October 12, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

রাজাকারের তালিকা করার সিদ্ধান্ত

ডেস্ক :রাজাকারের তালিকা চূড়ান্ত করতে জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। গত মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির অষ্টম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজাকারদের তালিকা চূড়ান্ত করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, এই তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং প্রত্যেক জেলা প্রশাসককে চিঠি পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে রাজাকারদের তালিকা সংগ্রহ করা হবে।

বৈঠকে স্বল্প সুদে মুক্তিযোদ্ধাদের ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের বর্তমান অবস্থা, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ড গঠন, গজনবী রোড, কলেজ গেট মোহাম্মদপুরে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১-এর বরাদ্দ এবং গজনবী রোডের বাড়ি নম্বর ১/৬-এর সর্বশেষ অবস্থা, উপকমিটিগুলোর কার্যক্রমের সার্বিক অবস্থা এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধের নাম ব্যবহারকারী সংগঠনগুলোর নাম, ঠিকানা ও রেজিস্ট্রেশন ইত্যাদি সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে

সংগঠনগুলোকে নিবন্ধিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেসব জেলা বা উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে, সেগুলো খুলে দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যও সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি চূড়ান্তভাবে যাচাই-বাছাই হওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশেরও সিদ্ধান্ত নেয় স্থায়ী কমিটি।

কমিটির সভাপতি শাজাহান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, রাজি উদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম, কাজী ফিরোজ রশীদ ও ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল অংশ নেন।

জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির তৃতীয় বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধের সময় বেতন-ভাতা নেওয়া রাজাকারদের তালিকা জেলা প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংগ্রহের সুপারিশ করা হয়। ওই সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ২১ মে সব জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হয়। এতে রাজাকারদের তালিকা যথাযথভাবে সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও চিঠি দেওয়া হয়।

এতে সাড়া না মেলায় পরে ২৮ আগস্ট তাগিদ দিয়ে আবারও চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে আগের স্মারক উল্লেখ করে বলা হয়, রাজাকারদের তালিকা যথাযথভাবে সংরক্ষণের পাশাপাশি এক কপি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হলো। তবে এরও কোনও জবাব পাওয়া যায়নি।