October 10, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

উপশহর পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া কমপ্লেক্স

ডেস্ক:  খুব শিগগিরই উপশহর পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও একটি কনভেনশন সেন্টার নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

সোমবার রাজউক আওতাধীন পূর্বাচল এলাকায় আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার, স্পোর্টস সেন্টার এবং আইকনিক টাওয়ার স্থাপন সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেণ শিকদার, গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব, যুব ও ক্রীড়া সচিব, স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি, পিপিপি অফিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বৈঠকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। অনেক দিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে কাজ হচ্ছে। নানা জটিলতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে একটু দেরি হচ্ছে। তবে প্রায় সব জটিলতা দূর হয়েছে। খুব শিগগিরই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘মূলতঃ তিনটি বিষয় নিয়ে কাজ হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ, একটি কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ এবং একটি আইকনিক ভবন নির্মাণ। এর মধ্যে ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও কনভেনশন সেন্টার নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় খুব শিগগির আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কেপিসি গ্রুপের কর্ণধার কালী প্রদীপ চৌধুরী অসুস্থ থাকায় তিনি বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি বলে আইকনিক টাওয়ারের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। আশা করছি, আগামী ৪/৫ দিনের মধ্যে তিনি বাংলাদেশে আসবেন। তখন তার সঙ্গে কথা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
সূত্র জানায়, মোট ৩০ বিঘা জমির উপর ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। ক্রীড় কমপ্লেক্সে এক সঙ্গে ৬০ হাজার দর্শক যেকোনো ক্রীড়া অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন। এখানে আন্তর্জাতিক মানের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে। ক্রীড়া কমপ্লেক্সটি নির্মাণ হলে এটিই হবে দেশে সর্বাধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলা হবে কনভেনশন সেন্টারটি।

তবে জানা গেছে, ১৪২ তলা আইনকনিক টাওয়ারসহ ক্রীড়া কমপ্লেক্স এবং কনভেনশন সেন্টারটি নির্মাণের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী কালী প্রদীপ চৌধুরী। তিনি প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে ১১৩ বিঘা জমি চেয়েছেন।

সূত্র জানায়, পূর্তমন্ত্রী বৈঠকে ৬০ বিঘার নিচে জমির ওপর পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সুপারিশ করেন। আইকনিক টাওয়ার নির্মাণে তিনি দুবাইয়ের ‘বুর্জ আল খলিফা’ এবং ‘পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার’ এর নির্মাণশৈলী অনুসরণের সুপারিশ করেন।

আইকনিক টাওয়ার নির্মাণ হলে এটি হবে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ও বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ ভবন।

রাজউক ঘোষিত সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট (সিবিডি) এলাকায় আইকনিক টাওয়ারটি নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন নির্মিত হচ্ছে সৌদি আরবের জেদ্দায়। ২০০ তলা এই ভবনের উচ্চতা হবে ৩ হাজার ২৮০ ফুট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভবন ২০১০ সালে নির্মিত হয়েছে দুবাইয়ে। ১৬৩ তলা এই ভবনের উচ্চতা ২ হাজার ৭১৭ ফুট। এ ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য সুউচ্চ ভবনের মধ্যে রয়েছে সাংহাইয়ের ১২৩ তলা সাংহাই টাওয়ার এবং সৌদি আরবের মক্কায় ১২০ তলা মক্কা রয়্যাল ব্লক টাওয়ার। প্রতিবেশী দেশ ভারতের মুম্বাইয়ে ১১০ তলা একটি ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া চলমান।

এর আগে রাজধানী ঢাকার অদূরে পূর্বাচলে প্রস্তাবিত দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ ১৪২ তলা ‘আইকনিক টাওয়ার’ নির্মাণের প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী।  তিনি বলেন,  ‘১৪২ তলা এই টাওয়ারের নকশা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এই ভবনের দিকে তাকালে মুক্তিযুদ্ধের কথা মনে পড়বে। এটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে দুই পাশ থেকেই ‘৭১’ লেখা ফুটে উঠবে।