November 6, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

বন্যার্তদের সাহায্যে রাজনীতিবিদদের এগিয়ে আসার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের ২৪টি জেলা বন্যা কবলিত। এসব জেলার সাধারণ মানুষকে সহায়তার জন্য সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

বৃহস্পতিবার ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় গৃহীত কার্যক্রম ও করণীয় নিয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ আহ্বান জানান তিনি।

মায়া বলেন, “অনেক রাজনৈতিক নেতা রয়েছেন যারা অকাজে নানা সময় ব্যয় করেন। করেন নানা ধরনের সমালোচনা। এসব আলোচনা সমালোচনা বন্ধ করে বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ান।”

এছাড়াও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে ভয়ভীতি না দেখিয়ে বন্যা সংক্রান্ত সহনশীল সংবাদ প্রকাশ করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানান ত্রাণমন্ত্রী।

বন্যার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “যেসব জায়গায় ঘর ভেঙে গেছে, ইতোমধ্যে সেখানে টিনশেড ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। বন্যার পানি নামার পর ডেঙ্গুসহ রোগবালাই মোকাবিলায় ডাক্তারদের প্রস্তুত থাকতে হবে। এসময় বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার (চিরা, মুড়ি, গুড়) দুর্গতদের মাঝে বিতরণের জন্য ব্যবস্থা নিতে সচিবকে নির্দেশ দেন মন্ত্রী “

তিনি বলেন, “কোনো অবস্থাতেই যেন মানুষ না খেয়ে মারা না যায়, সেজন্য একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

মন্ত্রী আরো বলেন, “বন্যার পানি নামার পর রাস্তা মেরামত, বাধ নির্মাণে দ্রুত আগাম পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে বোরো ধান রোপণের কোনো সমস্যা না হয়।”

এছাড়া বন্যা কবলিত ২৪টি জেলায় সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে প্রতিদিন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করার পরামর্শ দিয়েছেন মন্ত্রী।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম জানান, হঠাৎ বৃষ্টিতে ঢাকার কিছু অংশে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হলো সুয়ারেজ ব্যবস্থা না থাকা। এর ফলে পানি বের হতে পারেনি। এসব অঞ্চলের সুয়ারেজ ব্যবস্থার উন্নতি না হলে এধরনের ঘটনা বারবার ঘটতে থাকবে।

সভায় জানানো হয়েছে, ২৪টি জেলার একলাখ ৬৫ হাজার নয়শ ৪৮টি পরিবারকে নানাভাবে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অতিবৃস্টির ফলে সৃষ্ট বন্যার কারণে ১১টি জেলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব জেলার ২৯ হাজার পাঁচশ ৮০টি ঘর সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। আংশিক নষ্ট হয়েছে আরো একলাখ ৬১ হাজার তিনশ ৬৮টি। গবাদি পশু মারা গেছে চার হাজার ছয়শ ৫৭টি, যার মূল্য প্রায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।

সভায় ত্রাণ সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।