November 6, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

সেশনজটের কবলে রাবির চারুকলা অনুষদ

রাবি প্রতিনিধি : সুবাস পাল। পড়ছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি)। চারুকলা অনুষদের এই ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে। সেই হিসেবে এখন স্নাতকোত্তর শেষ করার কথা ছিল তাঁর। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য বিভাগের বন্ধুরা পড়াশুনা শেষে ঠিকই কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন। কিন্তু সেশনজটের কারণে তিনি এখনো চতুর্থ বর্ষেই রয়েছেন।

চিত্রটি শুধু সুবাসের জন্য নয়। চারুকলা অনুষদের সব বিভাগেরই একই অবস্থা। শিক্ষকদের গাফিলতিসহ নানা কারণে ওই অনুষদের শিক্ষার্থীদের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করতে এখন সময় লাগছে সাত থেকে আট বছর।

অনুষদ সূত্রে জানা যায়, ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থীদের ¯œাতক শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৪-১৫ সেশনে। কিন্তু ২০১৭ তে এসে তাদের স্নাতক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। ২০১৩-১৪ সেশনে শিক্ষার্থীরা কেবল তৃতীয় বর্ষ শেষ করেছে। যদিও তাদের স্নাতক শেষ হওয়ার কথা ছিল। বর্তমানে চতুর্থ বর্ষের ব্যাচ ২টা; ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪। ২০০৮-০৯ সেশনের শিক্ষার্থীদের স্নাতকোত্তর পরীক্ষা ২০১৪ সালে শেষ হয়। তবে এখন পর্যন্ত তার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। ২০০৯-১০ সেশনের স্নাতক পরীক্ষা ২০১৩ সালে হওয়ার কথা থাকলেও শেষ হয় ২০১৫ সালে। তবে এখনো ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। এভাবেই সেশন জটে ভুগতে শুরু করে চারুকলা অনুষদ। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

২০১৫-১৬ সেশনে চারুকলা বিভাগকে ভেঙে নতুন তিনটি বিভাগ নিয়ে চারুকলা অনুষদ গঠিত হয়। সেশনজট দূরীকরণে বিভাগের পুরতন শিক্ষার্থীদের ভাগ করে নিয়ে কাজ করতে হবে বলে মনে করেন চারুকলা অনুষদের মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কনক কুমার পাঠক বলেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অনুষদের সেশনজট থাকায় ঠিকমতো ক্লাস নিতে পারছি না। অনুষদের নতুন শিক্ষার্থীরা তিন বিভাগে অন্তর্ভূক্ত কিন্তু যারা পুরাতন শিক্ষার্থী তারা অনুষদের অধীনে থাকায় অবিভাবকহীন রয়েছে। তাছাড়া সবার পরীক্ষা একসঙ্গে হওয়ায় বেশি জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। জটমুক্ত করতে বিভাগ অনুযায়ী পুরাতন শিক্ষার্থীদের ভাগ করে দেওয়া হলে সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই অনুষদের এক মাষ্টার্সের শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষকদের গাফিলতি, শিক্ষক ও ক্লাসরুম অপর্যাপ্ত থাকায় নতুন বিভাগ খোলাতে সেশনজটে পড়তে হয়েছে। খোলা স্থানে ক্লাস করতে হচ্ছে।’

অফিস সূত্রে জানা যায়, একটি অফিসের মধ্যে তিনটি বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সকল বিভাগের কাগজ-পত্র একত্রে রেখে কাজ করতে হয় অফিসের স্টাফদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, অফিসের যাবতীয় কাজ একটি কক্ষে করতে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত কোনো কাগজ-পত্র খুঁজতে গেলে বিপাকে পরতে হচ্ছে। ফলে ব্যবস্থাপনায় বাজে পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

নতুন বিভাগের কোনো সেশনজট নেই। তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এ সকল সমস্যা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে আশা করছেন শিক্ষকরা।

চারুকলা অনুষদের অধিকর্তা অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চারুকলা অনুষদের অনেক সমস্যা রয়েছে। প্রশাসনিকভাবে এসব সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে দ্রুত তা কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।