ডেস্ক : নিউজিল্যান্ড সফরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ ৭৭ রানে পরাজিত হয়েছে। ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশকে ৩৪২ রানের বিশাল চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় নিউজিল্যান্ড। যার জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২৬৪ রানেই ইনিংস গুটিয়ে যায় টাইগারদের।
সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) ক্রাইস্টচার্চের হেগলি ওভালে টসে হেরে বাংলাদেশ শুরুটা ভালোই করেছিল। ইনজুরি কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে ফিরে উইকেট পেতেও বেশি সময় নেননি মোস্তাফিজুর রহমান। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে তিনিই কিউইদের ব্যাটসম্যান মার্টিন গাপটিলকে ফিরান। মোস্তাফিজের দুরন্ত এক স্লোয়ার বলে ব্যক্তিগত ১৫ রানেই বিদায় নেন গাপটিল।
বড় কোনো ইনিংস খেলতে পারেননি কেন উইলিয়ামসন (৩১), নেইল ব্রুম (২২) ও জেমস নিশামও (১২)। ২৯ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে কিউইদের সংগ্রহ ছিল ১৫৮ রান।
তবে পঞ্চম উইকেটে ১৫৮ রানের ঝড়ো জুটি গড়ে ঘুরে দাঁড়ান ল্যাথাম ও মুনরো। ৪৭তম ওভারে সাকিব যখন এই জুটি ভাঙেন, ততক্ষণে কিউইদের স্কোরবোর্ডে জমা হয়ে গেছে ৩১৬ রান। ৬১ বলে ৮৭ রানের ঝড়ো ইনিংসে এসেছে কলিন মুনরোর ব্যাট থেকে। ল্যাথাম পূর্ণ করেছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ শতক। ৪৮তম ওভারে মুস্তাফিজের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে তিনি খেলেছেন ১২১ বলে ১৩৭ রানের ইনিংস। এটি তার নতুন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। শেষ দিকে মিচেল স্যান্টনারের ৮ ও টিম সাউদির ৭ রানে ভর করে কিউইদের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩৪১ রান।
ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে ফিরে পুরো ১০ ওভারই বল করেছেন মোস্তাফিজ। ল্যাথাম-মুনরোর তাণ্ডবে সবচেয়ে রান দিয়েছেন এই বাঁহাতি পেসারই। ১০ ওভার বল করে তিনি খরচ করেছেন ৬২ রান। নিয়েছেন দুটি উইকেট। বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার অবশ্য সাকিব আল হাসান। ১০ ওভার বল করে ৬৯ রান খরচে সাকিব নিয়েছেন তিনটি উইকেট। আর বাকি দুটি উইকেট গিয়েছে তাসকিন আহমেদের ঝুলিতে।
৩৪২ রানের বিশাল চ্যালেঞ্জের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। তবে দলীয় ৩৪ রানে বাংলাদেশের ওপেনার ইমরুল কায়েস ব্যক্তিগত ১৬ রানে ফিরেছেন সাজঘরে। কিউই বোলার টিম সাউদির বলে লুক রনকির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন এই ব্যাটসম্যান। মুখোমুখি হওয়া নিজের দ্বিতীয় বলেই আউট হতে পারতেন কায়েস। এই সাউদির বলেই তাকে ফিরতি ক্যাচ দিয়েও যাত্রায় বেঁচে যান। পরে তিনি ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের রানের খাতা খুলেন।
ম্যাচের শুরুতেই জীবন পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি কায়েস। ৭.৩ ওভারে লেগ স্টাম্পের বাইরেরে শের্ট বলে ক্যাচ দেন উইকেটরক্ষক রনকির হাতে। আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নেন কায়েস। তবে তা কাজে লাগেনি। তাকে দলীয় ৩৪ রানে ফিরেই যেতে হয়েছে।
এছাড়া প্রস্তুতি ম্যাচ রানে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও সৌম্য সরকার কিন্তু এদিনের ম্যাচেও বরাবরের মতোই ব্যর্থ হয়ে ফিরেছেন। জেমস নিশামের বলে মিডঅফে কেন উইলিয়ামসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৮ বলে ১ রান করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।
সৌম্যকে ফেরানোর পর মাহমুদউল্লাহকেও বিদায় করেছেন নিশাম। অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক রনকিকে ক্যাচ দেন বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য এই ব্যাটসম্যান। তিন বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই ফিরতে হয়েছে তাকে। এ সময় বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৪৮/৩।
আবারও বাংলাদেশ শিবিরে নিশাম আঘাত হানেন। শুরু থেকেই দেখেশুনে খেলা বাংলাদেশের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবালকে এবার ফেরান তিনি। সাকিব আল হাসানের সঙ্গে সুন্দর একটি জুটির গড়ার সম্ভাবনাও জাগিয়ে তুলেছিলেন তামিম। ১৮তম ওভারে নিশামের শেষ বলে আপার কাট করে ডিপ পয়েন্টে মিচেল স্যান্টনারের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন এই নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান। আউট হওয়ার আগে তিনি ৫টি চারের মারে ৫৯ বলে ৩৮ রান করেন।
পরে দলকে ভালোই পথ দেখাচ্ছিলেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তার ব্যাটে ভর করেই কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল বাংলাদেশ দল। বল হাতে চমকের পর ব্যাট হাতেও লড়াই করেন তিনি। মিচেল স্যান্টনারের বলে ১ রান নেওয়ার মধ্য দিয়ে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। তবে এরপরে আর বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকা হয়নি তার। দলীয় ১৪৪ রানে ফার্গুসনের বলে সাউদির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। আউট হওয়ার আগে তিনি ৫৪ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কার মারে সংগ্রহ করেন ৫৯ রান।
সাকিবের আউটের পর মুশফিকের সঙ্গে যোগ দিতে আসেন সাব্বির রহমান। তবে তিনি খুব দ্রুতই বিদায় নিয়েছেন মাঠ থেকে। একটি ছক্কার মারে ১০ বলে ১১ রান করে ফার্গুসনের বলে বোল্টের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরন এই মারকুটে ব্যাটসম্যান। এ সময় বাংলাদেশের দলীয় রান ছিল ১৬৭।
এ সময় মাঠে বেশ মানিয়ে নিয়েছিলেন মুশফিক। সতর্কভাবে খেলে দলে রান যোগ করছিলেন তিনি। তবে ৩৯তম ওভারে সাউদির দ্বিতীয় বলে ১ রান নিতে গিয়ে পায়ে চোট পেয়েছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। পরে তিনি রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফিরে যান সাজঘরে। তিনি ৩টি চারের মারে ৪৮ বলে ৪২ রান করেন।
মুশফিক রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে সাজঘরে ফিরলে মাঠে নামেন দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। তবে তিনি ৩টি চারের মারে ১৪ রান করেই ফিরেছেন সাজঘরে। এরই মাঝে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মোসাদ্দেক হোসেন। শেষ দিকে তার ব্যাটে ভর করেই হারের ব্যবধান কিছুটা কমায় বাংলাদেশ দল। তিনি ৫টি চার ও ৩টি ছক্কার মারে ৪৪ বলে ৫০ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন। শেষ অব্দি সব উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬৪ রান।
কিউইদের হয়ে জেমস নিশাম ও লকি ফার্গুসন ৩টি করে উইকেট নেন। আর টিম সাউদি ২টি ও মিচেল স্যান্টনার ১টি উইকেট নেন।

এ বিভাগের আরো..
ঝিনাইদহে ফুটবল খেলার মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন
বিশ্ব ফুটবলে ২০২৩ সালের শীর্ষ ১০ ঘটনা
অস্ট্রেলিয়া হেডের সেঞ্চুরিতে রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ