ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভা এলাকায় হালদা নদীর উপর নির্মিত শতবর্ষী পুরাতন হালদা সেতুটি বন্যায় পাহাড়ি ঢলে দেবে গেছে। বর্তমানে এ সেতু দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বৃহত্তর ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর উপজেলার ৫ লক্ষাধিক জনগোষ্ঠি বেকায়দায় পড়েছে। তাছাড়া, চট্টগ্রামের উত্তরাঞ্চলীয় বাণিজ্যিক কেন্দ্র নাজিরহাটে ব্যবসা-বাণিজ্যে ধ্বস নেমেছে।
জানা গেছে, বৃটিশ সরকার ১৯১৯ সালে তৎকালীন ডিস্ট্রিকবোর্ড( বর্তমান জেলা পরিষদ) ফটিকছড়ি-হাটহাজারী উপজেলার সীমান্ত এলাকা নাজিরহাটে এ সেতু স্থাপিত করে। স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাক হানাদার বাহিনী ডিনামাইড দিয়ে সেতুটির একাংশ ধ্বংস করে দেয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭২ সালে সেতুটি মেরামত করে পূন: যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধিনে (এলজিইডি) ৩’শ ৩০ ফুট দীর্ঘ এ সেতুটি পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, বৃহত্তর ফটিকছড়ি এবং হাটহাজারী উপজেলার লাখো জনসাধারণ ছাড়াও ট্রেন যাত্রীদের যাতায়াতের একমাত্র পথ (সেতু)। বর্তমানে সেতুটি দেবে যাওয়ার কারণে কোন যানবাহন চলাচল করতে পারছেনা। অন্যদিকে, ধ্বসে যাওয়া এ সেতুটি এ ভাবে পড়ে থাকলে যে কোন মুহুর্তে সেতুটি বিধ্বস্থ হয়ে প্রাণ হানীর ঘটনা ঘটতে পারে। এমনকি, র্দীঘ ৩’শ ৩০ ফুট দীর্ঘ (১০০ মিটার) সেতুর অভাবে স্থানীয় সর্বসাধারণ ১০০ মিটারের পরিবর্তে প্রায় ৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। তাই, জনস্বার্থে এখানে নতুন সেতু নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য, ১৫ জুন গভীর রাতে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে নাজিরহাট পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সেতুটি জরুরী ভিত্তিতে বন্ধ করে দেয়। পরের দিন এলাকাবাসী সেতুর দু’পাশে বেঁধে দেয়া লোহার গ্রীল ভেঙ্গে পুনরায় চলাচল শুরু করে। এ অবস্থায় বর্তমানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
ক্যাপশন: ফটিকছড়ির নাজিরহাটে দেবে যাওয়া সেতুর উপর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ।

এ বিভাগের আরো..
চট্টগ্রামবাসীর বহুল প্রত্যাশিত ক্যান্সার হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন
কক্সবাজার রেললাইনের দুইপাশে হাজারো দর্শকের উচ্ছাস
শকুন ও রাজনীতির কাক থেকে দেশ বাঁচাতে হবে : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী