ডেস্ক: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে লড়াই করছেন জননেতা শহিদুল ইসলাম খান হেষ্টিংস । আগামী ৬ জুন ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই উপজেলায় পোস্টারিং, ফেস্টুন ও তোরণ নির্মাণ করে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নবীণ-প্রবীণ নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। দেখা দিয়েছে রাজনীতিতে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য।
জানা যায়, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে পরিবারের ওপর একাধিকবার হামলা হয়েছে। জেল-জুলুমকে নিত্যসঙ্গী করে রাজপথে নিজেকে সোচ্চার রেখেছেন। শহিদুল ইসলাম খান হেষ্টিংস একজন ত্যাগী নেতা। ১৯৮২সনে ঘাটাইল ঈদগা মাঠে এস,আকবর খানের হাত ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন। ১৯৮৪ সনে শহর ছাত্রলীগের মধ্য দিয়ে তার রাজনৌতিতে যাত্রা শুরু।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসাম্প্রদায়িক ভাবধারার আদর্শের মানুষ হিসেবে অটুক ছিলেন তিনি। খুব অল্প সময়ের মধ্যে সাহসী ছাত্র নেতৃত্ব এবং জনপ্রিয়তার জন্য জননেতা শামসুর রহমান খান তৎকালীন সাংসদের সান্নিধ্য পায় এই তরুণ ছাত্রনেতা। স্বৈরচার এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রতিটি আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকাই শুধু পালন করেননি ১৯৮৭ সালের ১০ই নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একত্র হয়ে স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের লক্ষ্যে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির ঘোষনা করে। এরপূর্বে এরশাদ ১৯৮২ সালে একটি সেনা উত্থানের মধ্যদিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং ১৯৮৭ সালের নির্বাচনে জয়্লাভ করেন, কিন্তু বিরোধী দলগুলো তার এই নির্বাচনকে জালিয়াতি বলে অভিযুক্ত করে। তাদের একমাত্র দাবী ছিল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিয়ন্ত্রনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা। অবরোধ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ঢাকায় একটি মিছিলে নূর হোসেন অংশ নেন এবং প্রতিবাদ হিসেবে বুকে পিঠে সাদা রঙে লিখিয়ে নেনঃ ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ আন্দোলনে মিছিলে সক্রিয় অংশগ্রহনকারীর মধ্যে অন্যতম শহিদুল ইসলাম খান হেষ্টিংস।
আবার জামায়াত বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে প্রথম হরতালের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ঘাটাইল বাসস্ট্যান্ড শ্যামলের হোটেল, প্রিন্স স্টুডিও এর সামনে বিএনপি সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায় গুরুতর আহত হয় এবং দেহ থেকে বাম পায়ের রান বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলো । সে দিন ছাত্রনেতা লুৎফর রহমান ও শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখেছে। বোমার দুর্বিসহ যন্ত্রণার আঘাত বুকে নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘ ১১ মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন।
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তৎকালীন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মাননীয় সভাপতি বিরোধী দলীয় নেতা বর্তমান সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তার চিকিৎসার সকল ব্যয়ভার বহন করে নেন এবং উক্ত ঘটনার পর টঙ্গির প্রয়াত নেতা ‘আহসান উল্লাহ মাস্টার এর জনসভায় আমাকে নিয়ে ভাষণ দেন। যা জাতীয় পত্রিকা ‘‘ দৈনিক ইত্তেফাক’ এ প্রকাশিত হয়েছিল।
আওয়ামীলীগ সংসদ থেকে পদত্যাগ করে এবং ১৯৮৮ সনের ৩রা মার্চ নতুন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে আর আওয়ামীলীগ নির্বাচন প্রতিরোধের ঘোষণা দেয়, সেই সময় সারা বাংলাদেশ সহ অধিকাংশ কেন্দ্রের নির্বাচন প্রতিরোধ করে সেই দিনের নেতৃবৃন্দ। আর সেই নির্বাচন প্রতিরোধে অতন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করায়, তৎকালিক জাতিয় পার্টির চোখের কাটা হয়ে যায় শহিদুল ইসলাম খান হেষ্টিংস। আবার সেই সময়ের সংসদ সদস্য সাইদুর রহমান খান (মোহন) ও উপজেলা চেয়ারম্যান মুস্তফা কামাল চৌধুরীর (বুলবুল) রাজনৌতিক রোষানলে পরে ছাত্রনেতা শহিদুল ইসলাম খান হেষ্টিংস।
১৯৮৯ সনে টাকা আত্যসাদের প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ করে রাজনৌতিক মামলার আসামী হয়। সেই মামলায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে প্রায় ৯ মাস জেল খাটতে হয়। সেই মামলায় জননেতা শামসুর রহমান খান ও ব্যারিস্টার শওকত আলী খান (মির্জাপুর) হাইকোর্ট থেকে শহিদুল ইসলাম খান হেষ্টিংসকে জামিনে মুক্ত করে।
তারপর জিবিজি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাবনে (আজাদ/হেষ্টিংস পরিষদ) অংশ নেয়, ষড়যন্ত্রের কাছে পরাজিত হলেও ৯০ গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রলীগের আহবায়ক হিসেবে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়।
স্বৈরচার পতনের পর আসে ১৯৯১ সনের জাতিয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ পরাজিত হওয়ার পর সারা দেশে নেমে আসে এক অন্ধকার জগৎ। সারা দেশে আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের মামলা হামলার কোন কুল কিনারা ছিলো না। আবির্ভাব হলো নবস্বৈরচার খালেদা জিয়ার। দ্রব্য মূল্য উর্ধগতির প্রতিবাদে হরতালের মিছিল শেষ করে তৎকালীন প্রিন্স ষ্টুডিও (বর্তমান পারুল প্লাজা)তে বিশ্রাম নেওয়ার সময় তাকে বিএনপির সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে ককটেল মেরে নির্মম ভাবে আহত করে। ২১ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লরে মহান সৃষ্টিকর্তার দয়ায় সুস্থ হন।
তৎকালীন বিরোধী দলিয় নেত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করে এবং সে যাত্রায় বেচে যায়। তার পর আবার তাকে আজাদ খানের ফটক ভাঙ্গার মামলার আসামি করে জেলে পেরন করে খালেদা জিয়া সরকার। কয়েক মাস জেল খাটার পর মুক্ত হয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন ও ১৯৯৬ সনের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন প্রতিহত করে।
সেসময়ের এই তুখড় তরুণ আওয়ামীলীগ নেতা হেষ্টিংস। ৯৬ সনে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় গেলেও দূর্ভাগ্য বশত ঘাটাইলে আওয়ামীলীগ হেরে যায়। সুবক্তা হিসেবে ক্ষেত এই নেতা জননেতা শামসুর রহমানের সাথে ঘাটাইল থানার প্রতিটি গ্রামে প্রতিটি ইউনিয়নে সাংগঠনিক সভা সমাবেশ করে উপজেলা আওয়ামীলীগকে সুসংগতি করে উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়।
২০০১ সনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে আবার সেই বিএনপি, আবার শুরু আওয়ামীলীগের উপর নির্যাতন। তারই ধারা বাহিকতায় অপারেশন ক্লিন হার্ডের নামে আর্মি দিয়ে গ্রেফতার করে ক্যন্ট্রনমেন্ট নিয়ে করা হয় অমানবিক নির্যাতন। শুধু মাত্র আওয়ামীলীগ করার অপরাধে।
ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সন্নিকটস্থ শহিদুল ইসলাম হেষ্টিংস নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়ার কারনে তার জনপ্রিয়তায় ভিতু হয়ে তাকে আবার জেলে পাঠায় বিএনপি সরকার।
বিএনপির পতনের পর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসে। পরবর্তিতে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায়। তখন অনেক ষড়যন্ত্র করেও শহিদুল ইসলাম খান হেষ্টিংস কে চেয়ারম্যান হওয়া থেকে ফেরাতে পারেনি। জামুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইউনিয়নের উন্নয়ন করে জামুরিয়া মডেল ইউনিয়নের নাম লিখায় শহিদুল ইসলাম খান হেষ্টিংস।
আওয়ামীলীগ আবার ২য় বার ক্ষমতায় আসার পর নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করেও রাজনৌতিক মতাদর্শের কারনে তাকে ষড়যন্ত্র করে হারিয়ে দিলেও এবারের নির্বাচনে প্রায় ৫ হাজার ভোট প্রতি পক্ষের চেয়ে বেশি ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ঘাটাইল উপজেলায় এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তিনি।
শহিদুল ইসলাম খান হেষ্টিংস পরিচ্ছন্ন, বিশ্বাসী, পরিক্ষিত, নিবেদিত ও পরিশ্রমী নেতা হিসেবে সুপরিচিতি। তাকে ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দিলে ঘাটাইলের আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থান আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে বলে মনে করছেন ঘাটাইল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। সূত্র : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

এ বিভাগের আরো..
সাবেক বিচারপতি আবদুল আউয়ালের ইন্তেকাল
দুই সিটির নবনির্বাচিত মেয়ররা শপথ নিলেন
কয়রায় জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত