October 10, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

হাভানার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ১১০

ডেস্ক: হাভানার হোসে মার্তি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের ১১৩ আরোহীর মধ্যে ১১০ জন মারা গিয়েছে বলে জানিয়েছে কিউবা সরকার।

ক্যারিবিয়ান সাগরের এই দ্বীপ দেশে গত তিন দশকের মধ্যে এটাই সবচেয়ে প্রাণঘাতী বিমান দুর্ঘটনা। এ দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শনি ও রবিবার জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রেখে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে কিউবা।

বিবিসি জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীরা এখনও বিধ্বস্ত বোয়িং ৭৩৭ বিমানটির ধ্বংসস্তূপ থেকে আলামত সংগ্রহ এবং নিহতদের শনাক্ত করছেন। ওই ফ্লাইটের দুটি ব্ল্যাক বক্সের মধ্যে একটি মোটামুটি ভালো অবস্থায় উদ্ধার করা গেছে। অন্যটিও শিগগিরই খুঁজে পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কিউবার পরিবহন মন্ত্রী।

রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বিমান পরিবহন সংস্থা কিউবানার ওই উড়োজাহাজ রাজধানী হাভানা থেকে ১০৫ জন যাত্রী ও সাতজন ক্রু নিয়ে দ্বীপ দেশটির পূর্ব অংশের ওলগিনে যাওয়ার জন্য রওনা দেয়। স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা ১২টা ৮ মিনিটে রানওয়ে থেকে উড্ডয়নের পরপরই উড়োজাহাজটি বিমানবন্দর এবং সান্তিয়াগো দে লাস ভেগাস শহরের মাঝামাঝি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকর্মীরা গিয়ে আগুন নিভিয়ে উড়োজাহাজের ধ্বংসস্তূপ থেকে দগ্ধ জারজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। তাদের মধ্যে তিনজন নারী এখনও বেঁচে থাকলেও সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

কিউবা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, নিহত ১১০ জনের মধ্যে ৯৯ জন কিউবার নাগরিক। এছাড়া আর্জেন্টিনার দুইজন এবং মেক্সিকোর একজন পর্যটক, পশ্চিম সাহারা অঞ্চলের দুইজন এবং মেক্সিকোর ছয়জন ক্রু রয়েছেন নিহতদের মধ্যে।

প্রায় ৪০ বছরের পুরনো বোয়িং ৭৩৭-৪০০ উড়োজাহাজটি মেক্সিকোর দামোজের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে চালাচ্ছিল কিউবানা। কেন এ দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, বিমানন্দরের কাছে জঙলা এলাকায় বিধ্বস্ত হওয়ার আগে উড়োজাহাজটি বিস্ফোরিত হয়ে আগুনের গোলায় পরিণত হয়। হোসে লুই নামের এক সুপারমার্কেট কর্মী জানান, তিনি বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজটিকে উড়তে দেখেন। তারপর হঠাৎ করেই বিমানটি ঘুরে যায় এবং নিচের দিকে নামতে শুরু করে।

মেক্সিকোর পরিবহন বিভাগের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, উড্ডয়নের সময় ওই উড়োজাহাজে কোনো ধরনের সমস্যা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে, যে কারণে সেটি বিধ্বস্ত হয়।

বোয়িং লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আইন এবং ইউএস ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের নিয়ম মেনে তারা হাভানায় টেকনিক্যাল টিম পাঠাতে প্রস্তুত। উল্লেখ্য যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে কিউবার ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে।

বিবিসি জানিয়েছ, বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের ইতিহাসে ২০১৭ ছিল সবচেয়ে নিরাপদ বছর। ওই বছর কোনো যাত্রীবাহী বিমান দুর্ঘটনায় পড়েনি। তবে এ বছর এরই মধ্যে তিনটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা দেখলো বিশ্ববাসী। এর মধ্যে এপ্রিলে আলজেরিয়ায় একটি মিলিটারি প্লেন বিধ্বস্ত হয়ে আড়াইশর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ফেব্রুয়ারিতে মস্কোতে সারাতভ এয়ারলাইন্সের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মারা যায় ৭১ জন। আর মার্চে নেপালে ইউ-বাংলার বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৫১ জনের মৃত্যু হয়।