চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : নগরীর বায়েজিদ থানাধীন শেরশাহ বাংলাবাজারের নাগরিক সোসাইটি এলাকায় স্থানীয় একটি ‘মাজারে’র পীরসহ দু’জনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
এসময় তাদের বাঁচাতে এসে দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া ককটেল হামলায় আহত হয়েছেন আরো তিনজন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর পৌনে দুইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- মাজারটির পীর রহমত উল্লাহ প্রকাশ ন্যাংটা ফকির (৫২) এবং তার খাদেম কাদের হোসেন (২৫)। আহতদের দু’জন হলেন- মনির (৩২) ও শাহিন (১৫)। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে জমির বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে পুলিশ ধারণা করলেও হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ঘটনা তদন্তে কাজ করছে থানা পুলিশ ও ডিবিরিএকাধিক টিম।
বায়েজিদ থানার এসআই সৈয়দ ফারুক বলেন, ‘বাংলাবাজার এলাকায় জুমার নামাজের পর স্থানীয় ন্যাংটা ফকিরের মাজারে প্রবশে করে ন্যাংটা ফকির ও তার খাদেমকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পরে তাদের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এসময় ঘটনা দেখে ফেলায় পালিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ করলে এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়।’

স্থানীয়রা জানান, ন্যাংটা ফকিরের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি। তিনি দীর্ঘদিন বায়েজিদ বোস্তামী মাজারের খাদেম ছিলেন। কয়েকবছর আগে তিনিই পীর হওয়ায় বাংলাবাজার এলাকায় একটি মাজার গড়ে তোলেন। দীর্ঘদিন ধরে ন্যাংটা ফকির বাংলাবাজারের নাগরিক সোসাইটি এলাকায় একটি বাঁশের ঘর তুলে আস্তানা গড়ে তোলেন। সেখানে তার কাছে বিভিন্ন বয়সী লোকজন আসতেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর কাঁধে একটি ব্যাগ নিয়ে ২০-২২ বছর বয়সী এক যুবক তার আস্তানায় প্রবেশ করেন। এসময় তারা বেশ কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলার পর প্রথমে ন্যাংটা ফকিরকে গলা কেটে হত্যা করার পর বাইর থেকে আসা খাদেম কাদের হোসেনকেও গলা কেটে হত্যা করেন ওই যুবক। এরপর লাশ দুটি মাজারের পাশের একটি ঝোঁপে গুম করতে চাইলে স্থানীয়রা তা দেখে তাকে ধাওয়া দেয়। এসময় হত্যাকারী তাদের লক্ষ্য করে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ করে পালিয়ে যায়। এতে তিনজন আহত হন।
খুনের মোটিভ সম্পর্কে জানতে চাইলে নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (উত্তর ও দক্ষিণ) বাবুল আক্তারবলেন, ‘এটি কোনো উগ্রপন্থি গোষ্ঠির কাজ কিনা কিংবা সন্ত্রাসী গোষ্ঠির কাজ কিনা নাকি টাকা-পয়সার লেনদেন থেকে হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সব বিষয়কে মাথায় রেখে আমরা হত্যার মোটিভ উৎঘাটনের কাজ করছি।’
বায়েজিদ থানার এসআই ফারুক আহমেদ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এই জোড়া খুনের পেছনে যেসব তথ্য প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে, তাতে মনে হচ্ছে মাজারের জমি নিয়ে বিরোধের জের এ হত্যাকান্ড ঘটেছে। যে স্থানে মাজারটি গড়ে উঠেছে, তার দাবিদার অন্য এক ব্যক্তি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জমিটি উদ্ধারের চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু পীর ল্যাংটা মামা ও তার অনুসারীরা সেখানে মাজার স্থাপন করায় দখল নিতে পারছিলেন না।’

এদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে ন্যাংটা ফকিরের অনুসারি পরিচয়দানকারী কায়সার আহমেদ নামে এক যুবক দাবি করে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে মাজারে মাহফিল শেষ হওয়ার পর মাজারের জমির মালিক দাবিদারকারী স্থানীয় স্বেচ্ছা সেবকদল নেতা আজম শাহ ন্যাংটা ফকিরকে মাজার অন্যত্র সরিয়ে নিতে হুমকি দেন। এতে ন্যাংটা মামা রাজি হননি। এরপরই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।’

এ বিভাগের আরো..
দুই সিটির নবনির্বাচিত মেয়ররা শপথ নিলেন
আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এডিবির আরও সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
রায়গঞ্জে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার