নিজস্ব প্রতিবেদক : কল্যাণপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে নিহত ৯ জন ‘সন্ত্রাসী’ গুলশানের হামলাকারীদের মতো শিক্ষিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘আজকে (মঙ্গলবার) কল্যাণপুরে অপারেশনে যারা নিহত হয়েছে, তাদের অনেকে শিক্ষিত। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) আয়োজিত ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘কল্যাণপুরে জঙ্গিরা কোনো ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করছিল। গোয়েন্দা বাহিনী সেটা জানতে পেরে ত্বরিত ব্যবস্থা নিয়েছে। এতে ৯ জঙ্গি মারা গেছে। একজন পালিয়েছে এবং একজন ধরা পড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত সফলতার সাথে আমাদের পুলিশ বাহিনী এ অপারেশনটা চালিয়েছে। তারা (সন্ত্রাসীরা) সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত ছিল, বোঝা যাচ্ছিল যে তারা যে কোনো ধরনের নাশকতা ঘটানোর জন্য তৈরি হয়ে ছিল। এ পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে বিরাট বড় ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে দেশ রক্ষা পেয়েছে।’
এ ঘটনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, ইসলাম শান্তির ধর্ম। মানুষ খুন করা ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলাম ধর্মের নামে যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে তারা প্রকৃতপক্ষে ইসলামকে কলুষিত করে। এরা ইসলামের বন্ধু নয়, শত্রু। দেশে নতুন উপসর্গ দেখা দিয়েছে। একদল ধর্মান্ধ ইসলামের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মানুষ হত্যায় মেতে উঠেছে। বেশ কিছুদিন ধরে বিচ্ছিন্নভাবে সন্ত্রাসীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরীহ মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করে আসছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এ সন্ত্রাস অবশ্যই মোকাবিলা করতে হবে এবং এটা প্রতিরোধ করতেই হবে। এটাই হচ্ছে সব থেকে বেশি প্রয়োজন। মানুষের জীবন-মান নিশ্চিত করা আমাদের লক্ষ্য। দেশে জঙ্গিবাদ সমস্যা দেখা দিয়েছে। যদিও এটা নতুন না। ১৯৭৫ সালের পর থেকেই এ জঙ্গিবাদ হচ্ছে। তবে নতুন সমস্যা হচ্ছে, ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষ খুন। অথচ ইসলাম ধর্ম শান্তির কথা বলে। তাই যেভাবেই হোক সন্ত্রাস অবশ্যই মোকাবেলা করতে হবে, প্রতিরোধ করতে হবে। মানুষের জীবন নিরাপদ করতে হবে। আমরা চাই না আমাদের দেশটা সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য হোক।’
সবার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এ সমস্যা একক প্রশাসনিক প্রচেষ্টায় মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। এটা সম্মিলিতভাবে সমাধান করতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে করতে হবে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে, সারাদেশে জঙ্গিবাদবিরোধী ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে, এটিকে কাজে লাগাতে হবে।’
জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জেলা প্রশাসক-বিভাগীয় কমিশনারদের নিজ নিজ এলাকায় চলমান জঙ্গি-সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি গঠনের কাজে মূল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ১০৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। ৭৬ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। কোনো অঞ্চল অন্ধকারে থাকবে না। সরকার জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক শূন্য ৫ ভাগে উন্নীত করেছে। আগামীতে এ লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ২ ভাগে উন্নীত করা হবে। সরকারের লক্ষ্য দারিদ্র্য বিমোচন করা। ২০২১ সালের আগেই দারিদ্র্য ৮ থেকে ১০ ভাগ কমানোর পরিকল্পনা নিয়ে করাজ করছে সরকার।

এ বিভাগের আরো..
ঢাকা-ব্রাজিল সামগ্রিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর
দুই সিটির নবনির্বাচিত মেয়ররা শপথ নিলেন
শেখ হাসিনা গাজা পুনর্দখলের ইসরাইলি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন