November 6, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্ন নয় বাস্তবতা’

ডেস্ক প্রতিবেদন : সিম ও রিম বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে রি-রেজিস্ট্রেশন করার মোবাইল ফোন কেন্দ্রিক অপরাধ কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে সোমবার দুপুরে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ পরিষদ আয়োজিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্ন নয় বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ সব কথা বলেন।

তারানা হালিম বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা দেখেছিলাম একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরিতে ৬০ হাজার সিমের নিবন্ধনের ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু আমরা মনে করেছি এ প্রক্রিয়ায় একটি শৃঙ্খলা আনা জরুরী। তাই আমরা বায়োমেট্রিকে সিম নিবন্ধনের উদ্যোগ গ্রহণ করলাম। আমর বিশ্বাস বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম রেজিস্ট্রেশনের কারণে অপরাধ কমে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘১১ কোটি ৬০ লক্ষ সিম ও রিম রেজিস্ট্রেশন সহজ কথা নয়। আমরা দিবারাত্র পরিশ্রম করেছি। সকল সমালোচনাকে কাধে নিয়েই আমরা এগিয়ে গেছি। শুধুমাত্র এ কথাটি চিন্তা করে সত্যের জয় হবেই। কারণ যখন মানুষ সৎ উদ্দেশ্যে নিয়ে কাজ করে তখন সে বিজয়ী হয়। তাই ১১ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের সমর্থন এটাই প্রমাণ করে সত্য আবারও বিজয়ী হয়েছে। সৎ উদ্যোগের সাথে সবসময় জনগণ থাকে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বায়োমেট্রিকে সিম রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম সবার জন্য সমান। যারা বায়োমেট্রিকে পদ্ধতি রেজিস্ট্রেশন সিম ও রিমের মালিকানা স্বীকার করেননি তাই ইতিমধ্যে তাদের সিম ডিএ্যাকটিভ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দাবি করেছেন তার মোবাইল নেই। এখন তিনি যদি নতুন করে সিম কেনেন তাহলে তাকে ভ্যাট-ট্রাক্স ও বায়োমেট্রিকে পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন করে কিনতে হবে। যেখানে দেশের ১১ কোটি ৬০ লক্ষ জনগণ বায়োমেট্রিক পদ্ধতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে পালন করেছেন। সেখানে একটি দলের চেয়ারপারসন নিয়মটি পালন করবেন না সেটা জনগণের জন্য দুঃখজনক।’

সাইবার সিকিউরিটির জন্য সেন্টাল সিকিউরিটি ইউনিট প্রয়োজন উল্লেখ করে তারানা হালিম বলেন, ‘আমরা আইএসপির কাছ থেকে গ্রাহক পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করছি। প্রতি সপ্তাহে সেই তথ্য আপডেট করছি। মাইক্রোসফটের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে এবং গুগলের সাথে আমাদের কথা হয়েছে কোন সাইবার এ্যাটাকের আশঙ্কা থাকলে তারা আমাদের জানবেন বলে আশস্ত করেছে।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট করা হচ্ছে। ২ লাখ ৫০ হাজার নারীকে আমরা আইসিটি প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আইসিটি ডিভিশন থেকে ৪৫ লাখ মানুষ ২০০ ধরনের সেবা গ্রহণ করছে। ২ লাখ তরুণকে আইসিটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ২০ লাখ তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’

এর আগে সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার। প্রচার ও প্রকাশনা উপ পরিষদ চেয়ারম্যান এইচ টি ইমামের সভাপতিত্বে সেমিনার সঞ্চালনা করেন দলটির উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। আরও উপস্থিত ছিলেন বেসিস সভাপতি শামীম আহসান প্রমুখ।