ডেস্ক প্রতিবেদন : আজ জাতীয় পতাকা দিবস। ৪৫ বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে প্রথম উত্তোলন করা হয় সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্তের মাঝে বাংলাদেশের মানচিত্র খোচিত পতাকা। যা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পুরো জাতিকে প্রেরণা জোগায়। পতাকার মর্যাদা রক্ষায় আইন প্রণয়ন করেছে সরকার।
জাতীয় পতাকা একটি রাষ্ট্রের পরিচয় জাতীয়তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। এই পতাকা তৈরির রয়েছে একটি গৌরবজ্জ্বল ইতিহাস। ১৯৭০ সালের ৬ জুন রাতে ঢাকার নিউ মার্কেট থেকে সবুজ কাপড়ের মাঝে লাল একটি বৃত্ত সেলাই করে আনা হয় প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন কায়েদে আজম হলে, যা এখন তিতুমীর হল। কামরুল আলম খান খসরুর হাতে আনা কাপড়টি তখনও পতাকা হয়ে ওঠেনি। ছাত্র নেতা শিবনারয়ণ দাশ নিপুন হাতে লাল বৃত্তের মাঝে মানচিত্র এঁকে পতাকাটির চূড়ান্ত রূপ দেন।
এর প্রায় ন’মাস পর ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকায় কারফিউ অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় জমায়েত হয় মুক্তিকামী ছাত্র, পেশাজীবীরা। তাদের সামনেই প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন তৎকালীন ছাত্র নেতা আ স ম আব্দুর রব।
মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস এই পাতাকাই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণার উৎস জোগায়। দেশ স্বাধীন হবার পর ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে পতাকা থেকে মানচিত্রটি সরিয়ে কাঠামগত রূপ দেন শিল্পী কামরুল হাসান।পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের আয়তক্ষেত্রাকার সবুজ রঙের মাঝখানে একটি লাল বৃত্তের মাপ নির্দৃষ্ট করা হয় ১০ অনুপাত ৬। প্রণিত হয় জাতীয় পতাকার ব্যবহারবিধি।
২৬শে মার্চ, ১৬ই ডিসেম্বর, ঈদ- এ- মিলাদুন্নবীর দিন সব প্রতিষ্ঠানে জতীয় পাতাকা উত্তোলন ও ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদ দিবস, ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে পতাকা অর্ধনমিত রাখার বিধান করা হয়। জাতীয় পতাকা শুধু একটি কাপড় নয়, জাতির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তাই ব্যবহারযোগ্য না হলে একে সমাধিস্ত করার বিধান রয়েছে।
জাতীয় পতাকার ব্যবহারবিধি না মানা শাস্তিযোগ্য একটি অপরাধ। এই অপরাধে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রেখে জাতীয় পতাকা বিধিমালা সংশোধন করা হয় ২০১০ সালে।

এ বিভাগের আরো..
সাবেক বিচারপতি আবদুল আউয়ালের ইন্তেকাল
দুই সিটির নবনির্বাচিত মেয়ররা শপথ নিলেন
আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এডিবির আরও সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী