ডেস্ক: শহীদ বুদ্ধিজীবি অধ্যাপক আব্দুল ওয়াহাব তালুকদার এর ৪৬তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ। তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন এবং ৬নং সেক্টরের অধীনে বামনহাট যুব শিবিরের ক্যাম্প ইনচার্জ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। যার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন এম. কে. বাশার। ৭১’এর এই দিনে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত বগনী নদীর উপর অবস্থিত রেল ব্রীজে অবস্থানরত একদল মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে অবস্থানকালে পাক বাহিনী কর্তৃক আক্রমনে (ব্রাশ ফায়ারে) প্রথমে আহত হন এবং পরে বেয়নট চার্জে শহীদ হন। তাকে ভারতের কালমাটি মসজিদ চত্বরে সমাহিত করা হয়। ছামান আলী তালুকদারের পুত্র শহীদ ওয়াহাব তালুকদার ১৯৪৩ সালে ৩রা জানুয়ারি অবিভক্ত ভারতের পশ্বিম বঙ্গের অন্তর্গত কুচবিহার জেলার কালমাটি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর পরিবারের অন্যান্যদের সাথে বর্তমান কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলাধীন সিংঝাড় গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তিনি ৬ নং সেক্টরের অধীন প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে সরাসরি মুক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১লা মে ১৯৭১ ইং তারিখ থেকে শহীদ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ৬নং সেক্টরে অধীন বামনহাট যুব শিবিরের ক্যাম্প ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি যুবকদেরকে মহান মুক্তিযুদ্ধে উৎসাহিত ও সংগঠিত করেন। সেই সাথে যুবক ও অন্যান্যদেরকে যুব শিবিরের ভর্তি শেষে উচ্চতর প্রশিক্ষনের জন্য ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রেরণ করেন । যুব শিবিরে নবীন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা, খাবার, বাসস্থানসহ বিভিন্নভাবে মুক্তিযুদ্ধের একজন অন্যতম সংগঠক হিসেবে কাজ করেন। তিনি বর্তমান কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে অধ্যাপনা করতেন। শহীদ হওয়ার সময় তিনি মা, স্ত্রী, তিন পুত্র সন্তান, ভাইবোনসহ অনেক আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে যান। তিনি মুক্তবুদ্ধি ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তা চেতনায় বিশ্বাসী, সেই সাথে একজন ক্রীড়ামোদীও ছিলেন।
দিনটি পারিবারিকভাবে পালনের পাশাপাশি এবং শহীদ ওয়াহাব কিন্টার গার্ডেন স্কুলে মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভার কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।
উল্লেখ্য যে, শহীদ ওয়াহাবের সমাধিটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের কালমাটি গ্রামে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে গত তত্ত্বাধায়ক ও বর্তমান সরকারের সময় শহীদের সমাধিটি বাংলাদেশে স্থানান্তরের জন্য আবেদন করলেও অদ্যাবধি তা কার্যকর হয়নি। বর্তমানে শহীদের কবরটি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াহাব তালুকদারের সমাধিটি ভারতের মাটি থেকে বাংলাদেশের মাটিতে পূণঃ সমাহিত করার জন্য শহীদ পরিবারসহ এলাকার মুক্তিযোদ্ধা এবং সর্ব সাধারণের পক্ষ থেকে বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের নিকট আবেদন ও জোড় দাবি জানাচ্ছি।

এ বিভাগের আরো..
সাবেক বিচারপতি আবদুল আউয়ালের ইন্তেকাল
দুই সিটির নবনির্বাচিত মেয়ররা শপথ নিলেন
কয়রায় জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত