November 6, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

ঈদুল ফিতরকে ঘিরে কর্মমুখর টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লী

ডেস্ক প্রতিবেদন : ঈদের আগেই নিপুণ হাতে ঈদের বিশেষ শাড়ি তৈরি শেষ করতে হবে। এ কারণেই তাঁতপল্লী এখন উৎসবমুখর আর তাঁতীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তাঁত শিল্পের সুঁতা প্রস্তুত, রং করা, শাড়ি প্রস্তুতসহ শাড়ি বিক্রি পর্যন্ত যারা সম্পৃক্ত তাদের সবাই পার করছেন কর্মব্যস্ত সময়।

আর কয়েকদিন পরেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। মুসলিম সম্প্রদায়েরর অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব। দিনটিকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের ঘরে ঘরে চলছে উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি। উৎসবের এ দিনটিকে আরও রঙ্গিন ও আনন্দময় করতে প্রত্যেকেই চাই নতুন কাপড়। নারীর চাই নতুন শাড়ি। আর সেই নতুন শাড়িটা যদি হয় টাঙ্গাইলের তাঁতের তৈরি তাহলে আনন্দে যোগ হয় ভিন্ন মাত্রা। আর ঈদের দিনের জন্য পুরুষদের চাই পাঞ্জাবি। টাঙ্গাইলের তাঁতের পাঞ্জাবির প্রতি পুরুষদের রয়েছে এক ধরনের দুর্বলতা। ঈদে নারী-পুরুষের সেই চাহিদা পূরণ করতে ব্যস্ত এখন টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লী।

টাঙ্গাইল সদরের বাজিতপুর, দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল, চণ্ডী ও কালিহাতীর বল্লা রামপুরের তাঁত সমৃদ্ধ এলাকায় একই চিত্র দেখা যায়। ভোর হতে শুরু হয় তাঁতের সেই খটখটি শব্দ। রাতভর কাজ করেও তাঁতির ক্লান্তি নেই। উৎপাদন যত বেশি হবে, সাপ্তাহিক বিল ততো বেশি পাবে। উৎপাদিত শাড়ির মজুরির ওপর নির্ভর করবে সাধারণ তাঁতীদের ঈদ আনন্দ।

টাঙ্গাইল তাঁতশিল্পী সমিতির আহ্বায়ক বিবেক বসাক বলেন, ঈদকে সামনে রেখে এ শিল্পে পরিবর্তন এসেছে। কারিগরসহ কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে সম্পৃক্ত সকলে কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন।

ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে নেমেছে নতুন শাড়ি। শাড়িতে যোগ হয়েছে বাহারি রং আর নতুন কারুকাজ। বুটিক আর নতুন নকশায় তৈরি এই শাড়ি শুধু ঈদ উৎসবের জন্য।

দেশের সবচেয়ে বড় তাঁতের শাড়ির হাট টাঙ্গাইলের করটিয়া ঘুরে দেখা যায়, তাঁতিরা তাদের উৎপাদিত কাপড় নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। স্থানীয় ও দূর থেকে আসা অধিকাংশ ক্রেতার চাহিদাই এখন ঈদের বিশেষ শাড়ি। ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করতে অনেকটাই উপযোগী টাঙ্গাইল শাড়ি। দামও হাতের নাগালে রয়েছে সুঁতি শাড়ির। সুতি শাড়ির খুচরা মূল্য ৩ থেকে ৪শ’ টাকার মধ্য। এছাড়া জামদানি, সিল্ক, রেশম ও দুতারের মধ্যেও রয়েছে উন্নতমানের ঈদের শাড়ি। এগুলোর বাজার মূল্য ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা।

টাঙ্গাইল শাড়ির প্রধান কাঁচামাল সুতার ব্যবসার সাথে যারা জড়িত তাদের ব্যবসাও জমে উঠেছে। উন্নত মানের সুঁতা আমদানি করে পছন্দমতো রং করা হচ্ছে। মধ্যম শ্রেণির সুতা দেশেই প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। প্রক্রিয়াজাত করার জন্য তাঁতপল্লীতে তৈরি হয়েছে ভিন্ন কারখানা। এখানে কাঁচা সুতা ধৌত করে পানিতে সিদ্ধ করে পাকা সুতায় রূপান্তর করা হয়। চণ্ডীতে প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার কারিগর নীলা দাস বলেন, সুতার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এসব কারখানাতে কারিগরদের ব্যস্ত সময় কাটছে।

এদিকে পাকা সুতাকে রঙ করার জন্য এ অঞ্চলে রয়েছে বেশ কিছু রঙ কারখানা। ধুলটিয়া গ্রামের রংকর সাজাহান বলেন, অনেক তাঁত বন্ধ হওয়ায় সুতা রঙ করা কমে গেছে। তবে ঈদের কাপড় তৈরি জন্য এড়াও অনেকটা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।

সুতা প্রক্রিয়াজাতকরণ, পাকাকরণ, রং করার পর শাড়ি বানানো উপযোগী হয় সুতা। বিভিন্ন সুতার দোকান ঘুরে এখানেও একই চিত্র লক্ষ্য করা যায়। সুতা বিক্রি বেড়েছে। সুতা বিক্রেতা আকবর মিয়া ও আব্দুল খালেক মঞ্জু বলেন, সুতা বিক্রি অনেকটাই বেড়েছে। এর কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, ঈদের কারণে তাঁতিরা আগের চেয়ে বেশি শাড়ি উৎপাদন করছে। ফলে সুতার প্রয়োজন বেড়েছে।

ঈদের সময়ে নকশা তৈরিকারকরা সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আমদানি রফতানি বেড়ে যাওয়ায় নতুন নতুন ডিজাইন যোগ হচ্ছে টাঙ্গাইল শাড়িতে। নকশা তৈরিকারক আবুল হোসেন বলেন, ঈদের জন্য টাঙ্গাইল শাড়ির কদর বেড়ে যাওয়ায় এ শিল্পে নতুন ডিজাইন নিচ্ছেন মালিক পক্ষ। এ শিল্পের সচল অবস্থা ধরে রাখতেই নতুন নতুন নকশা তৈরি করা হচ্ছে। ফলে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে নকশা তৈরিকারকরা।

সুতা রঙিন করতে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হয় রং। এলাকায় তাঁতের পরিমাণ কমে যাওয়ায় রঙের দোকানে বেচাকেনা কমেছে প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ। তবে ঈদের সামনে রঙের দোকানেও বেচাকেনা অনেকটাই বেশি। রং বিক্রেতা পরেশ পাল বলেন, প্রতি কেজি রঙের খুচরা মূল্য ২শ’ থেকে আড়াইশ’ টাকা। শাড়ি উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিক্রি নেমে গিয়েছিল ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায়। ঈদকে সামনে রেখে প্রতিদিন এখন রঙ বিক্রি করছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা।