ডেস্ক প্রতিবেদন :বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিতে সহায়তাদানে অভিযুক্ত ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) মাকাতি শহরের জুপিটার শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মায়া দেগুয়িতিকে এক সপ্তাহের জন্য শুনানি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনা তদন্তে গঠিত সিনেট ব্লু রিবন কমিটি তাকে এ অব্যাহতি দেয়। মঙ্গলবার ১২টায় শুনানি শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তাকে এ অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে রিজার্ভ চুরির ঘটনার মূল হোতা বলে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী কিম অংয়ের শুনানি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার ফিলিপাইনের স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় এ শুনানি শুরু হয়। অবশ্য শুনানিতে অংশগ্রহণের আগে কিম অং দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই অর্থ পাচারের ঘটনার সঙ্গে কোন ধরনের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন।
অপরদিকে ‘শারীরিক অসুস্থতার’ কারণে এ মুহূর্তে শুনানিতে অংশ নিতে সক্ষম নন বলে মায়া দেগুয়িতির আইনজীবী সিনেট কমিটির নিকট এক সপ্তাহের সময় চেয়ে আবেদন করেন। রিজার্ভ চুরির ঘটনায় চাকরি হারানোসহ অন্যান্য কারণে মানসিকভাবে বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছেন উল্লেখ করে মায়ার আইনজীবী সেগুইগিসাগ সিনেট কিমিটির নিকট আবেদনে বলেন, ‘যদি আবেদন মঞ্জুর করা হয় তাহলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকবো।’
আবেদন মঞ্জুর করে সিনেট কমিটির প্রধান তেফিস্তো গুয়িনগুয়া বলেন, আগামী সপ্তাহে তিনি (মায়া দেগুয়িতি) যাতে শুনানিতে উপস্থিত হতে পারেন সেজন্য তাকে এ সময়ের জন্য অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আগামী ৫ এপ্রিল পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।
রিজাল ব্যাংকের মাকাতি সিটির জুপিটার শাখা ব্যবস্থাপক মায়া দেগুয়িতি অর্থ পাচারের সঙ্গে কিম অং জড়িত বলে সিনেট শুনানিতে অভিযোগ করেন। কিম অংয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এ্যাকাউন্ট খোলাসহ টাকা স্থানান্তরে কাজ করেছেন বলে দেগুয়িতি অভিযোগ করেছেন। এছাড়া ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রধান নির্বাহী অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যাংক থেকে ছুটি নিয়েছেন।
তবে এ ঘটনার পর মায়া দেগুয়িতিসহ আরও এক সহকর্মীকে বরখাস্ত করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
প্রসঙ্গত, গত ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ১০১ মিলিয়ন ডলার নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে চুরি হয়ে যায়। লেনদেনে বার্তা আদান-প্রদানকারী সুইফট সিস্টেম হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ চুরির এ ঘটনা ঘটে। চুরি হয়ে যাওয়া অর্থের ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকিং করপোরেশনের মাকাতি সিটির জুপিটার শাখায় জমা হয়। পরবর্তীতে এ টাকা বিভিন্ন জুয়ার আসরে চলে যায়। এ অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে ঘটনা তদন্তে গঠিত সিনেট ব্লু রিবন কমিটির পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে। অপরদিকে ২০ মিলিয়ন ডলার শ্রীলংকার একটি বেসরকারি ব্যাংকে একটি এনজিওর নোমে খোলা এ্যাকাউন্টে জমা হয়। অবশ্য শ্রীলংকায় পাচার হওয়া অর্থ ফেরত পাওয়া গেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।

এ বিভাগের আরো..
বিচারক-আইনজীবীদের কালো কোট-গাউন পরতে বাধ্যবাধকতা নেই।
ঝিনাইদহে কৃষক হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন ও ৩ জনের সশ্রম কারাদন্ড
হাইকোর্টের আদেশ আপিলে স্থগিত, রমজানে স্কুল খোলা