October 10, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

ঢাকায় দুর্গাপূজার আকর্ষণীয় ৫ মণ্ডপ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে ৩২ হাজার ৪৬০ টি এবং রাজধানীতে ২৪৩ টি মণ্ডপে উদযাপিত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। দুর্গাপূজায় আলোকসজ্জায় সজ্জিত হবে নগরী।

শুক্রবার ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। মণ্ডপে মণ্ডপে শুক্রবার সকালে ষষ্ঠীপূজা অনুষ্ঠিত হয়।

হিন্দু শাস্ত্রমতে, শ্বশুরবাড়ি কৈলাস থেকে কন্যারূপে দেবী বাপের বাড়ি বেড়াতে মর্ত্যলোকে আজ আসছেন। ষষ্ঠীতে ঘোটক বা ঘোড়ায় চড়ে দেবী আসবেন। ২৪ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গা বিদায়ও নেবেন ঘোড়ায় চড়ে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জিতেন্দ্র লাল ভৌমিক প্রথমকথাকে বলেন, এবছর ঢাকাসহ সারাদেশে পূজা মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। সারাদেশে ৩২ হাজার ৪৬০ টি এবং রাজধানীতে ২৪৩ টি মণ্ডপে উদযাপিত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। দুর্গাপূজায় আলোকসজ্জায় সজ্জিত হবে নগরী।

রাজধানীতে দুর্গাপূজার আকর্ষণীয় যে ৫ মণ্ডপে ঘুরে আসতে পারেন।

বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন মন্দির ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির। পলাশীর মোড়ের পাশে ঢাকেশ্বরী রোডেই মন্দিরটির অবস্থান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়রে পাশে শ্রী শ্রী রমনা কালী ও মা আনন্দময়ী আশ্রম রয়েছে। দুর্গাপূজায় সবচেয়ে বেশি ভক্তের সমাগম হয় এই দুই মন্দিরে। মহালয়া থেকে পূজার প্রতিটি দিন শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে ভক্তি আর নিষ্ঠার সঙ্গে উদযাপন করা হয়। মণ্ডপের ভেতরে ও বাইরে চমৎকারভাবে সাজানো হয়। দেশ-বিদেশ থেকেও ভক্ত দর্শনার্থীরা আসেন মন্দিরে মায়ের পূজা দেখতে। বিজয়া দশমীতে বরণ, সিঁদুর খেলা ও সন্ধ্যা আরতি দেখার জন্যও এখানে প্রচুর মানুষের ভিড় হয়। এই মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়না।
রমনা কালী মন্দিরের সভাপতি উৎপল সাহা বলেন, এই মন্দিরে দিন দিন ভক্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রতিবারের মতো এবার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন পুজো শেষে ভক্তদের মধ্য প্রসাদ বিতরনের ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে নিত্যানুষ্ঠানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

রমনা কালী মন্দির ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ের পাশেই অবস্থিত। স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষে ভারত সরকারের অনুদানে মন্দিরটির ভেঙে ফেলা অংশ পুনর্গঠন করা হয়েছে। রমনা কালী মন্দির তার ঐতিহ্য ধারণ করে আছে। মন্দির চত্ত্বরে দুর্গা পূজার আয়োজন করা হয়। মন্দির এলাকায় ছোটখাটো মেলাও বসে।

ঢাকায় শুধু রামকৃষ্ণ মিশনেই মহাঅষ্টমী তিথিতে কুমারী বালিকাকে মাতৃরূপে দেবী জ্ঞানে পূজা করা হয়। স্টার ফাইল ফটো
কুমারী পূজা দেখতে চাইলে আপনাকে যেতে হবে রামকৃষ্ণ মিশনে। ঢাকায় শুধু রামকৃষ্ণ মিশনেই মহাঅষ্টমী তিথিতে কুমারী বালিকাকে মাতৃরূপে দেবী জ্ঞানে পূজা করা হয়। কুমারী পূজা দেখার জন্য বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে ভক্তরা ভিড় করেন। টিকাটুলির রামকৃষ্ণ মিশন রোডে এর অবস্থান। মহাষ্টমী তিথিতে কুমারী পুজো হয়ে থাকে।

প্রতিবছর বনানী খেলার মাঠে অস্থায়ী পূজা মণ্ডপ তৈরি করা হয়। ব্যয়বহুল জাঁকজমকপূর্ণ এই পূজা মণ্ডপ দেখতে সবাই অগ্রহী হয়। অপরূপ সুন্দর প্রতিমা ও বর্ণিল আলোকসজ্জা নজর কাড়ার মতই। দিনের চেয়ে রাতের বনানী পূজা মণ্ডপ অনেক বেশি প্রাণবন্ত।

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি) এর পাশেই খামারবাড়ি পূজা মণ্ডপ। আলোকসজ্জা, প্রতিমার সৌন্দর্য, প্রবেশদ্বার, আভ্যন্তরীণ কাঠামোশৈলী ও প্যান্ডেলের কারণে আলোচিত খামারবাড়ি পূজা মণ্ডপ। পরিবার কিংবা বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন এই মণ্ডপটি। তবে রাতের বেলায় এর সৌন্দর্য বহুগুণে বেড়ে যায়।

পুরান ঢাকার পূজা মণ্ডপ উৎসবের অন্যরূপের সন্ধান মেলে পুরান ঢাকায়। লক্ষীবাজার, শাঁখারিবাজার, তাঁতিবাজার এলাকার সরু গলির ভেতরেই আয়োজিত হয় দুর্গা পূজা। নিচে যাতায়াতের ব্যবস্থা রেখে উপরে মঞ্চ তৈরি করেই মণ্ডপে অধিষ্ঠিত হন দেবী দুর্গা। পুজোর সময় জমজমাট পুরো এলাকা, উৎসবের আমেজে মেতে থাকে। পুরান ঢাকায় অসংখ্য মণ্ডপে পূজা হয়। সরু গলি হওয়ায় হেঁটেই এসব মণ্ডপ ঘোরা হয়, তাই হাতে সময় নিয়ে সেখানে যাওয়া উচিত।