ডেস্ক: ভোট গণনা-পুনঃগণনার রুদ্বশ্বাস প্রতীক্ষার পর গতকাল রাত ৯টায় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনে নির্বাহী পরিষদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকপদসহ ৫টি সম্পাদকীয় (যৌথবিজয়ী ১টি পদসহ) ও ৫টি নির্বাহী সদস্যপদ মিলে ১০টি পদে জয়ী হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ। বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ ৪টি সম্পাদকীয় ও ৫টি নির্বাহী সদস্যপদ মিলে ৯টিতে বিজয়ী হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতিশীল ভাবধারায় বিশ্বাসী সমমনা আইনজীবী সংসদ একটি পদে (যৌথবিজয়ী) বিজয়ী হয়েছে।
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন সমন্বয় পরিষদের রতন কুমার রায় ও মোহাম্মদ আবু হানিফ। সভাপতি পদে রতন কুমার রায়ের প্রাপ্ত ভোট ১১৬৩, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্য পরিষদের এএসএম বদরুর আনোয়ার পেয়েছেন ১০৩৮ ভোট। এ পদে সমমনার মো. হুমায়ুন কবির রাসেল পেয়েছেন ৮৭১ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ১ ভোটের ব্যবধানে ১৩৮২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন সমন্বয় পরিষদের আবু হানিফ, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্য পরিষদের মো. নাজিম উদ্দিন চৌধুরী পেয়েছেন ১৩৮১ ভোট। সমমনা সংসদের সৈয়দ মো. কামাল উদ্দিন পেয়েছেন ২৯২ ভোট।
সবগুলো পদের মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮ শ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন সমন্বয় পরিষদের জুবাইদা ছরওয়ার চৌধুরী নিপা।
রবিবার গভীর রাতে ভোট গণনার পর দিনগত রাত দেড়টায় দুইটি পদে পুনঃগণনার জন্য প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা ফেরদৌছ আহমদ বরাবরে দরখাস্ত দাখিল করেন দুই প্রার্থী। সেসময় ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী ৪ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। অপরদিকে, সমন্বয় পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রার্থী কামরুন নাহার ৫ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আবু হানিফ ও সমমনা সংসদের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রার্থী মোহাম্মদ আলী এ দুটি পদে পুনরায় ভোট গণনার জন্য পৃথক দরখাস্ত দেন। এরপর গতকাল সোমবার সকাল ১১ টা থেকে দুটি পদে পুনরায় ভোট গণনা শুরু করেন নির্বাচন কমিশন। ত্রুটিপূর্ণ ভোট প্রদান করায় সাধারণ সম্পাদক পদে দুই প্রার্থীর একাধিক ভোট পুনঃগণনায় বাতিল ঘোষিত হয়। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদেও দুই প্রার্থীর একাধিক ভোট বাতিল ঘোষিত হয়। এরপর সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে দুই প্রার্থী সমান সংখ্যক ভোট পান। আর সাধারণ সম্পাদক পদে সমন্বয় পরিষদের মোহাম্মদ আবু হানিফ ১ ভোটে এগিয়ে থেকে বিজয়ী ঘোষিত হন।
সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে যৌথভাবে দুই প্রার্থীকে জয়ী ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন। এ পদে সমন্বয় পরিষদের কামরুন নাহার ও সমমনা সংসদের মোহাম্মদ আলী সমান সংখ্যক ১১৯৮ ভোট পেয়েছেন। প্রকাশ্যে লটারির মাধ্যমে প্রথম ৬ মাস মেয়াদে কামরুন নাহার ও দ্বিতীয় ৬ মাস মেয়াদে মোহাম্মদ আলী দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচিত ঘোষিত হন। এ পদে দুইজনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্য পরিষদের মো. ইছহাক পেয়েছেন ৬৪৮ ভোট। সহ-সভাপতি পদে ১৬২০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন ঐক্য পরিষদের মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি সমন্বয়ের মো. রফিকুল আলম পেয়েছেন ১৩৭৯ ভোট। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ঐক্য’র মোহাম্মদ হাসান আলী চৌধুরী ১৪৩৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি সমন্বয়ের মোহাম্মদ ইয়াছিন খোকন পেয়েছেন ১৩৬৩ ভোট, একই পদে সমমনা সংসদের মো. এহতেশাম পারভেজ সিদ্দিকী জুয়েল পেয়েছেন ২৬৮ ভোট।
অর্থ সম্পাদক পদে ঐক্য’র মহিউদ্দিন হক চৌধুরী জুয়েল ১৬১৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি সমন্বয়ের রিক্তা বড়–য়া পেয়েছেন ১০৫৭ ভোট, এ পদে গণতান্ত্রিক আইজীবী সমিতির প্রার্থী মো. মোশারেফ হোসেন পেয়েছেন ৩৫০ ভোট।
পাঠাগার সম্পাদক পদে ঐক্য’র মো. আবদুল কাইয়ুম ভূঁইয়া ১০৪৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি সমন্বয়ের মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন পেয়েছেন ১০০৭ ভোট, সমমনা সংসদের ভাস্কর রায় চৌধুরী পেয়েছেন ১০০৫ ভোট।
সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে সর্বোচ্চ ১৮০০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন সমন্বয়ের জুবাইদা ছরওয়ার চৌধুরী নিপা, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্য’র হাসনা হেনা পেয়েছেন ১০৫৩ ভোট, এ পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদুল আলম বাবলু পেয়েছেন ১৮৮ ভোট। তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে সমন্বয়ের মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দীন চৌধুরী ১৬৯২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ঐক্য’র শহীদুল ইসলাম সুমন পেয়েছেন ১৩৪৪ ভোট।
নির্বাহী সদস্য ১০ বিজয়ী, এম সালাউদ্দিন মনসুর চৌধুরী রিমু (সমন্বয়) ১৭৯৭, ইমতিয়াজ আহম্মদ জিয়া (ঐক্য) ১৭৫৯ ভোট, মাহমুদ-উল-আলম চৌধুরী মারুফ (ঐক্য) ১৬৮৪ ভোট, মোস্তফা কামাল (ঐক্য) ১৬৬৪ ভোট, অভিজিৎ আচার্য (সমন্বয়) ১৬৬২ ভোট, খাইরুন্নিসা আখতার নিসা (সমন্বয়) ১৬১৮, অসীম শর্মা (সমন্বয়) ১৫৯৭ ভোট, মো. এরফানুর রহমান (ঐক্য) ১৫৮৭ ভোট, মো. আলাউদ্দীন আল আজাদ (ঐক্য) ১৫৩৯ ভোট ও মো. মেজবাহ উদ্দিন দোয়েল (সমন্বয়) ১৫২৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে ৩৮০১ জন ভোটার হন। সর্বশেষ সম্পূরক ভোটার তালিকায় আরো ৩০ জন যুক্ত হয়ে ৩৮৩১ জন ভোটারের মধ্যে ৩ হাজার ১ শ ভোটার রবিবার সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪ টায় পর্যন্ত ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
সমিতির নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য নির্বাচনী কর্মকর্তাগণ হলেন, এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী, এডভোকেট রেজাউল করিম চৌধুরী, এডভোটেক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ ও এডভোকেট মুহাম্মদ এনামুল হক ।
সূত্রঃ দৈনিক পূর্বকোণ

এ বিভাগের আরো..
চট্টগ্রামবাসীর বহুল প্রত্যাশিত ক্যান্সার হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন
কক্সবাজার রেললাইনের দুইপাশে হাজারো দর্শকের উচ্ছাস
শকুন ও রাজনীতির কাক থেকে দেশ বাঁচাতে হবে : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী