November 5, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

আন্দোলনের মধ্যে ভারতে ১২ বছরের শিশু ধর্ষণে মৃত্যুদণ্ডের বিধান জারি

ডেস্ক:  চলতি বছরের মধ্য জানুয়ারিতে কাশ্মিরের কাঠুয়ার উপত্যকায় ঘোড়া চড়ানোর সময় অপহরণ করা হয় আসিফাকে। ক্রমাগত ৭ দিন ধর্ষণের পর নিমর্মভাবে খুন হয় সে। ১০ এপ্রিল ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগপত্র জনসম্মুখে আনা হলে বিচার দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে সারা ভারত। ভারত জুড়ে আন্দোলনের মধ্যেই ১২ বছরের নিচে শিশু ধর্ষণে মৃত্যুদণ্ডের বিধান জারি করেছে দেশটির আদালত।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার পর রোববার রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ শিশুধর্ষণ অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের অধ্যাদেশে অনুমোদন দেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে শনিবারই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংক্রান্ত অধ্যাদেশে অনুমোদন দিয়েছিল। এরপরই সংশোধন আনা হয় পকসো আইনে। ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হবে।

শুক্রবারই সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, পকসো আইনে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এরপর আনা হয় অধ্যাদেশ। সেখানে বলা হয়েছে, ১২ বছরের নীচে শিশুকে ধর্ষণের অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হবে। ১৬ বছরের নীচে মেয়েদের ধর্ষণেও রয়েছে কঠোর শাস্তির বিধান।

০ থেকে ১২ বছরের শিশুদের যৌন নির্যাতন থেকে রুখতে ২০১২ সালে পকসো আইন প্রণয়ন করা হয়। বর্তমান আইন অনুযায়ী, ১২ বছরের নীচের শিশুকে ধর্ষণে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া আছে। এবার তাতেই বদল আনার আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টকে চিঠি দিল কেন্দ্র।

কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দাবি, এই আইনকে অনেক বেশি কঠিন ও কঠোর করা প্রয়োজন।

এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ এনে জম্মু ও কাশ্মিরের কাঠুয়া পুলিশ বলছে, ময়না তদন্তকারী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা আসিফা খুনের আগে চেতনানাশক খাওয়ানো, ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শনিবার পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অংশে এই মামলাকে নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। অপরাধ তদন্ত বিভাগের ওই বিবৃতির বরাতে এসব খবর জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট।

আসিফাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটজনকে অভিযুক্ত করেছে ভারতের আদালত। তবে ভারতীয় মিডিয়ার একাংশ এ ঘটনায় দায়ের করা অভিযোগকে মিথ্যা মামলা আখ্যা দিয়েছে। তারা প্রচার করছে, হত্যার আগে আসিফাকে ধর্ষণ করা হয়নি।