অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : জাতীয় উন্নয়নে ম্যানিলাভিত্তিক দাতা সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) কে প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। জবাবে এডিবির অর্থ ব্যবহারে পিছিয়ে রয়েছে এমন বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে কাজের গতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার এডিবির অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো নিয়ে এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে ইআরডি যুগ্ম সচিব (এডিবি) সাইফুদ্দিন আহমেদ এবং এডিবির ঢাকা মিশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর কাজুহিকো হিগুচি যৌথভাবে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এসময় এডিবি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইআরডি সূত্র জানায়, মোট ৬টি খাতের মধ্যে চলতি অর্থবছরে অর্থ ছাড় ভালো হলেও পিছিয়ে রয়েছে পরিবহন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত। এপ্রিল পর্যন্ত ১৫ কোটি ২১ লাখ ডলার অর্থ আদায় করার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু এর মধ্যে বাস্তবায়ন সংস্থা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যবহার করতে পেরেছে মাত্র ৫ কোটি ১৫ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩৪ শতাংশ।
তবে অর্থবছরের শেষ দুই মাসে মাত্র ২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার ছাড় হতে পারে আর অর্থবছর শেষে মোট অর্থছাড় দাঁড়াবে ৭ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। ফলে এ খাতে অর্থছাড়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে না।
ইআরডির যুগ্ম সচিব সাইফুদ্দিন আহমেদ জানান, বৈঠকে সমস্যাযুক্ত প্রকল্প ও ধীরগতির প্রকল্পে অর্থ ছাড় বাড়ানোর উপায় খোঁজা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে অর্থ ছাড়ের লক্ষ্য এবং অর্থ ছাড়ের গতি বাড়াতে করণীয় নিয়েও উভয় পক্ষ মতামত দিয়েছে।
এডিপির পর্যালেচানায় বলা হয়েছে, লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও চলতি অর্থবছরে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থ ছাড় বাড়বে।
অর্থবছরের ৯ মাস অর্থাৎ এপ্রিল পর্যন্ত ৬০ কোটি ৯৩ লাখ ডলার অর্থছাড়ের বিপরীতে ছাড় হয়েছে ৬২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। এ হিসেবে এখন পর্যন্ত অর্থ ছাড় হয়েছে ১০৩ শতাংশ।
তবে মে ও জুন মাসে আরো ৬ কোটি ৯৮ লাখ ডলার অর্থ ছাড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে চলতি অর্থবছরে এডিবির অর্থ ছাড় হবে ৬৯ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। কৃষি ও পুষ্টি খাতে ৫ কোটি ৬ লাখ ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিবরীতে এপ্রিল পর্যন্ত ছাড় হয়েছে ৬ কোটি ৬২ লাখ ডলার (১৩১ শতাংশ)। তবে এ খাতে চলতি অর্থবছর আর কোনো অর্থ ছাড়ের সম্ভাবনা নেই।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ছাড় হয়েছে ১২ কোটি ৭০ লাখ (১৪৭ শতাংশ), লক্ষ্য ছিল ১৪ কোটি ৬ লাখ। জ্বালানি খাতে মোট ছাড় হয়েছে ১৭ কোটি ৮৪ লাখ ডলার ৯৩ হাজার ডলার। অর্থ ছাড়ে এ খাত কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। এপ্রিল পর্যন্ত এ খাতে অর্থ ছাড়ের লক্ষ্য ছিল ১৯ কোটি ১৬ লাখ। তবে অর্থবছরে শেষে এ খাতে অর্থ ছাড় বেড়ে দাঁড়াবে ১৯ কোটি ৬৯ লাখ ডলার।
এ খাতে পুঁজিবাজার উন্নয়ন কর্মসূচির (তৃতীয় পর্যায়) ৮ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা ছাড় হওয়ায় আর্থিক খাত এপ্রিল পর্যন্ত ছাড় হয়েছে ৩২৮ শতাংশ। অর্থবছর শেষে এ খাতের অর্থ ছাড় দাঁড়াবে ১০ কোটি ১৮ লাখ ডলার। অন্যদিকে পানি ও নগর উন্নয়ন খাতে ৯ কোটি ৮৩ লাখ ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ছাড় হয়েছে ১০ কোটি ৪৪ লাখ ডলার (১০৬ শতাংশ)। অর্থবছরের বাকি দুই মাস মিলিয়ে মোট ১১ কোটি ৩৯ লাখ ডলার ছাড় হতে পারে বলে ধারণা করছে এডিবি।

এ বিভাগের আরো..
দেশীয় পণ্যে আস্থা অর্জনে মান নিশ্চিতে গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের
তেঁতুলিয়ায় আই এফ আই সি ব্যাংকের উদ্যোগে আর্থিক স্বাক্ষরতা দিবস
বগুড়া যমুনা চরে বাদামের বাম্পার ফলনের সম্ভবনা