October 10, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

কাকরাইলে মা-ছেলেকে গলা কেটে খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর কাকরাইলে মা ও ছেলেকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার সন্ধ্যায় কাকরাইলের আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম রোডে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের বিপরীত পাশের গলির ভেতর একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, করিম টাওয়ারের মালিক আব্দুল করিমের স্ত্রী ও তার ছোট ছেলেকে হত্যা করে পালিয়ে যায় অজ্ঞাত দুর্বত্তরা। রমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন,বাড়িটির বেডরুমে মায়ের গলাকাটা মরদেহ এবং সিঁড়িতে সন্তানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছি।

৬ তলা একটি ভবনের ৫ তলায় থাকতেন তারা। ৭৯/১, মায়াকানন নামের এই বাসায় ঘটনার সময় আর কেউ ছিলো না। বাড়ির মালিক ও গৃহকর্তা আবদুল করিম তখন বাসার বাইরে ছিলেন।

বাসার দারোয়ান জানান, সিঁড়ি দিয়ে এক ব্যক্তি নিচে নামার সময় তাকে বলেন, গিয়ে দেখেন ৫ তলায় কোনো ঝামেলা হচ্ছে। তিনি ৫ তলায় গিয়ে দেখেন ফ্ল্যাটের বাইরে ও ভেতরে দুই জনের লাশ পড়ে আছে। মা-ছেলে খুন হওয়ার খবর শুনে রমনা থানা পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও সেখানে গেছে।

 গৃহকর্মী রাশেদা বেগম (৫০) জানান, বিকেলে ওই বাসায় কাজ করতে আসেন তিনি। এসেই রান্না ঘরে গিয়ে থালা-বাসন ধোয়ার কাজে লেগে যান। এ সময় কেউ একজন এসে রান্নাঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে দেয়। তিনি বলেন, কিছুক্ষণ পর খালাম্মার (শামসুন্নাহার) ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ বলে চিৎকার শুনতে পাই। পরে বাড়ির দারোয়ান নোমান এসে দরজা খুলে দিলে তাদের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পাই।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল ৭৯/এ আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম রোড, কাকরাইল। নিহত নারীর নাম শামসুন্নাহার (৪৫) ও তার নিহত ছেলের নাম শাওন (ও লেভেল শিক্ষার্থী)। নিহতের স্বামী আবদুল করিম পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের ব্যবসায়ী। তিনি আঁদা-রসুন-পেঁয়াজ আমদানিকারক।

ঘটনাস্থল থেকে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় জানান, ছয়তলা বাসার পঞ্চমতলায় তিনটি রুম নিয়ে তারা থাকতেন। এর মধ্যে নারীর মরদেহ বেডরুমে উপুর হয়ে শোয়ানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। আর চতুর্থ তলার সিঁড়িতে উপুর হয়ে শোয়া অবস্থায় ছেলের মরদেহ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আবদুল করিম, গৃহকর্মী রাশেদা বেগম ও একজন দারোয়ানকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তিনি আরও জানান, নিহত শামসুন্নাহারের তিন ছেলে। বড় ছেলে মুন্না লন্ডনে থাকে, মেজ ছেলে অনিক কানাডায় থাকে ও ছোট ছেলে নিহত শাওন।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানা গেছে, গলিতে (৭৯/১) আবদুল করিমের পাশাপাশি দুটি বাসা রয়েছে। এর একটির পঞ্চম তলায় থাকত আবদুল করিমের পরিবার। তবে দুই বাসাতে প্রবেশের পথ একটিই।

পাশের বাসার নিচে একটি গার্মেন্ট কারখানা রয়েছে। কারখানার কর্মচারী স্বপন জানান, ওই বাসার দারোয়ানের চিৎকার শোনে আমরা বাইরে আসি। এরপর ওপরে যেয়ে দেখি তারা (মা-ছেলে) পড়ে আছে। দারোয়ান বলল তিনি ওপরে ওঠার সময় অপিরিচিত একজনকে সিঁড়ি দিয়ে নামতে দেখতে পান। তখন ওই অপরিচিত লোক দারোয়ানকে বলেন, ওপরে মারামারি চলছে, তাড়াতাড়ি যান। এ কথা বলে দ্রুত পালিয়ে যান ওই অপরিচিত লোকটি।

আবদুল করিমের বাসায় বাবা-মার সঙ্গে ভাড়া থাকে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। তার সঙ্গে কথা হয়। সে বলছিল, আমি বাইরে হাঁটতে গিয়েছিলাম। তখন মা আমাকে ফোনে বলল শিক্ষক আসছে বাসায় আসো, সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে যখন বাসায় যাই, তখন দারোয়ান আবদুল নোমান কান্নাকাটি করছিলেন। তিনি (দারোয়ান) বলছিলেন- নামাজে গিয়েছিলাম। এসে দেখি কয়েকজন ঢুকে মেরে চলে গেছে।