October 10, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

ফেনী গ্যাসের সংযোগ উচ্ছেদের মাঝেই চলছে অবৈধ সংযোগ

রাজন নাথ ফেনী থেকে: ফেনী বাখরাবাদ গ্যাস অফিসের প্রায় ৩ কিলোমিটার অবৈধ সংযোগ বিছিন্ন করেছে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট। গত শনিবার সকালে ফেনী সদরের ধর্মপুর ও ছাগলানইয়া উপজেলার পাঠানগড় গ্রাম থেকে এ অবৈধ লাইন উচ্ছেদ করা হয়। এরি সাথে পাল্লাদিয়ে শুক্র ও শনিবার ফেনী গোবিন্দপুর গ্রামে অবৈধ গ্যাস দিয়ে গ্রামের সাধারন মানুষকে ভুয়া চাহিদাপত্র (ডিমান্ডনোট) ও জাল কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) তৈরি করে দিনে দিনেই দেয়া হচ্ছে অবৈধ সংযোগ। গ্যাস চুরির মহোৎসব, ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা,কোটি টাকা সম্পদ লুটপাট করে নিচ্ছে এক সংঘবদ্ধ দল । হাজার হাজার বৈধ আবেদন বছরের পর বছর ঝুলে থাকলেও তাদের সংযোগ দেয়ার নেই কোনো খবর। অথচ আবেদন বিহিন গ্রাহক লাখ টাকার বিনিময়ে সংযোগ পেয়ে যাচ্ছেন। এতে অসাধু ঠিকাদার হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এ নিয়ে ঠিকাদার, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ, অসন্তোষ বিরাজ করলেও সবাই একরকম দর্শকের ভূমিকায় রয়েছেন। গত শনিবার দুপুরে পাঠান গড়ে উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে জানাযায়,স্থানীয় যুবলীগের  নাম ব্যবহার করে এক সংঘবদ্ধ দল  প্রায় ৪হাজার ফুট গ্যাস লাইন স্থাপন করে।  গ্রামের সাধারন মানুষের অভিযোগ এ গ্যাস লাইন যদি অবৈধ হয় তা কিসের বলে স্থাপন করা হয়েছে। এ লাইন তো এক দিনে স্থাপন হয়নি। ফেনীর ধর্মপুরের অবৈধ সংযোগ বিছিন্ন হওয়া গ্রাহকদের হাতে ডিমান্ড নোটের কপি রয়েছে। যার মাধ্যে দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলি ফেনী রুপালী ব্যাংকে সংযোগ ফি জমা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, ঠিকাদার ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে শহরতলির পশ্চিম রামপুর,গোবিন্দপুর ও পশ্চিম গোবিন্দপুর,সোনাপুর প্রায় ২০ হাজার ফুট, লালপুল থেকে পূর্ব-পশ্চিম দিকে প্রায় তিন হাজার ফুট, জায়লস্কর বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন বারাহিগুনীতে প্রায় তিন হাজার ফুট, ইয়ার নুরুল্যাপুরে পাঁচ হাজার হাজার ফুট, বগইড দীঘি থেকে উত্তর কাশিমপুর পর্যন্ত প্রায় চার হাজার ফুট, তেমুহনী থেকে মুসলিম পাড়া পর্যন্ত আট হাজার ফুট, জায়লস্কর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর, কবির হাট এলাকায় হাজার হাজার ফুট, পূর্ব সোনাপুরে প্রায় চার হাজার ফুট, রামপুর-মধুপুরে তিন-চার কিলোমিটার, শর্শদী রেলক্রসিং বটগাছ থেকে পশ্চিম খানে বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার, মোহাম্মদ আলী বাজারের সিএনজি স্টেশনের দক্ষিন ও পূর্ব দিকে প্রায় চার হাজার ফুট, পশ্চিম পাঠানগড় থেকে দক্ষিণ দিকে ভূঞা বাড়ি পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় এক ও দুই ইঞ্চি লাইন টেনে রাইজার উত্তোলন করে সংযোগ দেয়া হয়। তারা জানায় দিদার এন্টার প্রাইজের নেতা দিদারের নেতৃত্ব সরকারদলীয় প্রভাব খাটিয়ে ভুয়া চাহিদাপত্র ও কার্যাদেশ তৈরি করে রাতারাতি চট্টগ্রামের শিপিং অঞ্চলের পরিত্যাক্ত পাইপ দিয়ে এসব কাজ করে রাইজার প্রতি ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছেন। দিদার এন্টার প্রাইজের কোন বৈধকাগজ পত্র না থাকলেও অফিস এলাকায় নিজেই পিটার, ওয়েল্ডিং মেশিন ও লোকবল নিয়ে নিয়মিত সংযোগ দিয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কোম্পানির এক প্রকৌশলী জানান, অদক্ষ শ্রমিক, নিম্নমানের পাইপ ও তাদের নিজেদের তৈরী ওয়েল্ডিং মেশিন দিয়ে এসব কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। অনুমোদনহীন এসব লাইন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এতে যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ফেনী বাখরাবাদ গ্যাসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবদুল কাদের জানান মন্ত্রালয়ের নির্দেশে তারা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছেন। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রট জানে আলম জানান তার কাছে প্রায় ৪০হাজার ফুট অবৈধ সংযোগের তালিকা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসকল লাইন উচ্ছেদ করাহবে। ইতঃপূর্বে এসব অবৈধ সংযোগের ব্যাপারে ফুলগাজী ও ফেনী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। নতুন সংযোগ বিষয়ে ব্যবস্থাপক প্রক
ৌশলী আবদুল কাদের বলেন তিনি বিষয়টি শুনেছেন । পর্যাক্রমে এসকল গ্যাস লাইন উচ্ছেদ করা হবে।