October 10, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

কুমারীপূজা ও সন্ধিপূজা আজ মহানবমী

 

দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমীতে কুমারী পুজার করা হয়। ১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দ এই পুজার প্রথম প্রচলন করেন। সেই থেকে কুমারীপুজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমীর পূজা শেষে কুমারীপূজা করা হয়। কুমারী কন্যাকে দেবীরুপে পুজা করা হয়। এই পুজায় অগ্নি, জল, বস্ত্র, পুষ্প ও বাতাস—পাঁচটি উপকরণে দেওয়া হয় ‘কুমারী’ মায়ের পূজা। অর্ঘ্য প্রদানের পর দেবীর গলায় পরানো হয় পুষ্পমাল্য। কুমারী-প্রতীকে মাতৃরূপে অবস্থিত সর্বব্যাপী ঈশ্বরেরই মাতৃভাবের আরাধনা। কুমারীতে পুরো মাতৃজাতির শ্রেষ্ঠ শক্তি—পবিত্রতা, সৃজনী ও পালনী শক্তি—সব কল্যাণী শক্তি সূক্ষ্মরূপে বিরাজিত থাকেন। তাই কুমারীপূজা।
আর মায়র চামুন্ডা রুপই হলো সন্ধিক্ষন। অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমী তিথি শুরুর ২৪ মিনিট এই সময়ই হলো সন্ধিক্ষণ। এই সন্ধিক্ষণে তন্ত্রমতে পেজা করা হয়। এই সময়র পুজােক বলা হয় ‘সন্ধিপূজা’।

সন্ধিপূজা আসলে দেবী দুর্গার আরেক অসুরদলনী রূপ। এই দেবীর নাম ‘চামুণ্ডা’। অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে দেবী চামুণ্ডা ‘চণ্ড’ ও ‘মুণ্ড’ নামের দুই অসুরকে বধ করেছিলেন। এ জন্য অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে দেবী চামুণ্ডার পূজা করা হয়।
এই পূজায় মায়ের পায়ে ১০৮ টি লালপদ্ম নিবেদন করা হয়। অসুর বধকালে দেবী দুর্গার সারা অঙ্গে সৃষ্টি হয় ১০৮টি ক্ষত। ক্ষতর জ্বালা জুড়ানোর জন্য দেবাদিদেব মহাদেব মা দুর্গাকে দেবীদহে স্নান করতে বলেন। দেবীদেহ ১০৭টি ক্ষতের জ্বালা জুড়ােলেও দেবীর ১০৮তম ক্ষতের জ্বালায় কষ্ট পেতে দেখে মহাদেব। তখন মহেশ্বরের চোখ থেকে নির্গত হয় একফোঁটা অশ্রুকনা।সেই অশ্রুকণা গিয়ে পড়ে মায়ের ১০৮তম ক্ষত।

ত্রেতা যুগে লঙ্কারাজ রাবণকে বধ করতে শ্রী রামচন্দ্র দেবীকে আবহন করেন। অকালে দেবীকে আহব্বান করা হয় বলে, এই সময়র পুজাকে অকালবোধন বলা হয়ে থাকে। সেই অকালবোধনে সন্ধিপূজার শেষে শ্রীরামচন্দ্র দেবীর পায়ে ১০৮টি পদ্ম উৎসর্গ করেত চেয়েছিলেন। এই পদ্ম আনতে হনুমানকে পাঠােনা হয়। পবনপুত্র হনুমান দেবীদহ থেকে ১০৭টি পদ্ম নিয়ে আসেন। দেবীদহে আর পদ্ম ছিল না। সন্ধিক্ষণ চলে যাওয়ার উপক্রম হলে শ্রীরামচন্দ্র তার একিট চক্ষু মায়ের পায়ে অর্পণ করতে চাইলে সেই মুহূর্তে দেবী দেবী দুর্গা রামচন্দ্রকে দেখা দেন। মায়ের বরে শ্রীরামচন্দ্র এই অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণেই রাবণকে বধ করেন।

সন্ধিপূজার উপকরণ :

সন্ধিপূজায় ১০৮টি পদ্ম মায়ের পায়ে নিবেদন করা হয়। মায়ের সামনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় ১০৮টি মাটির প্রদীপ। সন্ধিপূজায় অন্যান্য উপকরণ হিসেবে স্বর্ণাঙ্গুরীয়ক , লোহা ও নথ (একটি করে), চেলির শাড়ি, মধুপর্কের কাঁসার বাটি, থালা, ঘড়া, দধি, চিনি, মধু, ঘৃত, বালিশ, মাদুর, চাঁদমালা এবং ভোগ ও আরতির উপকরণ। নৈবেদ্যর মধ্যে প্রধান নৈবেদ্য হিসেবে লাল ফল এবং জবা ফুল।
আজ মহাবমী। মহালয়ার দিন ‘কন্যারূপে’ পৃথিবীতে মা তার সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে ধরায় আসেন। দশভুজা দেবী দুর্গা হিসেব পুজিত হন। কাল মঙ্গলবার বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁকে বিদায় জানােনা হয়। মায়র এই ‘আগমন ও প্রস্থানের’ মধ্যে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত পাঁচ দিন চলে দুর্গোৎসব। যা সার্বজনীন পুজা হিসেবে রুপ নিয়েছে। এই পুজার মধ্য দিয়ে নারী জাতিকে মাতৃরুপে বন্ধনা করা হয়। সমাজের প্রত্যেক পেশার মানুষের সম্মিলন ঘটে।
লেখক:
প্রশান্ত কুমার কর্মকার
আইনজীবী
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।