ডেস্ক : শ্রাবণ মাস শেষ হয়ে ভাদ্র মাস শুরু হয়েছে আরও কিছুদিন আগে। ঋতু অনুসারে এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। কয়েকদিন আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায় সমুদ্রে তুলনামূলক অনেক বেশি ইলিশ ধরা পরছে। তবে সাগরে ইলিশ থাকলেও ইলিশের দেখা নেই মিঠা পানির নদী। ভরা মৌসুমেও ইলিশ নেই পদ্মা-মেঘনার মোহনায়। যাও দুই একটা ধরা পরছে তার বেশির ভাগই জাটকা।
জেলেরা বলছেন, ডুবো চর ও হাজার হাজার জেলেদের জাল পাড় হয়ে ইলিশ নদীতে আসতে পারছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বুড়িগঙ্গা নদীর ময়লা আবর্জনার কারণেও ইলিশ নদী মুখী হওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে। কারণ ইলিশ সব সময় পরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকতে পারে।
চাঁদপুরের জেলে হরিপদ দাস বলেন, এখন ইলিশের মৌসুম, কিন্তু সাগর থেকে উজানে ইলিশ আসার পথ নেই। সাগর থেকে আসার পথেই হাজার হাজার নৌকা আর জেলে ইলিশ শিকার করছে। তারপরে রয়েছে মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে ডুবো চর।
বাসসের খবরে বলা হয়েছে, তিনমাস আগেও জেলেরা নদীতে জাল পেতে পায়নি সেই কাঙ্খিত ইলিশ। আশায় ছিল আগস্ট মাস থেকে ইলিশ ধরা পড়বে। নদীতে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা চষে বেড়ালেও ইলিশের দেখা মিলছে না।
জেলেপাড়া ও আশপাশের বাজারগুলোতে ঘুরে দেখা যায় তারা মাছ না পেয়ে অলস সময় কাটাচ্ছে।
আজ বুধবার সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বহরিয়া বাজার, হরিনা বাজার এলাকার জেলেপাড়ার জেলেদের সঙ্গে ইলিশ আহরণ নিয়ে কথা হয়। অধিকাংশ জেলেরাই এ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন।
জেলে খালেক গাজী বাসসকে বলেন, রাতে ৮-১০ জন জেলে একসঙ্গে নৌকা নিয়ে ইলিশ শিকারে নামি। জ্বালানিসহ যে টাকা খরচ হয়, তাতে তাদের দৈনিক হাজিরার টাকাও হয় না। মঙ্গলবার রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ইলিশ শিকারে নেমে পেয়েছেন ছোট সাইজের ৯ হালি ইলিশ। বিক্রি করেছেন ১৬০০ টাকা।
ওই এলাকার খুচরা ইলিশ বিক্রেতা আমির হোসেন জানান, প্রতি বছর এ মৌসুমে এখানে বড় সাইজের ইলিশ বিক্রি হতো। এখন বড় সাইজের ইলিশের তো দেখাই মিলছে না। জেলেরা জীবন বাঁচাতে জাটকা আহরণ করছেন। আর জাটকা ইলিশই আমাদের বিক্রি করতে হয়। প্রতি কেজি ২৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করি।
ইলিশের আড়তদার শাহালম জানান, আগস্ট মাসে বড় সাইজের ইলিশ ধরা পড়বে, সেই আশায় ছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাঙ্খিত ইলিশের দেখা মিলছে না। বাকী সময়ে ইলিশ পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। প্রতি বছর এই সময় কয়েকটন দেশি ইলিশ বিক্রি হতো এবার হয় না।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সফিকুর রহমান জানান, দক্ষিণাঞ্চলে ইলিশ ধরা পড়ছে প্রচুর। কিন্তু পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশের সংখ্যা খুবই কম। এ কারণে চাঁদপুরের মৎস্য আড়তে বেশিরভাগ দক্ষিণাঞ্চলীয় ইলিশ আমদানি হচ্ছে। তবে এখন পানি বাড়ার কারণে ইলিশ ধরা পড়তে পারে বলে জানান।
চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান জানান, আগস্ট মাস থেকে ইলিশ মৌসুম শুরু হলেও সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে ইলিশ বেশি পাওয়া যায়। আমরা আশা করছি ঠিক সময়ে ইলিশ ধরা পড়বে। তবে দক্ষিণাঞ্চলে এখন থেকেই ইলিশ ধরা পড়ছে। পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশ দেরিতে আসার বিষয়টি ডুব চর ও বুড়িগঙ্গা নদীর ময়লা আবর্জনার কারণেও হতে পারে। ইলিশ মাছ তাদের অনুকূল পরিবেশেই থাকতে পছন্দ করে। আশা করি কয়েকদিনের মধ্যে পদ্মা-মেঘনায় প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে।

এ বিভাগের আরো..
সাবেক বিচারপতি আবদুল আউয়ালের ইন্তেকাল
দুই সিটির নবনির্বাচিত মেয়ররা শপথ নিলেন
কয়রায় জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত