিষদের এক সিদ্ধান্ত বলে তিনি বাসাটি বরাদ্দ পান বলে জানান তিনি।
বাসা বরাদ্দের প্রজ্ঞাপন খুরশিদা হায়দার দাবি করেন, ১৯৭২ সালের যে সিদ্ধান্ত বলে বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল তাতে পরিষ্কার বলা আছে সরকার কোনও বিকল্প আবাসের ব্যবস্থা না করে শহীদ পরিবারকে বাসা থেকে উচ্ছেদ করতে পারবে না। তিনি বলেন, সরকার এই ব্যবস্থা না করেই তাকে উচ্ছেদ করছেন। শহীদ পরিবারের সদস্য হয়েও আজ আমি অসহায়। আমাকে উচ্ছেদ হতে হচ্ছে। হুমকি ও চাপের মুখে, অপমান নিয়ে ৪৫ বছরের ঠিকানা ছেড়ে দিতে হচ্ছে।
শহীদ মহিউদ্দিনের স্ত্রী অভিযোগ করেন, বাড়ি ছাড়তে কিছুটা সময় চাইলেও তা দেওয়া হয়নি।
খুরশিদা হায়দার বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আমাকে চাকরি দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ বেতারে চাকরি করেছি। আমি চাকরি থেকে অবসরে যাই ২০০৭ সালে। সেই থেকে বাসা ছাড়ার চাপ আসতে থাকে। ২০০৮ সালে বরাদ্দ বাতিল করা হয়। ওই বছরই উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। উচ্চ আদালত বরাদ্দ বাতিল আদেশের উপর স্থগিতাদেশ দেন। কিন্তু সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমি জানি না। এরপর পরই সাতদিনের মধ্যে নোটিশ দিয়ে বাসা ছাড়তে বলা হয়।
শহীদ মহিউদ্দিনের স্ত্রী খুরশিদা হায়দার জানান, ‘১৯৭২ সালে সরকারের একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয় শহীদ পরিবারের সদস্যদের থাকার আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে। সেই অধ্যাদেশ অনুযায়ী আমরা কলোনিতে বাসাটি পাই। কিন্তু মাথা গোঁজার ঠাঁই না দিয়েই বাসা ছাড়ার নোটিস আমার পরিবারের জন্য কষ্ট বয়ে এনেছে। মহিউদ্দিন হায়দার বাংলাদেশ বেতারের রংপুর শাখায় চাকরি করতেন। তিনি কর্মরত অবস্থায় ১৯৭১ সালে শহীদ হন। স্বাধীনতার পর এই শহীদের স্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করলে তাকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সাহায্য দেন। এছাড়া তাকে চাকরি ও বাসার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে স্বামীর কর্মস্থল বাংলাদেশ বেতারে চাকরি ও আজিমপুর সরকারি কলোনিতে একটি বাসা বরাদ্দ পান খুরশীদা হায়দার।
দীর্ঘদিন যাবৎ একটি চক্র বাড়িটি দখলের পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ নিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছে। আদালত সেই মামলার স্থগিতাদেশ দেন। অভিযোগ উঠেছে আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সরকারি কর্মচারী মহিউদ্দিন হায়দারের স্ত্রী খুরশিদা হায়দার ও তার ছেলেকে উচ্ছেদ করতে যাচ্ছে সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদফতর। ১৯৭৩ সাল থেকে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসা এই পরিবারটি।
এ অবস্থায় ভেঙে পড়েছেন শহীদ পরিবারটির সদস্যেরা। বাসা ছাড়তে কিছুটা সময় চাইলেও তা দেওয়া হয়নি এমন অভিযোগ করে খুরশিদা হায়দার বলেন,‘ইচ্ছার বিরুদ্ধে, হুমকি ও চাপের মুখে, অপমান নিয়ে ৪৫ বছরের ঠিকানা থেকে উচ্ছেদ হতে হচ্ছে।’ আর শহীদ মহিউদ্দিনের এক ছেলে সাহেদ সদরুদ্দিন তাদের দুর্দশার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরেছেন।

এ বিভাগের আরো..
সাবেক বিচারপতি আবদুল আউয়ালের ইন্তেকাল
দুই সিটির নবনির্বাচিত মেয়ররা শপথ নিলেন
কয়রায় জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত