October 10, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে ছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : শিক্ষকের হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মতিঝিলে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র মোঃ ওয়ারেসুল ইসলাম (হিমেল)। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই ছাত্রের মা জেসমিন নাহার।

সোমবার মহাপরিচালকের কাছে এই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এর আগে গত শনিবার মতিঝিল থানায় জিডি করেন ওই ছাত্রের মা জেসমিন নাহার।

জিডি ও মহাপরিচালকের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে ওই ছাত্রের মা বলেন, তাঁর সন্তান মো. ওয়ারেসুল ইসলাম বিদ্যালয়টির মতিঝিল শাখার দিবা শাখায় দশম শ্রেণিতে পড়ে। ২৫ অক্টোবর আনুমানিক বিকেল চারটায় রসায়ন বিষয়ের ব্যবহারিক বাছাই (টেস্ট) পরীক্ষা চলাকালীন ২০৫ নম্বর কক্ষে ওই বিভাগের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মিথ্যা দোষারোপ করে কাঠের বেত দিয়ে তাঁর ছেলেকে মারতে মারতে নিচে ফেলে দেন। এরপরও অনবরত আঘাত করে রক্তাক্ত করে ফেলেন। এরপর বললেন ‘যা পরীক্ষা দে’।

এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচার চাইলে সহকারী প্রধান শিক্ষক আবদুস সালাম খান তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়েও কোনো পদক্ষেপ নেননি। এ কারণে তিনি থানায় জিডি করেন। কিন্তু এখনো বিচার পাননি। বর্তমানে তাঁর ছেলে চিকিৎসাধীন আছে ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অভিযোগপত্রের সঙ্গে চিকিৎসার কাগজপত্রও দেওয়া হয়।

student-22

ছাত্রকে নির্যাতন সম্পর্কে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন বলেন, ওই ছাত্র পরীক্ষার হলে নকল করেছিল। এ জন্য বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী ওই ছাত্রের ছাত্রত্ব চলে যেত। এ কারণেই তাকে একটু শাসন করে ছেড়ে দিয়েছেন। এটাই সত্য। এখন এটাকে ভিন্নভাবে নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়টির সহকারী প্রধান শিক্ষক আবদুস সালাম খান বলেন, তাঁর কাছে কেউ অভিযোগ করেননি। থানা থেকে তদন্ত কর্মকর্তা ফোন করার পর বিষয়টি তিনি জানতে পারেন। তখন ওই ছাত্রের অভিভাবকদের ডেকে আনেন। তদন্ত করলে অন্য ছাত্ররা বলে, ওই ছাত্র শিট দেখে লিখেছিল, এ জন্য শিক্ষক চড়থাপ্পড় দিয়েছেন। এ জন্য তিনি ওই অভিভাবকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষকও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ভবিষ্যতে আর এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না বলেও অভিভাবকদের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে এটা ঠিক যে মারধর করাটা অন্যায় হয়েছে।

উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি নিষিদ্ধ|