November 6, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের তালিকা প্রকাশ করাও সম্ভব: মোজ্জাম্মেল হক

ডেস্ক প্রতিবেদন : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজ্জাম্মেল হক বলেছেন, ‘অপেক্ষা করুন, অচিরেই মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা প্রকাশ করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের ৪০ বছর পর যদি এদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা সম্ভব হয়, তাহলে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের তালিকা প্রকাশ করাও সম্ভব হবে।’

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে ১৯ জন নারী মুক্তিযোদ্ধাকে আর্থিক সহায়তাসহ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আজকে আমাদের সংসদের প্রধান চার ব্যক্তিই নারী। সংসদ নেতা শেখ হাসিনা, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ সমাজের সকল ক্ষেত্রেই আজ নারীরা তাদের নিজ নিজ যোগ্যতায় এগিয়ে চলেছে। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বের রোল মডেল।’

মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে যে সকল মা-বোন তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর তাদেরকে মূল্যায়ন করা হয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে পুরুষ মুক্তিযোদ্ধারা যে সব সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে একজন নারী মুক্তিযোদ্ধাকেও সে সকল সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। স্বাধীনতার পরও বীরাঙ্গনা নারীরা সমাজে অত্যাচারিত নির্যাতিত হয়েছে।’

বর্তমান সময়ে বিচার ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ স্বাধীন এবং স্বচ্ছ অভিহিত করে তিনি বলেন, আজ যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত মীর কাসেমের বিষয়ে কথা বলায় আদালত আমাকে এবং আরো একজন মন্ত্রীকে তলব করেছে। দেশে যদি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা না থাকতো তাহলে আদালত দুজন মন্ত্রীকে তলব করতো না।’

উপস্থিত বীরাঙ্গনা নারীদের উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, আপনারা হচ্ছেন আমাদের দেশের গর্ব। আপনারা যাতে ভালো থাকেন। আপনাদের যাতে কোন কষ্ট না হয় সেজন্য সরকার প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই এসোসিয়শনের সভাপতি রকিবউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমেদ।

উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিক বলেন, আজকে এতোজন বীরাঙ্গনাকে সংবর্ধনার আয়োজন করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমি আশা করি সমাজের উচ্চবিত্ত মহল বীরাঙ্গনাদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে। অনুষ্ঠান শেষে বীরাঙ্গনাদের হাতে আর্থিক সহায়তা ও সম্মাননা তুলে দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।