November 6, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা নারী বিচারকদের পথপ্রদর্শক

প্রথমকথা প্রতিবেদক: বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা দেশের নারী বিচারকদের পথপ্রদর্শক। পৃথিবীর যেকোনো দেশের চেয়ে আমাদের দেশে নারী বিচারকরা অগ্রগামী।
গতকাল শনিবার সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এ কথা বলেন। গতকাল বাংলাদেশ মহিলা জাজ অ্যাসোসিয়শন সদ্য অবসরে যাওয়া আপিল বিভাগের বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানাকে আজীবন সম্মাননা দিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
প্রধান বিচারপতি ওই অনুষ্ঠানে বলেন, আমি চেষ্টা করছি, মহিলা বিচারকদের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য। তিনি বলেন, বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে মামলার অনুপাতে বিচারক নিয়োগ দেওয়া হলেও আমাদের দেশে তা হয় না।

http://paimages.prothom-alo.com/contents/cache/images/640x359x1/uploads/media/2017/07/06/ed92101df2712e5c222b6d14307b2834-595df118333e0.jpgঅনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি বিচারক নিয়োগ প্রসঙ্গে বলেন, মামলার পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিচারকের কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা নেই। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মামলার সংখ্যা অনুপাতে বিচারক নিয়োগের বিধান আছে, আইন আছে। পার্শ্ববর্তী দেশে ভারতের তুলনায় আমাদের বিচারক অর্ধেক। প্রধান বিচারপতি বলেন, হাইকোর্ট ও আপীল বিভাগে কতজন বিচারক থাকবেন, তা যদি নিদিষ্ট করে দেওয়া যায়। তবে হয়তো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমে আসবে। প্রধান বিচারপতি বলেন, আমাদের একটি রেওয়াজ চলে এসেছে। রাজনৈতিক সরকার চলে আসলেই, বিচারক নিয়োগে যেহেতু আমাদের সংখ্যা নির্দিষ্ট নেই, তাই তারা ইচ্ছামতো বিচারক নিয়োগ দেয়। কিন্তু এটিও ঠিক না। বিচার বিভাগে যত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না ততই বিচার বিভাগের জন্য মঙ্গল।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিচারকের সংখ্যা নির্ধারণ করা আছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘সেখানে নয়জন বিচারক। এখন ইচ্ছা করেও সরকার নয়জনের বেশি দিতে পারছে না। এটা কনভেনশনে চলে এসেছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টে সংখ্যা নির্ধারিত আছে ৩১ জন বিচারক। এর বেশি সরকার ইচ্ছা করলেও পারে না। আমাদের এখানে একবার ১১ জন। তা কমতে কমতে আজকে ছয়জন আছি। সামনের দিকে হয়তো চারজনে চলে যাবে। তিনি আপিল বিভাগে অন্তত তিনজন বিচারক নিয়োগ করার জন্য আবেদন জানান।
প্রধান বিচারপতি বিচারক স্বল্পতা, অবকাঠামো স্বল্পতাসহ বিচার বিভাগের নানা দৈন্য ও দুর্দশার দিকগুলো তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, সপ্রিম কোর্টের মূল ভবনে বৃষ্টির দিনে পানি চুয়ে পড়ে। আমি যে চেয়ারে বসি, সেখানেও পানি পড়ে। সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রসারনের একটি প্রকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
প্রধান বিচারপতি বলেন, আমাদের যাঁরা বিচারক আছেন, তাঁরা ওই ভবনে বারান্দায় চেম্বার করেন। ৪০-৪৫ জনের বেশি বিচারকের চেম্বার নেই। এখন তাঁদের বারান্দায় বসতে হয়। আমাদের মহিলা বিচারক ও কর্মচারী আছেন। তাঁদের শিশুসন্তান রাখার জন্য কোনো সেন্টার নেই। নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের জন্য টয়লেটের ব্যবস্থাও দিতে পারছি না। এ বিবেচনায় একটি প্রশাসনিক ভবনের প্রস্তাব করি। আমরা ২০০৯ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্টে আরেকটি বর্ধিত ভবন করার জন্য চেষ্টা করে আসছি। কোনো অজ্ঞাত কারণে এখন পর্যন্ত সেটি একনেকে ঘোরাঘুরি করছে। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট ভবন সর্বোচ্চ হলে পাঁচ-ছয় বছরে ভেঙে যাবে। এটি যদি ভেঙে পড়ে, আমাদের কী অবস্থা হবে, বলা মুশকিল। আমাদের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের রেকর্ড রুম ওই ভবনে অবস্থিত। ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা এ দেশ এবং বিচার বিভাগের ইতিহাসের অংশ। তিনি এ দেশের বিচার বিভাগের অহংকার। তাঁকে অনুসরণ করে অনেক নারী এই পেশায় এসেছেন। আজ তাই দেশে ২৪ শতাংশ নারী বিচারক রয়েছেন।
এ সময় বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, বিচারিক জীবনে তিনি সবসময় ন্যায়বিচার করেছেন। কখনো ইচ্ছেকৃতভাবে কিংবা অবহেলায় ভুল বিচার করেননি।

নারী বিচারকদের উদ্দেশে বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ‘প্রিয় নারী বিচারকরা মনে রাখবেন, বিচারকের জীবন মানেই ন্যায়বিচারের দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া। আর এই দায়িত্ব পালন করা খুব কঠিন ও পরিশ্রমের।’
অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এবং নারী বিচারকরা উপস্থিত ছিলেন।