ডেস্ক প্রতিবেদন : সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী ও পুলিশের পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৮৮তম রিক্রুট ব্যাচে নারী সৈনিকের যাত্রা শুরু। নারী পাচার, মাদকসহ সীমান্তে সব ধরনের চোরাচালান বন্ধে ভূমিকা রাখার প্রতিজ্ঞা নিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) যোগদান করেছেন এই নারী সৈনিকরা।
বিজিবির নতুন নারী সৈনিকদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন সিপাহী (জিডি) মোছা. জাহানারা আক্তার। বগুড়ার আজিজুল হক কলেজে স্নাতক তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময়ই প্রশিক্ষণে যোগ দেওয়া জাহানারা প্রশিক্ষণে ১৫টি বিভাগ মিলিয়ে সেরা হয়েছেন।
তিনি জানান, এ পেশায় আসার মূল উদ্দেশ্য হল, সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো মাদক বাংলাদেশ প্রবেশ করতে না পারে। কোনো নারী সীমান্ত দিয়ে মাদক নিয়ে ঢুকতে গেলেই যেন আমাদের হাতে ধরা পড়ে।
নিজের প্রেরণা সম্পর্কে জানতে চাইলে এই মেধাবী নারী জানান, বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামের অনুপ্রেরণায় এবং স্বপ্ন পূরণ করতেই এই বাহিনীতে। বাবা সেনা বাহিনীর সার্জেন্টে ছিলেন। উনার কাছ থেকেই নিয়ম শৃঙ্খলা শিখেছি। এখানে আসতেও তিনিই সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত করেছেন। সীমান্তে যে কোন ধরনের অপরাধ কিংবা চোরাচালান বন্ধে কাজ করবো। বিশ্বাস করি সফল হবো।
তিনি আরও জানান, আজ আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। পরিবার বিশেষ করে বাবা, যার অনুপ্রেরণায় আমি বিজিবিতে যোগদান করেছি। আমার এমন অর্জনে বাবা অনেক খুশি হয়েছেন। প্রশিক্ষণে সেরা হয়ে ভালো লাগছে। আমার এই অর্জন অনেক নারীকেই অনুপ্রেরণা যোগাবে। ভবিষ্যতে এ বাহিনীতে আরও নারী সদস্য যোগদানের আহ্ববান জানা তিনি।
নতুন নারী সৈনিকদের মধ্যে কুচকাওয়াজে সবার সেরা হয়েছেন রুমা খাতুন। রুমা যশোরের শার্শার কানাইনগরের কৃষক তোফাজ্জেল হোসেনের মেয়ে। ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে সৈনিক হতে আবেদন করেন রুমা।
স্বপ্ন পূরণের পর তিনি জানান, একজন বিজিবি সৈনিক হিসেবে দেশ আমার কাছে ভালো কিছুর আশা রাখছে। বিশ্বাস আছে আমরাও পারবো। আমরা শৃঙ্খলা ও দক্ষতার সঙ্গে নারী পাচার, মাদকসহ সীমান্তে সব ধরনের চোরাচালান বন্ধে কাজ করবো। মাদক সমাজের ছেলে-মেয়েদের ধ্বংস করে। এ জন্য মাদক রোধই হবে আমার প্রথম কাজ। দেশের জন্য নিজের সবটা দিয়ে চেষ্টা করবো।
পিরোজপুরের শ্রাবন্তী সমাদ্দার সফলভাবে ৬ মাসের প্রশিক্ষণ শেষে বিজিবিতে যোগ দিয়েছেন। প্রশিক্ষণে ‘প্রদর্শনী’ বিভাগে প্রথম হওয়া এ নারী বরিশাল মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন।
নতুন এই নারী সৈনিকদের ১৯ জন মহিলা আনসার সদস্য প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। প্রশিক্ষণের জন্য আনসার বাহিনী থেকে প্রশিক্ষক হিসেবে আসা রূপালী আক্তার জানান, প্রশিক্ষণে অনেক সিরিয়াস ছিল এই সৈনিকরা। এ কারণেই তারা সেরা হয়েছে। তারা ভবিষ্যতেও আরও ভালো করবে এমন প্রত্যাশা করছি।
এর আগে রবিবার ৫ জুন সকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বায়তুল ইজ্জত বিজিবি ট্রেনিং সেন্টারে ৮৮তম রিক্রুট ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রথমবারের মতো ৯৭ জন নারী সদস্য যোগদান করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত নারীদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরাই বিজিবিতে প্রথম মহিলা সৈনিক হিসেবে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছো। মনে রেখো বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে মহীয়সী নারীদের অংশগ্রহণ, অবদান ও আত্মত্যাগ অবিস্মরণীয়। আজ নারীরা বিভিন্ন অঙ্গনে যথাযথ যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।’

এ বিভাগের আরো..
ঢাকা-ব্রাজিল সামগ্রিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর
দুই সিটির নবনির্বাচিত মেয়ররা শপথ নিলেন
শেখ হাসিনা গাজা পুনর্দখলের ইসরাইলি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন