ডেস্ক : স্বাধীনতার ৭০তম বার্ষিকীতে এক নতুন দেশ গড়ার ডাক দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে মোদি জানালেন সেই স্বপ্নের কথা; আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সন্ত্রাসমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, জাতি-ধর্মবিদ্বেষহীন এক নতুন ভারত গড়ার স্বপ্ন তার। একই সঙ্গে তিনি জানালেন, গুলি কিংবা গালি নয়, কাশ্মীরিদের ভালোবেসে বুকে টেনে নিলেই সমস্যার সমাধান আসবে। খবর এনডিটিভি ও পিটিআইর।
ভারতের ৭১তম স্বাধীনতা দিবসে সকালে রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এরপর তিনি লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ দেন।
স্বাধীনতাবার্তায় মোদি বলেন, বিশ্বমঞ্চে ভারতকে সবাই চেনে শান্তি, একতার প্রতীক হিসেবে। আমি চাই ২০২২ সালের মধ্যে এক নতুন ভারত। যেখানে দরিদ্রের পাকা ঘর থাকবে, কৃষকের আয় দ্বিগুণ হবে, তরুণ ও নারীরা কাজের সুযোগ পাবে এবং সেই ভারত থাকবে বর্ণবাদ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত। জাতি-ধর্ম এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ কোনোভাবেই দেশের উন্নয়নে সহায়ক নয়।
যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে দেশে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, সেই সমস্ত দল এবং গোষ্ঠীকে হুঁশিয়ার করে মোদি বলেন, দেশে সাম্প্রদায়িকতার কোনো জায়গা নেই। ধর্মের নামে হিংসাকে বরদাশত করা হবে না।
স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে গত চার বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম সময় নিলেন মোদি। তার ৫৪ মিনিটের ভাষণে এসেছে কালো টাকা প্রসঙ্গ, নোট বাতিল, সাম্প্রতিক উত্তর প্রদেশের হাসপাতালে ৭০ শিশুর মৃত্যু, বিভিন্ন রাজ্যে বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ, উন্নয়ন কার্যক্রমসহ মুসলমানদের তিন তালাক ও কাশ্মীর ইস্যু।
কাশ্মীর প্রসঙ্গে মোদি বলেন, এক সময়ের ভূস্বর্গ কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য হিংসার বাতাবরণে ঘিরে রেখেছে। তিনি বলেন, গালি নয়, গুলি নয়, একে অপরকে জড়িয়ে ধরলে, ভালোবাসলেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, আমি কাশ্মীরি যুবকদের বলতে চাই এবং আগেও বারবার বলেছি, মূলধারায় এসো, গণতন্ত্রে তোমাদের কথা বলার জায়গা রয়েছে। মোদি দাবি করেন, তার সরকার কাশ্মীরের ‘হারানো গৌরব’ ফিরিয়ে আনতে এবং ‘পৃথিবীর স্বর্গ’ মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে বদ্ধপরিকর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিন তালাকের বিরোধিতায় যেসব বোনেরা লড়ছেন তাদের প্রতি রয়েছে আমার সম্মান। আমি ওইসব নারীকে বলতে চাই, এ নিয়ে সাফল্য আসবেই। কারণ, যারা তিন তালাক থেকে পাওয়া বেদনাময় জীবন কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন, সেই লড়াইয়ে তাদের সঙ্গে রয়েছে গোটা দেশের সমর্থন।
ভাষণে মোদি গোরখপুরের হাসপাতালে এক সপ্তাহে ৭০ শিশুমৃত্যুর ঘটনায় শোক এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। পাশাপাশি মোদির মুখে শোনা গেল সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের কথা। মোদি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারত একা নয়, গোটা বিশ্ব এসে দাঁড়িয়েছে আমাদের পাশে। সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে প্রমাণিত হয়েছে ভারত কতটা শক্তিশালী। অর্থনৈতিক সংস্কারেও যে তার সরকার উদ্যোগী, সেটাও জানাতে ভোলেননি মোদি। তিনি বলেন, দেশে এখন সততার উৎসব চলছে, মুখ লুকোচ্ছে দুর্নীতিগ্রস্তরা। নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত সমর্থন করেছেন দেশবাসী। মোদি বলেন, ঢিলেঢালা মানসিকতার দিন শেষ। ২০২২ সালের মধ্যে নতুন ভারত তৈরির জন্য দেশবাসীকে শপথ নিতে হবে।
সূত্র: সমকাল

এ বিভাগের আরো..
রাফায় হামলা হলে ইসরায়েলের ‘বিপজ্জনক পরিণতি’ হবে
ইসরায়েল আল-শিফা থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছে: হামাস
শ্রমিক ও গণপ্রবাসীদের সম্মাননায় আল-হারামাইন এর ইফতার মাহফিল।