November 6, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

আমেরিকায় জাহানারা ইমামের শেষ দিনগুলি

বিদেশ ডেস্ক :  শনিবার ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নিউ ইয়র্ক শাখা জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে ‘আমেরিকায় জাহানারা ইমামের শেষ দিনগুলি’ বই নিয়ে এ সভার আয়োজন করে।

সভায় অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক প্রবাসীর সম্পাদক সৈয়দ মুহম্মদ উল্লাহ বলেন, “জাহানারা ইমাম বাঙালি জাতির জন্যে ‘ইতিহাসের এক বিশেষ ব্যক্তি’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন।

“তার দৃঢ় মনোবলের কারণেই দীর্ঘদিন পর হলেও একাত্তরের ঘাতকদের বিচারে বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হতে পেরেছে।”

লেখক বেলাল বেগ তার আলোচনায় বাংলাদেশ থেকে ‘ভেজাল’ দূর করতে জাহানারা ইমাম পথ দেখিয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে এখনও একাত্তরের বাংলাদেশ বলা যাবে না। কারণ, এখনও সেখানে জামায়াতের তৈরি বিএনপি রয়েছে। এটি হচ্ছে ‘ভেজাল বাংলাদেশ।’ জাহানারা ইমাম সেই ভেজাল দূর করার পথ দেখিয়ে গেছেন। সে পথে আমাদের আরও জোরদারভাবে এগোতে হবে।”

সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস ‘ঘাতক-দালাল’দের বিচারে প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করতেও জাহানারা ইমামের অবদানের কথা স্মরণ করেন।

আলোচনার শুরুতে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয়।

“তার কোনো রাজনৈতিক দল বা পুলিশ-প্রশাসন ছিল না। তার পক্ষে ছিল আপামর জনগোষ্ঠি। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত ভূখণ্ডে রাজাকার-কুলাঙ্গারদের ঠাঁই হবে না- এটি ছিল তার মন্ত্র, যে মন্ত্রে আমরা প্রবাসীরাও জেগে উঠি। আর এভাবেই শহীদ জননী হয়ে উঠেন মুকুটহীন সম্রাজ্ঞী।”

প্রবাসে চিকিৎসাকালীন সময়েও জাহানারা ইমাম যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে ‘দিক-নির্দেশনা’ দিয়ে গেছেন বলে জানান কৌশিক আহমেদ।

“জাহানারা ইমাম একদিকে ক্যান্সারের যন্ত্রণায় ছটফট করছেন, আবার একই সাথে বাংলাদেশে চলমান আন্দোলনে সম্পৃক্তদের দিক-নির্দেশনাও দিচ্ছেন। এসব অজানা তথ্য প্রকাশ না করলে গৌরবের অনেকখানিই হয়তো অজানা থেকে যেত,” বলেন সাপ্তাহিক বাঙালির এ সম্পাদক।

অনুষ্ঠানে ‘আমেরিকায় জাহানারা ইমামের শেষ দিনগুলি’ বইয়ের লেখক একাত্তরে কাদেরিয়া বাহিনীর কমান্ডার ড. নূরন্নবী জানান, একাত্তরের বাংলাদেশের ‘পুনর্জন্ম দিতে’ ক্যান্সারে আক্রান্ত জাহানারা ইমাম কীভাবে কাজ করে গেছেন তা তুলে ধরতেই এই বই।

“সে সময় তার মনোবল কেমন ছিল, তার সহযোদ্ধাদের ভূমিকা কেমন ছিল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নতুন করে জাগ্রত করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা কতটা জরুরি ছিল, তা নতুন প্রজন্মকে অবহিত করার তাগিদ থেকেই বইটি লিখেছি।”

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ফাহিম রেজা নূর। সঞ্চালনা করেন স্বীকৃতি বড়ুয়া।

সভার শুরুতে বঙ্গবন্ধুর ৯৬তম জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা হয়।