ডেস্ক : মহাত্ম বা সম্মান, এই মহাত্ম ও সম্মানের কারণে একে লাইলাতুল ক্বদর, তথা মহিমান্বিত রাত বলা হয়। ১২টি মাসের মধ্যে ফযিলতপূর্ণ মাস হল রমযান মাস। এই মাসের একটি রাত্র হচ্ছে লাইলাতুল ক্বদর। যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।
ক্বদরের রাত্রের ফযিলত ও মহাত্ম সম্পর্কে কুরআনুল করিমে সূরাতুল ক্বদর নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা নাযিল হয়েছে। অর্থঃ (১) নিশ্চয়ই আমি একে (পবিত্র কুরআনকে) নাযিল করেছি শবে ক্বদরে। (২) শবে ক্বদর সম্বন্ধে আপনি কী জানেন? (৩) শবে ক্বদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। (৪) এই রাত্রিতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। (৫) এটা নিরাপত্তা যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সুরা ক্বদর) মহান আল্লাহ আরও বলেন, অবশ্যই আমি কুরআন নাযিল করেছি একটি বরকতপূর্ণ রাতে।” (সুরা দুখান: ৩)
ব্যাখ্যা : বরকতপূর্ণ রাতের দ্বারা বিভিন্ন তাফসিরবিদগণ শবে ক্বদরকে বুঝিয়েছেন। শবে ক্বদরের ফযিলত ও মহাত্ম সম্পর্কে কুরআন পাকের এই বর্ণনাই যথেষ্ট। এ কারণে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্বদর রজনীর ফযিলত সম্পর্কে তেমন কিছু বলেন নাই। তবে উহা কোন মাসে কোন তারিখে হতে পারে এবং উহা কারও নসীব হলে সে তখন আল্লাহর নিকট কি চাইবে সে সম্পর্কে তিনি উপদেশ দিয়েছেন।
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াব হাসিলের উদ্দেশ্যে ক্বদরের রাতে ইবাদত করে তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। (বুখারী ও মুসলিম)।
আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা শবে ক্বদর তালাশ কর। রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিতে। (বুখারী)।
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রমযানের শেষ দশক শুরু হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারা রাত জাগতেন, নিজের পরিবারবর্গকেও জাগাতেন এবং (আল্লাহর ইবাদতে) খুব বেশি সাধনা ও পরিশ্রম করতেন। (বুখারী ও মুসলিম)।
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশ দিন এতেকাফ করতেন এবং বলতেন, তোমরা রমযানের শেষ দশ রাতে শবে ক্বদর সন্ধান কর। (বুখারী ও মুসলিম)।
আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের প্রথম দশ দিন এতেকাফ করলেন। এ সময় একবার মাথা বের করে বললেন, আমি ক্বদরের রাত্রি তালাশ করতে গিয়ে প্রথম দশকে এতেকাফ করেছি, অতঃপর মধ্যম দশকেও এতেকাফ করেছি। অতঃপর স্বপ্নে আমার নিকট কেউ এসে বলল ক্বদর রজনী শেষ দশকে। অতএব যে ব্যক্তি আমার সাথে প্রথম দশকে এতেকাফ করেছে, সে যেন শেষ দশকেও এতেকাফ করে। নিশ্চয় উহা আমাকে স্বপ্নে দেখান হয়েছিল। কিন্তু পরে উহা আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মনে পড়ে আমি ওই রাত্রির ফজরে নিজেকে পানি আর কাদার মধ্যে সিজদা করতে দেখেছি।
অতএব, তোমরা উহা শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিতেই তালাশ করবে।
আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, সেই রাতেই আকাশ ভারিবর্ষণ করল। মসজিদ তখন ছাপড়া ছিল, অতএব, ছাদ থেকে পানি পড়ল। তখন আমার দু’চোখ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখল, যে তার কপালে পানি ও কাদার দাগ লেগেছে। আর তা ছিল একুশ তারিখের সকাল, তবে আবদুল্লাহ ইবনে উনাইসের বর্ণনায় রয়েছে- তেইশ তারিখের সকাল। (বুখারী ও মুসলিম) ব্যাখ্যা : উপরোক্ত হাদিসের দ্বারা বুঝা গেল শবে ক্বদর প্রত্যেক বৎসর একই তারিখে হয় না। তবে সকল বর্ণনাকারীর একমত রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে হয়।
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি ক্বদরের রাত খুঁজে পাই, তাহলে আমি ওই রাতে কী বলবো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন, তুমি বলবে- (আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুব্বুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী) অর্থ: হে আল্লাহ তুমি অবশ্যই ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা পছন্দ করো, কাজেই আমাকে ক্ষমা করো। (তিরমিযী)।
মহিমান্বিত রজনীর নিদর্শনসমূহ :
১. কদরের রাত্রি তিমিরাচ্ছন্ন হবে না।
২. নাতিশীতোষ্ণ হবে। ( না গরম না শীত এমন )
৩. মৃদু বায়ু প্রবাহিত হবে।
৪. উক্ত রাতে মু’মিনগণ কিয়ামুল লাইল বা ইবাদত করে অন্যান্য রাত অপেক্ষা অধিক তৃপ্তি বোধ করবে।
৫. হয়তো বা আল্লাহ তা’আলা কোনো ঈমানদার ব্যক্তিকে উহা স্বপ্নে দেখাবেন। (দেখুন : ইবনে খুযায়মা, ইবনে হিব্বান, মুসনাদে আহমদ)
৬. ওই রাতে বৃষ্টি বর্ষণ হতে পারে। (বুখারী)
৭. সকালে হালকা আলোক রশ্মিসহ সূর্যোদয় হবে, পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায়। (মুসলিম)
লাইলাতুল কদর বা কদরের রাতে আমাদের কি কি করণীয়?
কুরআন ও হাদীসের আলোকে এ রাতে আমাদের করণীয় হলো :-
(১) মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের ভিত্তিতে প্রত্যেক অভিভাবক নিজে রাত জাগবেন এবং পরিবার-পরিজনকে জাগরণে উদ্বুদ্ধ করবেন।
(২) সাধ্যানুপাতে তারাবীহ বা তাহাজ্জুদ নামায লম্বা কিরাআত ও লম্বা রুকু সিজদা দ্বারা দীর্ঘক্ষণ যাবৎ আদায় করবেন। সিজদায় তিন বা ততোধিক বার সিজদার তাসবীহ পাঠ করে কুরআন ও হাদীসে উল্লেখিত দু’আসমূহ পাঠ করবেন। এ মর্মে বিশুদ্ধ হাদীসও রয়েছে। অনেকে আবার খুব পেরেশান থাকেন যে, কদরের নামাযের নিয়্যাত কি হবে ? কোন-কোন সূরা দিয়ে নামায পড়তে হবে ? আমাদের ভালভাবে জানা থাকা প্রয়োজন যে, ইশার নামাযের পর থেকে নিয়ে ফযর পর্যন্ত যে নফল নামায পড়া হয়, তাকে বলা হয় কিয়ামুল-লাইল বা তাহাজ্জুদ। অতএব কদরের রাতে ইশার পর থেকে ফযর পর্যন্ত যত নামায পড়া হবে সে গুলোকে নফলও বলা যাবে অথবা তাহাজ্জুদও বলা যাবে। লাইলাতুল কদর উপলক্ষে নামাযের জন্য বিশেষ কোন নিয়্যাত নেই বা অমুক-অমুক সূরা দিয়ে পড়তে হবে এমনও কোন বাধাধরা নিয়ম নেই।
(৩) অতীতের করীরা গুনাহ বা বড় পাপের জন্য একনিষ্ঠভাবে তাওবা করবেন ও অধিকরূপে ইস্তেগফার করবেন।
(৪) কুরআন মাজীদ পাঠ করবেন। শরীয়াত সম্মত পদ্ধতিতে তথা চুপিসারে, একাকী, রিয়ামুক্ত অবস্থায় যিকির-আযকার করবেন। (৫) পাপ মোচনসহ পার্থিব ও পরকালীন সার্বিক মুক্তি ও কল্যাণের জন্য বিনয়ী ভাবে একাগ্রচিত্তে দু’আ কবুলের প্রত্যাশা নিয়ে দু’আ করবেন। নিম্নের দু’আ বিশেষভাবে পাঠ করবেন, “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউয়ুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী”।
নিঃসন্দেহে ওই বরকতপূর্ণ রাতটি যে ব্যক্তি অবহেলায় বা অলসতায় অবমূল্যায়ন করল, এর যথার্থ গুরুত্বারোপ করল না, সে সমূহকল্যাণ থেকে নিজকে বিরত রাখল। প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির উচিত যে, ওই রাতের যথাযথভাবে হক আদায় করে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণ, ফযীলত, বরকত ও আশাতীত সওয়াব লাভে ধন্য হওয়া। আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে বেশি-বেশি করে ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে লাইলাতুল কদরের ফযীলত অর্জন করে তার নৈকট্য লাভের তাওফীক দান করুন।
রমযানের শেষ দশ দিনের মধ্যে এমন এক রাত আছে যাকে লায়লাতুল কদর এবং “লায়লাতুম মুবারাকাতুন” বলা হয়েছে এবং তাকে এক হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম বলা হয়েছে। কুরআন বলেঃ “ইন্না আনজালনাহু ফী লাইলাতিম মুবারকাতিন – (সূরা আলহাদীদ: ১) মানে “আমরা এ কিতাবকে এক মুবারক রাতে নাযিল করেছি।”
দ্বিতীয় আর এক স্থানে কুরআন বলেঃ “অবশ্যই আমরা এ কুরআনকে ‘লায়লাতুল কদরে’ নাযিল করেছি। তুমি জান, লায়লাতুল কদর কি? তা হচ্ছে এমন এক রাত যা হাজার মাস অপেক্ষাও উৎকৃষ্ট।”- সূরা আল কদর)
লায়লাতুল কদরের অর্থঃ কদরের দুটি অর্থ
এক- নির্ধারণ করা, সময় নির্দিষ্ট করা ও সিদ্ধান্ত করা। অর্থাৎ লায়লাতুল কদর এমন এক রাত যে রাতে আল্লাহ প্রত্যেক বস্তুর সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করেন। তার সময় নির্দিষ্ট করেন এবং হুকুম নাযিল করেন ও প্রত্যেক বস্তুর ভাগ্য নির্ধারণ করেন। “ওই রাতে সকল বিষয়ের সুষ্ঠু ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয় আমাদের নির্দেশক্রমে”-(সূরা দুখান) সূরা আল কদরে আছেঃ “তানাজজালুল মালাইকাতু ওয়ার রুহু ফীহা বিইজনি রব্বিহিম মিনকুল্লি আমর্।-অর্থাৎ “এ রাতে ফেরেশতাগণ এবং বিশেষ করে জিবরাঈল নাযিল হন- যারা তাঁদের রবের নির্দেশে সকল কার্য সম্পাদনের জন্য নিচে নেমে আসেন।”- (সূরা আল কদরঃ ৪)
দুই- কদরের দ্বিতীয় অর্থ মহত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব। অর্থাৎ লায়লাতুল কদর এমন এক রাত আল্লাহর নিকট যার বিরাট মহত্ব ও ফযীলত রয়েছে। তার মর্যাদা ও মহত্বের এ প্রমাণই যথেষ্ট যে, আল্লাহ সে রাতে কুরআনের মতো বিরাট নিয়ামত নাযিল করেছেন। এর চেয়ে বৃহত্তর কোনো নিয়ামত না মানুষ ধারণা করতে পারে আর না কামনা করতে পারে। এ মঙ্গল ও বরকত এবং মহত্ব ও ফযীলতের ভিত্তিতেই কুরআন তাকে এক হাজার মাস (৮৩ বছর কত মাস হয় কোথায় দেখেছিলাম মনে করতে পারছি না, তবে যাঁরা অংক ভালো জানেন তাঁরা ক্যালকুলেট করতে পারবেন) অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর বলে ঘোষণা করেছে (লাইলাতুল ক্কদরি খইরুম মিন আলফি শাহারঃ আলফ মানে হাজার, শাহার মানে মাস)।
লাইলাতুল কদর নির্ধারণ : নিম্নে উল্লেখিত হাদীসগুলো থেকে জানা যায় যে, এ রমযান মাসের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোর মধ্যে কোনো একটি অর্থাৎ ২১শে, ২৩শে, ২৫শে, ২৭শে, অথবা ২৯শে রাত।
হযরত আয়েশা (রা) বলেন, নবী (স) বলেছেন- রমযানের শেষ দশ রাতের বেজোড় রাতগুলোর মধ্যে লায়লাতুল কদর তালাশ কর।–(বুখারী) এ রাতকে সুস্পষ্ট করে চিহ্ণিত না করার তাৎপর্য এই যে, রমযানের এ শেষ দশ দিনে যাতে করে যিকির ও ইবাদাতের বেশি করে ব্যবস্থাপনা করা যায়।
হযরত আয়েশা (রা) বলেন, নবী (স) রমযানের শেষ দশ দিন যিকির ও ইবাদাতের এমন ব্যবস্থা করতেন যা অন্য সময়ে করতেন না।–(মুসলিম)|
এ রাতে বেশি বেশি নামায- বন্দেগী, যিকির ইত্যাদির প্রেরণা দান করে নবী (স) বলেন, যখন লায়লাতুল কদর আসে, তখন জিবরাঈল অন্যান্য ফেরেশতাগণের সাথে যমীনে নেমে আসেন এবং প্রত্যেক ওই বান্দাহর জন্যে রহমত ও মাগফেরাতের দোয়া করেন যে দাঁড়িয়ে বসে আল্লাহর ইয়াদ ও ইবাদাতে মশগুল থাকে।–(বায়হাকী)
নবী (স) আরও বলেন, লোক সকল! তোমাদের মধ্যে এমন এক রাত এসেছে যা হাজার মাস থেকেও উত্তম। যে ব্যক্তি এ রাত থেকে বঞ্চিত রইলো সে সকল প্রকার কল্যাণ থেকে বঞ্চিত রয়ে গেল এবং এ রাত থেকে সে-ই বঞ্চিত থাকে যে প্রকৃতপক্ষে বঞ্চিত। –(ইবনে মাজাহ) আল-কোরআনে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি লাইলাতুল কদর কোন রাত। তবে কুরআনের ভাষ্য হল লাইলাতুল কদর রমজান মাসে। কিয়ামত পর্যন্ত রমজান মাসে লাইলাতুল কদর অব্যাহত থাকবে। এবং এ রজনী রমজানের শেষ দশকে হবে বলে সহি হাদিসে এসেছে। এবং তা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে হাদিসে এসেছে। রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ কর।” (বর্ণনায় : বোখারি) এবং রমজানের শেষ সাত দিনে লাইলাতুল কদর থাকার সম্ভাবনা অধিকতর। যেমন হাদিসে এসেছে : “যে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করতে চায় সে যেন শেষ সাত দিনে অন্বেষণ করে।” (বর্ণনায় : বোখারি ও মুসলিম)
অধিকতর সম্ভাবনার দিক দিয়ে প্রথম হল রমজান মাসের সাতাশ তারিখ। দ্বিতীয় হল পঁচিশ তারিখ। তৃতীয় হল ঊন ত্রিশ তারিখ। চতুর্থ হল একুশ তারিখ। পঞ্চম হল তেইশ তারিখ। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ রাতকে গোপন রেখেছেন আমাদের উপর রহম করে। তিনি দেখতে চান এর বরকত ও ফজিলত লাভের জন্য কে কত প্রচেষ্টা চালাতে পারে। লাইলাতুল কদরে আমাদের করণীয় হল বেশি করে দোয়া করা।
আয়েশা রা. নবী করিম স.-কে জিজ্ঞেস করলেন, লাইলাতুল কদরে আমি কি দোয়া করতে পারি? তিনি বললেন, বলবে : “হে আল্লাহ ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে ভালোবাসেন, অতএব আমাকে ক্ষমা করুন।” (তিরমিজি)।
মহিমাময় রজনী লাইলাতুল কদর রমজানের শেষ দশকে অবস্থিত। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ রাতকে সকল রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দিয়েছেন। তিনি তার কালামে এ রাতকে প্রশংসার সাথে উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁর কালাম সম্পর্কে বলতে যেয়ে এরশাদ করেন “আমি তো ইহা অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রজনীতে। আমি তো সতর্ককারী। এ রজনীতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়।” (সূরা আদ-দুখান: ৩-৪)
বরকতময় রজনী হল লাইলাতুল কদর। আল্লহ তাআলা একে বরকতময় বলে অভিহিত করেছেন। কারণ এ রাতে রয়েছে যেমন বরকত তেমনি কল্যাণ ও তাৎপর্য। বরকতের প্রধান কারণ হল এ রাতে আল-কোরআন নাজিল হয়েছে। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়-সিদ্ধান্ত লওহে মাহফুজ থেকে ফেরেশতাদের হাতে অর্পণ করা হয় বাস্তবায়নের জন্য। এ রাতের অপর একটি বৈশিষ্ট্য হল আল্লাহ তাআলা এ রাত সম্পর্কে একটি পূর্ণ সূরা অবতীর্ণ করেছেন। যা কিয়ামত পর্যন্ত পঠিত হতে থাকবে।
“নিশ্চয় আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি এক মহিমান্বিত রজনীতে। আর মহিমান্বিত রজনী সম্পর্কে তুমি কী জান ? মহিমান্বিত রজনী সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতেই ফেরেশতাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, সে রজনী উষার আবির্ভাব পর্যন্ত। (সূরা আল-কদর)
এ সুরাতে যে সকল বিষয় জানা গেল তা হল :
(১) এ রাত এমন এক রজনী যাতে মানবজাতির হেদায়াতের আলোকবর্তিকা মহা গ্রন্থ আল-কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে।
(২) এ রজনী হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। অর্থাৎ তিরাশি বছরের চেয়েও এর মূল্য বেশি।
(৩) এ রাতে ফেরেশতাগণ রহমত, বরকত ও কল্যাণ নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করে থাকে।
(৪) এ রজনী শান্তির রজনী। আল্লাহর বান্দারা এ রাতে জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি পেয়ে শান্তি অর্জন করে থাকে।
(৫) সময়ের প্রতি গুরুত্ব দেয়া। এ আয়াতগুলোতে অল্প সময়ে বেশি কাজ করার জন্য উৎসাহ প্রদান করা হল। যত সময় বেশি তত বেশি কাজ করতে হবে। সময় নষ্ট করা চলবে না।
(৬) গুনাহ ও পাপ থেকে ক্ষমা লাভ। এ রাতের এই ফজিলত সম্পর্কে বোখারি ও মুসলিম বর্ণিত হাদিসে এসেছে নবী করিম (স) বলেছেন : যে লাইলাতুল কদরে ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে সালাত আদায় ও ইবাদত-বন্দেগি করবে তার অতীতের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (বর্ণনায় : বোখারি ও মুসলিম)।
আল্লাহ আমাদের সকলকে লাইলাতুল কদরের সান্নিধ্য পাওয়ার তওফিক দান করুন । আমীন

এ বিভাগের আরো..
চলতি বছরের ফিতরা জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৭০ টাকা ও সর্বনিম্ন ১১৫ টাকা
হাইকোর্টের আদেশ আপিলে স্থগিত, রমজানে স্কুল খোলা
সৎসঙ্গ বিহারে ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের জন্ম মহোৎসব