নিজস্ব প্রতিবেদক : সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সদ্য প্রয়াত নির্মাতা ও চিত্রশিল্পী খালিদ মাহমুদ মিঠুর মরদেহ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে আয়োজিত শ্রদ্ধাজ্ঞাপন পর্বে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিল্পী-সাহিত্যিক, নাট্যব্যক্তিত্ব, শিক্ষক ও বন্ধু-সতীর্থসহ বিভিন্ন সংগঠন নির্মাতা মিঠুকে শেষ শ্রদ্ধা ও ফুলেল বিদায় জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন― বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, রামেন্দু মজুমদার, ড. ইনামুল হক, খুশি কবীর, ফরিদুর রেজা সাগর, চিত্রশিল্পী হাশেম খান, মিঠুর স্ত্রী কনকচাঁপা চাকমা, ছেলে আর্য শ্রেষ্ঠ, মেয়ে শিরোপা পূর্ণা ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
প্রয়াত নির্মাতা খালিদ মাহমুদ মিঠুর মেয়ে শিরোপা পুন্যা বলেন, ‘আমার বাবার মৃত্যুটা অপ্রত্যাশিত। তিনি সমাজের জন্য আরও অনেক কিছু করতে পারতেন। এখন আমাদের কাজ তার চিত্রকর্ম ও চলচ্চিত্রগুলোকে সংরক্ষণ করা। আপনারা আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।’
মিঠুর ছেলে আর্য শ্রেষ্ঠ বলেন, ‘বাবা ছিলেন আমার বন্ধুর মতো। আমার ওপর কখনোই জোর করে কিছু চাপিয়ে দেননি। আমাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। আমি বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো এগিয়ে নিতে চাই।’
খালিদ মাহমুদ মিঠু শিল্পকর্মের পাশাপাশি দেশের চলচ্চিত্র নিয়েও ভাবতেন। এ প্রসঙ্গে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘তিনি চিত্রকর হলেও, সখ্য ছিল চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে। মিঠুর চলচ্চিত্র স্বীকৃতি পেয়েছে বিভিন্ন অঙ্গনে। তার কাছে প্রত্যাশাও ছিল অনেক, সম্ভাবনাও ছিল। কিন্তু দেওয়ার আগেই তিনি চলে গেলেন। মিঠুর পরিবার তার অসম্পূর্ণ কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে, এটাই এখন প্রত্যাশা।’
চিত্রশিল্পী হাশেম খান বলেন, ‘শিল্প-সাহিত্য অঙ্গনকে সবে মাত্র আলোকিত করতে শুরু করেছিলেন খালিদ মাহমুদ মিঠু। এমন সময় তার চলে যাওয়া মেনে নেওয়া কষ্টকর। বিশেষত সেটা যখন দুর্ঘটনা। তাই তার মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।’
শহীদ মিনার থেকে খালিদ মাহমুদ মিঠুর মরদেহ নেওয়া হয় তার শিক্ষা প্রাঙ্গণ চারুকলা ইনস্টিটিউটে। সেখানে তার মরদেহে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন ইনস্টিটিউটের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকরা। চারুকলা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজে জানাযা শেষে মিঠুর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় এফডিসিতে।
সেখানে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন ও জানাজা শেষে মরদেহ নেওয়া হয় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। এখানেই শেষ জানাজা হওয়ার পর বাদ আসর বনানী কবরস্থানে খালিদ মাহমুদের দাফন সম্পন্ন হবে।
গত ৭ মার্চ দুপুরে রিকশা করে বাসায় ফেরার পথে ধানমণ্ডি ৪ নম্বর রোডের পাশের একটি গাছ আকস্মিক ভেঙে পড়লে মারা যান খালেদ মাহমুদ মিঠু।

এ বিভাগের আরো..
বসন্ত আসবে প্রাণের মেলায়
সানবিট ও হারল্যান স্টোরের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর পরীমনি
সন্ধ্যায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী